বিদেশী কোম্পানি কাকে বলে? বিদেশী কোম্পানি বাংলাদেশে প্রবর্তনের উপায়গুলো

বিদেশী কোম্পানি  কাকে বলে? বিদেশী কোম্পানি বাংলাদেশে প্রবর্তনের উপায়গুলো

অন্য পোষ্টঃ 

প্রশ্নঃ বিদেশী কোম্পানি কাকে বলে?
(What is foreign company?) 

উত্তরঃ বাংলাদেশের বাইরে গঠিত ও নিবন্ধিত কোন কোম্পানি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্যবসায় স্থাপন করলে বা চালু রাখলে ঐ কোম্পানিকে বিদেশী কোম্পানি বলে। বাংলাদেশে প্রচলিত ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৩৭৮ ধারার বিধান অনুযায়ী নিম্নে বর্ণিত 'দ’ধরনের কোম্পানিই বিদেশী কোম্পানি বলে গণ্য হবে- 

১। বাংলাদেশের বাইরে নিবন্ধিত যে কোম্পানি এই আইন প্রবর্তিত হওয়ার পর। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্যবসায়স্থল বা কর্মস্থল প্রতিষ্ঠা করে; এবং 

২। বাংলাদেশের বাইরে নিবন্ধিত যে কোম্পানি এই আইন প্রবর্তিত হওয়ার পর্বে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্যবসায় স্থল বা কর্মস্থল প্রতিষ্ঠা করেছে এবং এই আইন প্রবর্তিত হওয়ার সময়েও তা প্রতিষ্ঠিত ছিল। 

উপরােক্ত আইনের ধারার বিশ্লেষণে বলা যায়, কোন কোম্পানি বাংলাদেশের বাইরে। নিবন্ধিত হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্যবসায়স্থল প্রতিষ্ঠা না করে বা কোন অফিস স্থাপন করে কেবল এজেন্টের মাধ্যমে ব্যবসায় চালালে সে কোম্পানিকে বিদেশী কোম্পানি | বলা যাবে না। বিদেশী কোম্পানি হলাে ঐসব কোম্পানি যা বাংলাদেশের বাইরে নিবন্ধিত হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্যবসায় স্থাপন করে।

প্রশ্নঃ কোন বিদেশী কোম্পানি বাংলাদেশে প্রবর্তনের উপায়গুলাে
আলােচনা কর। (Discuss the ways for the operation foreign company in Bangladesh.) 
অথবা, কোন বিদেশী কোম্পানি বাংলাদেশে চালু করার উপায় বর্ণনা কর।। 

উত্তরঃ প্রারম্ভিক কথাঃ বাংলাদেশের বাইরে নিবন্ধিত কোন কোম্পানি বাংলাদেশের | অভ্যন্তরে ব্যবসায় স্থাপন করলে বা চালু রাখলে তাকে বিদেশী কোম্পানি বলা হয় । বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোন বিদেশী কোম্পানি চালু করতে হলে ১৯৯৪ সালের কোম্পানি। | আইনের ৩৭৯ (১) ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করতে হয় । 

১। দলিলপত্রঃ কোন বিদেশী কোম্পানি দেশের অভ্যন্তরে ব্যবসা কেন্দ্র স্থাপনের ত্রিশ দিনের মধ্যেই কোম্পানি নিবন্ধকের নিকট পুনরায় নিবন্ধনের জন্য নিয়ে বর্ণিত দলিলপত্রাদি দাখিল করতে হবে ? 

(ক) কোম্পানির সনদ, বিধিবদ্ধ আইন বা স্মারকলিপি ও পরিমেল নিয়মাবলী অথবা। কোম্পানি গঠন ও কোম্পানির গঠনতন্ত্রের বর্ণনা সম্বলিত অপরাপর দলিলের। সত্যায়িত প্রতিলিপি এবং দলিলগুলাে ইংরেজি বা বাংলা ভাষায় লিখিত না হলে। বাংলা বা ইংরেজি অনুবাদের সত্যায়িত প্রতিলিপি। 

