কোম্পানি আইন কাকে বলে? কোম্পানি আইনের ঐতিহাসিক পটভূমির উত্তর
শিখুন পড়ুনঃ- ঘরে বসে স্পোকেন ইংলিশ
কোম্পানি আইন কাকে বলে?
অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে কতিপয় ব্যাক্তি মূলধন সরবরাহ করে স্বেচ্ছায় আইনের ধারামতে কৃত্রিম সত্তাবিসিষ্ট যে শিল্প বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠন গঠন করে তাকে কোম্পানি আইন বলে।
কোম্পানি আইনের ঐতিহাসিক পটভূমির আলোচনাঃ
উত্তরঃ- প্রারম্ভিক কথাঃ কোম্পানি আইন অংশীদারী আইনের উন্নত সংস্কারণ। শিল্প ও ব্যবসা বাণিজ্যের খুব বেশি উন্নতি হবাার ফলে যখন অংশীদারী ব্যবসায়ের পক্ষে সঙ্গত কারণে পরিচালনা করা একবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে ঠিক তখনই কোম্পানি আইন দ্বারা সৃষ্ট যৌথমূলধনী ব্যবসা চালু হয়।
ঐতিহহাসিক পটভূমিঃ ১৯৫০ সালে সর্ব প্রথম ভারত উপমহাদেসে কোম্পানি আইনের প্রবর্তন হয়। এটি মূলত ইংল্যন্ডের ১৮৪৪ সালের কোম্পানি আইনের অনুকরণ রচিত হয়েছিল। তখন এ উপমহাদেশে এর পরিসর ততটা ব্যাপক ছিল না। শিল্প বাণিজ্য ও ব্যবসায়ের উন্নতির সাথে সাথে যৌথমূলধনী কোম্পানি আইনের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। কোম্পানি ব্যাপকতা বৃদ্ধি ও তার চহিদা মেটাতে বিভিন্ন সময়ে কোম্পনি আইনের পরিবর্তন ও সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়। এর ফলশ্রতিতে ১৮৬০, ১৮৬৬, ১৮৮৭, ১৮৯১, ১৮৯৫, ১৯০০ এবং ১৯১০ সালে সংশোধন আনা হয়। অতপর ১৯১৩ সালে ইংল্যান্ডের ১৯০৮ সালের কোম্পানি আইনের ভিত্তিতে ব্যাপকভাবে এর পরিবর্তন ও সংশোধন করা হয়। এরপর কোম্পানি আইনেটি ১৯৩৬ এবং ১৯৩৮ সালে পরপর দু'বার কিছুটা সংশোধন করা হয়। দেশ বিভাগের পর ১৯৪৭ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ১৯১৩ সালের কোম্পানি আইনটি গ্রহণ করা হয়। পাকিস্তান শাসন আমলে ১৯৬১ সালে কোম্পানি আইনটি ব্যবপকভাবে পরিবর্তন করার জন্য কোম্পানি আইন কমিশন নামে একটি আইন কমিশন গঠন করা হয়। উক্ত কমিশন কোম্পানি আইনের ব্যাপক পরিবর্তন ও সংশোধনের সুপারিশ তৎকালীন সরকারের কাছে পেশ করলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। তবে ১৯৬৯ সালে উক্ত আইন কিছুটা সংশোধন করা হয়।
বাংলাদেশ স্বাধীন হলে ১৯৭২ সালে বৃহদাযতন শিল্পসমূহ রাষ্ট্রয়ত্ত করা হয় এবং এ সময়ে ১৯১৩ সালে কোম্পানি আইনের কতিপয় ধারা সংশোধন করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে সর্বশেষ সংশোধিত ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনটি কার্যকর রেয়ছে। এত ৮০০৮টি ধারা এবং ১২টি তফসিল সন্নিবেশিত রয়েছে। ১৯৯৫ সালের ১লা জানুয়ারি তারিখ হতে কার্যকর হয়।
উপসংহারঃ পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশে বহাল ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনেক পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বর্তমান রুপ লাভ করেছে। এ আইন দেশের ক্রমবর্ধমান ব্যবসা-বানিজ্যের ক্ষেত্রে কোম্পানি গঠন পরিচালনায় গতিশলিতা বৃদ্ধিদেগুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে বলে আশা কিরা যায়।