মানসিক রোগের লক্ষণসমূহ

 মানসিক প্রতিবন্ধীঃ

“মানসিক প্রতিবন্ধী” শব্দের ব্যবহার আজকাল অনেকেই বাদ দিয়েছেন। এর কারন এটি প্রায়শই তাচ্ছিল্যক্রমেও নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়। এর পরিবর্তে আজকাল “শিখতে পারার অক্ষমতা” এই শব্দগুচ্ছ বেশী ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এই ম্যানুয়েলে আমরা মানসিক প্রতিবন্ধীতা” 

টার্মটিই ব্যবহার করব কারন এই টার্মটি বহুল প্রচলিত এবং বিলম্বিত মানসিক বিকাশ এর প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরে। মানসিক অসুস্থতার নিরিখে “মানসিক প্রতিবন্ধীতা” কে ঠিক অসুখ বলা চলে না। কারন রােগ বা অসুখ। বলতে শারীরিক অসুবিধা বােঝায় যার শুরু এবং শেষ আছে। কিন্তু “মানসিক প্রতিবন্ধীতা” আসলে একটি অবস্থা - এমন একটি অবস্থা যার শুরু একেবারে। শৈশবে এবং এই অবস্থাটি ঐ ব্যক্তির সারা জীবন বিরাজমান থাকে ।

“মানসিক প্রতিবন্ধীতা” মানে একটি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ অন্যসব শিশুদের চেয়ে শ্লথ বা বিলম্বিত । ফলে, তার মানসিক সক্ষমতাও একই পরিস্থিতির শিকার ।। স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে আসা হয় যেসব কারনে। তার মাঝে রয়েছে নিজের যত্ন নিতে অপারগতা, স্কুলে সমস্যা, আচরনগত সমস্যা ইত্যাদি। 

মানসিক রোগের উদাহরণ দেওয়া আছেঃ-

মানসিক প্রতিবন্ধকতার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহঃ

মানসিক প্রতিবন্ধীর ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত লক্ষণ/উপসর্গগুলাে এক বা একাধিক প্রকাশ পাবে; 

• বসতে পারা, হাটা, কথা বলার মতাে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারগুলাে দেরী বা বিলম্বিত হওয়া। 

• স্কুলে অসুবিধা। বিশেষ করে পড়াশুনায় খাপ খাওয়াতে অসুবিধা ও বারংবার ব্যর্থ হওয়া। 

• অন্য শিশুদের সাথে বিশেষ করে সমবয়সীদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অসুবিধা। 

• পরিণত বয়সে যৌনতার ক্ষেত্রে অসংগতি । 

• পরিনত বয়সে প্রাত্যহিক কাজকর্মে যেমন রান্না, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, চাকুরি লাভ ও চাকুরিতে নিয়ােজিত থাকতে অসুবিধা।

কেসঃ ১.৯

মারাত্মক জটিলতার ভিতর দিয়ে শিশু রডাের জন্ম। তার মা প্রসব ব্যথায় দুইদিন অতিবাহিত করার পর গ্রামের ধাত্রী প্রসূতিকে হাসপাতালে পাঠাতে পরামর্শ দেয় কারন শিশুটি প্রসবের রাস্তায় আটকে গিয়েছিল। হাসপাতালে নেওয়ার জন্য প্রসূতিকে ট্যাক্সিতে করে তিনঘন্টার পথ পাড়ি দিতে হয়। হাসপাতালে আনার পর প্রসূতিকে দ্রুত অপারেশনের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম। জন্মের পরও কয়েকমিনিট শিশুটি শ্বাস নিতে পারছিল না এবং এটা সংশ্লিষ্ট ডাক্তারদের অসাধ্যসাধনই বলতে হবে যে রডাে শেষতক বেঁচে যায়। রডাের মা-বাবার কাছে শিশুটি স্বাভাবিক ভাবেই অত্যন্ত আদরের। কিন্তু কিছু দিন পরই রডাের মা-বাবা আবিষ্কার করে যে তাদের আদরের ধন নিজে নিজে বসা শিখতে, হাঁটতে শিখতে অন্য শিশুদের চেয়ে বেশী সময় নিচ্ছে। উদাহরন স্বরুপ তাদের অন্য সন্তান থার এক বছরেই হাটতে শিখে গিয়েছিল অথচ রডাে হাটতে শুরু করে যখন তার বয়স দুই বছর। এমনকি তার কথা বলা। শুরুর ক্ষেত্রেও দেরী হচ্ছিল। দুই বছর বয়সেও সে তার মাকে ভালভাবে ডাকতে পারতাে না। রডাের বাবা-মা। এসময়ই প্রথম উপলব্ধি করে যে রডাে আর দশটা শিশুর মত নয় – তার কোন সমস্যা আছে। তারা রডােকে শিশুবিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাদেরকে রডাে সম্পর্কে নানা খুঁটিনাটি জিজ্ঞাসা করেন।