(খ) কোম্পানির নিবন্ধিত বা প্রধান অফিসের পূর্ণ ঠিকানা।

(গ) কোম্পানির পরিচালকবৃন্দ ও ব্যবস্থাপনাবৃন্দের নাম-ঠিকানা সম্বলিত একটি তালিকা (ঘ) কোম্পানির উপর যে কোন নােটিশ জারির প্রয়ােজন হলে তা গ্রহণের জন্য। কোম্পানির পক্ষ হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশে বসবাসকারী কোন এক বা একাধিক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা। 

(ঙ) বাংলাদেশে উক্ত কোম্পানির প্রধান কার্যালয় বলে পরিগণিত অফিসের পূর্ণ ঠিকানা।

উপরিউক্ত কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিবন্ধক সন্তুষ্ট হলে বিদেশী কোম্পানিকে দেশের অভ্যন্তরে পুনরায় নিবন্ধিত করে নিবেন। উপরিউক্ত বিষয়ে কোন পরিবর্তন করতে হলে তা যথারীতি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিবন্ধককে নােটিশ প্রদানের মাধ্যমে জানাতে হবে। এরূপ কোম্পানি যেখানে প্রতিষ্ঠিত সেখানে প্রতিষ্ঠানের নাম এবং দেশের নাম দর্শনীয়ভাবে প্রদর্শন করতে হবে। 

২। হিসাবঃ বাংলাদেশী কোম্পানির ন্যায় বিদেশী কোম্পানির উদ্বৃত্তপত্র ও লাভ-ক্ষতি

হিসাব প্রস্তুত করতে হবে এবং তার তিন খানি নকল নিবন্ধকের নিকট দাখিল করতে হবে। সরকার কোন বিশেষ কোম্পানির এ বিধান প্রয়ােগ ও বাতিল করতে পারবে। [ধারা ৩৮০ (১)। 

৩। নামঃ বিদেশী কোম্পানির নাম এবং কোন দেশে তা নিবন্ধনকৃত তার প্রত্যেক বাংলাদেশী কার্যালয়ে এবং ব্যবসায় কেন্দ্রের বাইরে স্পষ্টভাবে ইংরেজী ও সহজ পাঠ্য বাংলা ভাষায় উল্লেখ করতে হবে। কোম্পানির সদস্যগণের দায় সীমিত হলে তাও ব্যবসায় কেন্দ্রের বাইরে সাইনবাের্ডে ও সকল ব্যবসায়িক কাগজপত্রে লিখতে

হবে। [ধারা-৩৮১) 

৪। তালিকা বহিঃ কোম্পানি বিধি অনুযায়ী নিবন্ধকরণ, তত্ত্বাবধায়ক নিয়ােগ, তালিকা বহি, হিসাবের খাতা প্রভৃতি রাখা সম্পর্কে যে বিধান আছে তা বিদেশী কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযােজ্য হবে। 

৫। বিবরণপত্র কোন বিবরণপত্রের দ্বারা বিদেশী কোম্পানি শেয়ার বা ঋণপত্র ক্রয় করতে আমন্ত্রণ করলে ঐ বিবরণপত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলাে উল্লেখ থাকা উচিত। 

(ক) ইংরেজী ভাষায় কোম্পানির নাম। 
(খ) যে দেশে নিবন্ধনবদ্ধ তার নাম। 
(গ) সদস্যদের দায় সীমাবদ্ধ কিনা। 

(ঘ) গঠনতন্ত্র নিবন্ধনবদ্ধ হওয়ার তারিখ, নিবন্ধিত কার্যালয় ও মূল ব্যবসায় কেন্দ্রের। ঠিকানার বিস্তারিত বিবরণ । তাছাড়া বিবরণপত্রে যে সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকার বিধান আছে সে বিষয়গুলাে ।

উপসংহারঃ পরিশেষে বলা যায়, উপরােক্ত বিষয়গুলাে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। নিবন্ধক সন্তুষ্ট হলে উক্ত কোম্পানিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুনরায় নিবন্ধন করে। নেবেন এবং ব্যবসায় আরম্ভ করার অনুমতি প্রদান করবেন।

ধন্যবাদ

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url