ছেলেদের ইসলামিক নাম অর্থসহ ২৫০০+ (সকল অক্ষর দিয়ে ছেলেদের নামের তালিকা)
এই পোষ্ট এ যে যে অক্ষর দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম পাবেন।
অ, আ, ই, ঈ, এ, উ. ও।
ক, খ, গ, ছ, ম, ন, র, স, শ, ত, ব, দ, ফ, হ।

ইসলামিক নাম ছেলেদের অর্থসহ
নাম মানুষের ব্যক্তিত্বের দর্পণঃ
নাম শুধু পরিচয়েরই বাহন করে নাঃ বরং মানুষের চিন্তা ভাবনা-চেতনা ও রুচি-অভিরুচিরও মাুষের আয়না স্বরূপ। সুন্দর নাম মন-মানসিকতার উপর ভিত্তি করে প্রভাব ফেলে এবং মন্দ নামেরও কিছু না কিছু মানুষের খারাপ দিকে প্রভাব ব্যক্তির উপর থাকে।
ছোট্ট একটি কাহিনী-- একটু কল্পনা করুন ! এক ব্যক্তির নাম ছিলো কালু। উচ্চশিক্ষা লাভ করে সে বড় ডাক্তার বা পেসিডেন্ট হয়ে গেলেন। এখন তাকে ডাকা হচ্ছে ডাক্তার কালু বা পেসিডেন্ট কালু বলে। তাহলে ব্যাপারটা কেমন দেখাবে? এধরনের নাম দ্বারা ব্যক্তিত্বের মানহানী হয়ে থাকে। #পাশাপাশি ব্যক্তির ধর্ম এবং জাতীয় পরিচয় এর অসুন্দর ও অস্পষ্ট হয়ে থাকে।
ছেলেদের ইসলামিক নাম
তাই ঘরের ফুলবাগানে যখন কোনো শিশু কলি হয়ে আসবে তখন সতর্কতার সাথে। ঔ শিশুর নাম নির্বাচন করা আমাদের একান্ত দায়ীত্ব ও কর্তব্য। যেন নামটা ইসলামী হয় , সুন্দর ও ভাবগম্ভীর এবং ভালো অর্থ হয়।
ভালো নাম রাখা পিতার দায়িত্ব। আমরা এভাবেও বলতে পারি যে, পিতার উপর সন্তানের সর্বপ্রথম হক হচ্ছে, তার জন্য সুন্দর নাম নির্বাচন করা। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) ও আয়েশা (রাঃ)থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন;
حَقُّ الْوَلَدِ عَلَى الْوَالِدِ أَنْ يُحَسِّنَ اسْمَهُ، وَ يُحَسِّنَ أَدَبَهُ، وَ# يُعَلِّمَهُ الْقُرْآنَ
অর্থ : সন্তানের-সুন্দর-নাম-রাখা ও তার-উত্তম-তারবিয়াতের-ব্যবস্থা-করা এবং কুরআনুল-কারীম-শিক্ষা-দেয়া-বাবার-দায়িত্ব। (মুসনাদে-বাযযার)
সুন্দর নামের গুরুত্ব
সুন্দর নাম রাখার আরেকটি গুনাগুন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, হাশর এর ময়দানে-সেখানে পূর্বাপর সকল / সব ধরনের মানুষ একত্রিত হবে এবং যে কোন ব্যক্তিকে তার নাম ও তার বাবার নামসহ ডাকা হবে।
#হযরত আবুদ দারদা (রাঃ) বলেন, বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে ডাকা হবে #তোমাদের ও তোমাদের বাবার নাম নিয়ে (#অর্থাৎ এভাবে ডাকা হবে-অমুকের ছেলে অমুক#)। তাই তোমরা সবাই নিজেদের জন্য সুন্দর ও ভাল নাম রাখ। (#আবু দাউদ#)
উপরের রেওয়ায়েতসমূহ দ্বারা এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, সন্তানের সুন্দর নাম রাখা পিতার অবশ্যকর্তব্য। এটা পিতার উপর সন্তানের সর্বপ্রথম হক। কখনো কোনো কারণে মন্দ ও অসুন্দর নাম রেখে ফেললে তা পরিবর্তন করে সুন্দর নাম রাখা উচিত। এটাই নবীজী (সাঃ) এর সুন্নাহ।
সুন্দর নামের মাপকাঠি
যে সকল নাম বিশ্বনবী (সাঃ) পছন্দ করতেন এবং যে সব রাখতে উৎসাহিত করতেন,সে সম্পর্কেও জানা থাকা দরকার। কেমন নাম রাখা উচিত। কোন্ ধরনের নাম আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন এ ব্যাপারে নিন্মোক্ত হাদীসে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ: تَسَمّوْا بِأَسْمَاءِ الْأَنْبِيَاءِ، وَأَحَبّ الْأَسْمَاءِ إِلَى اللهِ عَبْدُ اللهِ، وَعَبْدُ الرّحْمَنِ، وَأَصْدَقُهَا حَارِثٌ، وَهَمّامٌ، وَأَقْبَحُهَا حَرْبٌ وَمُرّةُ -
এ হাদীসে চারটি অংশ। প্রথম অংশ- تَسَمَّوْا بِأَسْمَاءِ الْأَنْبِيَاءِ
(তোমরা নবীগণের নামে নাম রাখ।)
নবীগণ হচ্ছেন সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহ তাআলার সর্বাধিক নৈকট্যপ্রাপ্ত। রিসালাতের মহান দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে তাঁদের উপর। মানুষকে অন্ধকার ছেড়ে সত্যের আলোকিত পথ তারা প্রদর্শন করেন। তাদের প্রতিটি আচরণ ও উচ্চারণ মানব জাতির জন্য অনুপম আদর্শ। এজন্য তাদের নামও হয়ে থাকে সুন্দর ও অনুকরণীয়। আম্বিয়ায়ে কেরামের সংখ্যা অনেক। কিন্তু তাদের সবার নাম ও অবস্থা আমাদের জানা নেই।