মানসিক রোগের লক্ষণ সমূহের উদাহরণঃ-

মস্তিষ্কের অসুখ বা অন্যকোন অসুখের জন্য মারাত্মক উন্মাদনা Acute Psychosis ডিলেরিয়াম (Delirium) বা প্রলাপ এর বৈশিষ্ট্যসমূহঃ

মস্তিষ্ক বা শরীরের অসুস্থতার কারণ ডিলেরিয়াম (প্রলাপ) (Acute Psychosis Caused by Brain or Medical Illness) - এর বৈশিষ্ট্যসমূহঃ

• বিস্মরণ (যেমন রােগী কোথায় আছে বা কটা বাজে তা ভুলে যাওয়া)। 

• জ্বর, অতিরিক্ত ঘাম, দ্রুত নাড়ি স্পন্দন (Pulse) এবং অন্যান্য শারীরিক লক্ষণ।

• দুর্বল স্মৃতি শক্তি। • ঘুমের ছকে অনিয়ম। 

• হ্যালুসিনেশন (Visual Hallucination) কাল্পনিক কিছু দেখা (যা অন্যেরা দেখে না)। 

• ঘণ্টায় ঘন্টায় লক্ষণ/উপসর্গ বদলে যাওয়া। ধারাবাহিকভাবে কখনও সুস্থ হয়ে উঠা আবার কখনও লক্ষণ/উপসর্গগুলাে প্রকটভাবে ফিরে আসা।

সমস্যাটি কি ছিল? ভালভাবে পরীক্ষার পর ডাক্তার রডাের বাবা-মাকে বুঝিয়ে দেন যে, রডাে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। সম্ভবতঃ তার মায়ের প্রসবকালীন জটিলতা ও চিকিৎসালাভে দীর্ঘসূত্রীতার কারনে রডাের মস্তিস্ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মানসিক প্রতিবন্ধকতা তিন ধরনের হতে পারে। 

মৃদু প্রতিবন্ধীতা যা স্কুল ছাড়া অন্য কোন সমস্যা করে না । 

• মধ্যম প্রতিবন্ধীতা যার জন্য স্কুলে টিকতে পারে না এবং রােগী নিজের যত্নও (যেমন গােছল করা) যথাযথ ভাবে করতে পারে না। 

• মারাত্বক প্রতিবন্ধীতা হলাে এমন পর্যায় যেখানে খুব সাধারণ কাজকর্মের (যেমন খাওয়া দাওয়া) ক্ষেত্রেও অন্যের সাহায্য প্রয়ােজন হয়। 

মৃদু প্রতিবন্ধীতার ক্ষেত্রে এমন হতে পারে যে, চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হয়েও জীবন কাটিয়ে দিতে পারে। মধ্যম প্রতিবন্ধী রােগী নিজেই জীবন কাটাতে পারে এবং বিশেষ কিছু ধরনের কাজ করতে পারে। কিন্তু মারাত্বক প্রতিবন্ধীর ক্ষেত্রে অন্যের সার্বক্ষণিক নজরদারী ও যত্নের প্রয়ােজন পড়ে। 

বয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাঃ

কেস : ১.১০

রেমন ৭০ বছর বয়সী একজন অবসর প্রাপ্ত ডাককর্মী। সে তার ছেলে ও ছেলের বউয়ের সাথে থাকে। প্রায় ১০ বছর হলাে তার স্ত্রী মারা গেছে। কয়েক বছর যাবতই রেমন ক্রমশএটা ওটা ভুলে যাচ্ছিল। তার পরিবার প্রথমে “বয়স। হলে এমন হয়” ভেবে বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু ক্ৰপেরিস্থিতি আরাে খারাপ হয়-ভুলে যাওয়ার পরিমান বাড়তে থাকে। একদিন রেমন তার বাড়ির রাস্তা ভুলে যায়, তার আত্নীয় স্বজনদের নাম ভুলে যায়। এমন কি তার যে নাতিরা। তার এতাে প্রিয়-তাদের নামও সে স্মরণ করতে পারে না। তার আচরনও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। যেমন কয়েক দিন দেখা গেল খুব সহজেই রেগে উঠছে, খিটখিটে মেজাজের হয়ে পড়ছে, আবার কয়েকদিন দেখা গেল সে ঘন্টার পর ঘন্টা একটি কথাও না বলে চুপচাপ বসে আছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি অব্যাহত থাকলে একদিন সে ফি বা মূছা যায়। তাকে হাসপাতালে আনা হলে তার মস্তিষ্কের বিশেষ স্ক্যানিং করা হয়। এতে তার মস্তিষ্কের আকারে পরিবর্তন ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন যে রেমন Dementia (ডিমেনশিয়ায়) ভুগছে।

ডিমেনশিয়া (Dementia) রােগের বৈশিষ্ট্যসমূহঃ

ছক নং-১.১০

ডিমেনশিয়া (Dementia) রােগের বৈশিষ্ট্যসমূহঃ 

• ডিমেনশিয়া রােগ কদাচিৎ ৬০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে দেখা যায়। এই রােগের লক্ষণ/উপসর্গসমূহঃ

• গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ ভুলে যাওয়া - যেমন আত্মীয় বা বন্ধুদের নাম ভুলে যাওয়া। 

• তার পরিচিত এলাকাতেও পথ ভুলে যাওয়া। যেমন নিজের গ্রাম বা বাড়ির পথ ভুলে যাওয়া। 

• খিটখিটে মেজাজ অথবা অল্পেই রেগে যাওয়া। 

• নিজের মাঝে গুটিয়ে যাওয়া, বিষন্নতায় ভােগা ন কারণ ছাড়াই কান্নাকাটি বা হাসাহাসি।। 

• কোন আলােচনা বা কথােপকথন চালিয়ে যেতে অসুবিধা হওয়া বা খেই হারিয়ে ফেলা।

• দিনক্ষণ কিংবা বার ভুলে যাওয়া; কিংবা কোথায় সে আছে তা বলতে না পারা।  

• যুক্তিহীন বা আবােলতাবােল কথাবার্তা।

সমস্যাটি কি ছিলঃ রেমন একটি মস্তিস্কের অসুখে ভুগছে যা কেবলমাত্র বয়স্ক লােকদের ক্ষেত্রে ঘটে (৬০ বছরের বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের) যার নাম ডিমেনশিয়া Dementia। রােগের শুরু হয় ভুলে যাওয়ার প্রবণতা দিয়ে যা দিনে দিনে আরাে অবনতির দিকে গিয়ে রােগীর আচরনে অসঙ্গতি প্রকাশ পায়।

বয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রধানত দুই প্রকার মানসিক অসুস্থতা দেখা যায়;

বিষন্নতা/অবসাদগ্রস্থতা। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই নিঃসঙ্গতা, শারীরিক অসুস্থতা ও অক্ষম দারিদ্র ইত্যাদি কারনের সাথে সংশ্লিষ্ট। অন্যান্য বয়সে। বিষন্নতা/অবসাদগ্রস্থতা এবং বয়স্কদের এটি একই রকম।

বয়স্কদের অন্য মানসিক অসুস্থতা হলাে Dementia (ছক নং-১.১০)। এটি শুধুমাত্র বয়স্কদের অসুখ ।এ রােগটি নিয়ে অধ্যায় ৪.৭-এ আলােচনা করা হয়েছে। বয়স্কদের জন্য নিবিড় স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে আলােচনা আছে অধ্যায় ৯,৯-এ।

শিশুদের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ সমস্যাঃ

 • শৈশবে শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ কয়েকটি মানসিক সমস্যা দৃষ্ট হয়:

মানসিক রোগ থেকে মুক্তি উপায়

• Dyslenia শেখার সক্ষমতায় ব্যাঘাত। 

• Hyperactivity; নাম থেকেই বুঝা যায় - যখন শিশু অতিরিক্ত সক্রিয়তায়ভােগে। 

• আচরনে বিশৃঙ্খলা – যখন শিশু স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী বেয়াদবী করে। 

• বিষন্নতা/অবসাদগ্রস্থতা (Depression) - এতে শিশু দুঃখী বা অসুখী থাকে। 

• বিছানা ভিজানাে - যে বয়সে বিছানায় প্রস্রাব করার কথা নয় সে বয়সে | বিছানা ভিজানাের প্রবণতা।

শিশুরা নির্যাতনের শিকার হলেও তা আপনার নজড়ে পড়বে। শিশুদের এই মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলাের ক্ষেত্রে মুলতঃ যে বিষয়টি মনে রাখতে হবে তা হলাে এই অসুখগুলাে মানসিক প্রতিবন্ধতার মত নয়, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই রােগীর অবস্থার উন্নতি ঘটানাে সম্ভব এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে শিশুটি পুরােপুরি সেরে যায়। অতএব, এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে কোন শিশুর আচরনগত ত্রুটি/সমস্যা থাকলেই সে মানসিক প্রতিবন্ধী’ এমনটি ভেবে বসা আদৌ ঠিক নয়। 

আরোও পড়ুন..........

(এই বিষয়গুলাের ক্ষেত্রে আরাে তথ্যের জন্য দেখুন অধ্যায় ৮ এবং পরিচ্ছদ ৯.৬, ৯.৭, এবং ১০.৩)।

মানসিক রােগের কারন সমুহঃ

অনেক সমাজ সংস্কৃতিতে, মানসিক অসুস্থতার কারন খুঁজতে

বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাথে প্রচলিত সে ব্যাখা সমূহ বিবেচনা করা হয়। প্রচলিত লৌকিক মডেলগুলাে সাধারণত আধ্যাত্মিকতা কিংবা অতিন্দ্রিয় কারন দূত, আত্মা, ডাকিনী, ভূত-প্রেত ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট হয়। আপনার সংস্কৃতির প্রচলিত লৌকিক বিশ্বাস সম্পর্কে জানা থাকা উচিত একই সাথে চিকিৎসা শাস্ত্রের তত্ত্ব সম্পর্কেও আপনার জ্ঞান থাকতে হবে মানসিক অসহ কারন হিসাবে নিম্নবর্ণিত উপাদান গুলাে মনে রাখা বাঞ্ছনীয়।

 • জীবনে চাপ বহুল ঘটনাবলীঃ

জীবন হলাে ঘটনা ও অভিজ্ঞতার সমষ্টি। জীবন চলার পথে এমন অনেক ঘটনা আসে যা মানুষকে উদ্বিঘ্ন করে তােলে, মানসিক চাপে ভােগে। জীবনের ক্ষেত্রে এটাই স্বাভাবিক। অধিকাংশ মানুষই এই চাপ ও উদ্বেগের। সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করে। কিন্তু কারাে কারাে। ক্ষেত্রে এই চাপ ও উদ্বেগ মানসিক অসুস্থতার কারন হয়ে দাঁড়ায়। জীবনের যে সকল ঘটনা মানুষের মনে প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করে তার মধ্যে রয়েছে বেকারত্ব, প্রিয়জনের মৃত্যু, আর্থিক সমস্যা যেমন- ঋণগ্রস্থতা, নিঃসঙ্গতা, সন্তান উৎপাদনে অক্ষমতা, দাম্পত্য কলহ, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ইত্যাদি। 

• জটিল পারিবারিক পটভূমিঃ 

যে সব মানুষ শৈশবে অসুখী জীবন যাপন । করেছে যেমন, নির্যাতন কিংবা উপেক্ষার শিকার হয়েছে তাদের ৫ অনেকেই পরবর্তী জীবনে সহজেই বিষন্নতা/অবসাদগ্রস্থতা কিংবা উদ্বেগ (Anxiety)-এর মতাে মানসিক অসুখের শিকার হয়। 

মস্তিস্কের অসুখঃ

মানসিক প্রতিবন্ধীতা, (Dementias) এবং আবেগজনিত অনেক সমস্যা মস্তিষ্কের সংক্রমন,AIDS, মাথায় আঘাত পাওয়া, স্ট্রোক, Epilepsy, ইত্যাদি কারনেও ঘটতে পারে। যদিও এখনও অনেক মানসিক রেগাের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের Pathology সনাক্তকরা সম্ভব হয়নি কিন্তু বেশ কিছু মানসিক রােগের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের রাসায়নিক পরিবর্তনের সম্পৃক্ততার প্রমান রয়েছে যেমন Neutrotrans Meter । 

বংশগত বা জিনঃ

মারত্মক মানসিক বৈকল্য (Severe Mental Depression)-এর ক্ষেত্রে বংশগত বা উত্তরাধীকার একটি গুরুত্বপূর্ণ । কারন বাবা-মা মানসিক অসুস্থতায় ভুগলে তাদের সন্তানদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকির হার অত্যন্ত কম। এর কারন হলাে ডায়বেটিস বা হাটের অসুখের মতই মানসিক অসুস্থতাও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক কার্যকরন দ্বারা বহুলভাবে প্রভাবিত।।

চিকিৎসা বিষয়ক সমস্যাঃ

কিডনি বা লিভারের অসুখের মত অনেক শারীরিক অসুস্থতাও মারাত্মক মানসিক বৈকল্য (Severe Mental Depression) এর কারন হতে পারে। কিছু ঔষধের প্রতিক্রিয়ায়। অবসাদগ্রস্ততা/বিষন্নতা (Depression) এর মতাে মানসিক অসুস্থতার কারন হতে পারে উদাহরন। স্বরূপ- উচ্চরক্ত চাপ এর কিছু ঔষধ। বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যাপকহারে ব্যবহৃত মাত্রার অনেক ঔষধ Delireum বা প্রলাপ-এর মতাে মানসিক অসুখের কারন হতে পারে ।

সংস্কৃতি এবং মানসিক অসুস্থতাঃ

অনেক ভাবেই সংস্কৃতি মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। যেমনঃ

মানসিক অসুস্থতা কিঃ

সংস্কৃতিভেদে মানসিক অসুস্থতা সম্পর্কিত ধারণার পার্থক্য দেখা যায়। সাধারনভাবে মানসিক অসুস্থতা বলতে মারাত্মক মানসিক বৈকল্য (Severe Mental Depression) বুঝায়, সে গুলাে মূলতঃ সিজোফ্রেনিয়া বা ম্যানিয়ার মতাে মারাত্মক মানসিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে দৃষ্টি গােচর হয়। কিন্তু সাধারনভাবে কিংবা কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে সাধারণ অনেক মানসিক অসুস্থ রােগী আসে যেমন বিষন্নতা/অবসাদগ্রস্থতা (Depression), উদ্বেগ বা Anxiety, এ্যালকোহল বা মাদকাসক্তি যেগুলাে সাধারণ মানসিক অসুখ কিন্তু সর্বসাধারণের এগুলাে প্রায়শই মানসিক অসুস্থতা হিসাবে বিবেচিত বা পরিচিত নয়। এই মানসিক অসুস্থতাগুলাে সম্পর্কে আপনাকে সচেতন থাকতে হবে তবে, যারা আপনার কাছে সাহায্যের জন্য আসবে তাদেরকে প্রচালিত তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা অচ্ছুতভাব নিয়ে কথা বলবেন না। যেন রােগী নিজেকে আরাে বিড়ম্বিত না ভাবে বা নিজেকে অচ্ছত ভেবে কষ্ট না পায়। বরং রােগ বিশেষনের জন্য রােগীর সাথে সহজ প্রচলিত ভাষায় ও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত সামাজিক শব্দচয়নের মাধ্যমে কথা বলে মানুষের মানসিক চাপ ও আবেগের অভিঘাত সম্পর্কে বুঝিয়ে বলুন 

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন পরিচ্ছদ ৯.১ 

• আবেগের বিপর্যয় সম্পর্কিত শব্দের ব্যবহারঃ

মানুষের আবেগ ও অসুস্থতা বিষয় বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা দুরূহ একটি কাজ।“বিষন্ন” শব্দটির কথাই ধরা যাক। শব্দটির মানে হলাে দুঃখের অনুভূতি যা একই সাথে মনের অবস্থা (আমি খুব Depressed) বােঝাতে ব্যবহৃত হয় আবার একটি মানসিক অসুস্থতা (যেমন রােগীটি বিষন্নতায় ভুগছে) বােঝাতেও ব্যবহৃত হয়। অনেক ভাষাতেই দুঃখের ভাব বােঝানাের শব্দ রয়েছে কিন্তু অসুস্থতা। হিসাবে বােঝানাের মত শব্দ নেই। আমাদের এই ম্যানুয়লেও Depression বলতে আমরা বিষন্নতা, অবসাদগ্রস্থ এই শব্দ দুটি ব্যবহার করেছি মনের অনুভূতি ও অসুস্থতা উভয় ক্ষেত্রেই। অনেক ভাষায় এই দুই অবস্থা বর্নণায় পৃথক পৃথক শব্দ পাওয়া যায়। অনেক সময় কোন প্রবাদ বাক্য বা বেশ কয়েকটি শব্দ মিলিয়ে Depression বােঝাতে হয়। এই ম্যানুয়েলের শেষে টীকায় মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও উপসর্গ সংশ্লিষ্ট ইংরেজী শব্দ ও তার অর্থ দেয়া আছে। তার পাশে পাঠকের জন্য ফাঁকা জায়গা রয়েছে যাতে পাঠক তার নিজের ভাষায় অর্থ টুকে রাখতে পারে।

ডাকিনী বিদ্যা ভূতপ্রেত বিশ্বাসঃ

অনেক সমাজেই লােকে তাদের অসুখের জন্য বদ আত্মা, ডাইনী, ভূতপ্রেত বা অতিপ্রাকৃত শক্তিকে দায়ী করে। এসব বিশ্বাস নিয়ে তর্ক করে লাভ নেই। বরং এতে রােগীর অস্বত্বি বেড়ে যায়। বরঞ্চ এই সব মতবাদকে জানতে ও বুঝতে হবে এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের তত্ত্বকে সহজভাবে উপস্থাপন করতে হবে। 

ধর্মীয়গুরু, যাজক  মনােচিকিৎসক Psychiatrist:

বিপন্ন মানুষ যা করে। অসুস্থ মানুষ নানা জায়গায় নানানভাবে আরােগ্য লাভের চেষ্টা করে তা প্রচলিত, অপ্রচলিত, ধর্মীয়, বা অতিন্দ্রীয় যে পদ্ধতিরই হােক না কেন, যেমন হােমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদিক, প্রচলিত চীনা চিকিৎসা, আধ্যাত্মিক গুরু, ওঝা, যাজক, পীর-ফকির ইত্যাদি। এর অনেকগুলাে কারন আছে। 

উদাহরণ  যা আপনাকে ভাল করে মনে রাখতে হবে।

নসিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে যা মনে রাখতে হবে ? 

• অনেক প্রকার মানসিক অসুখ রয়েছে। মানসিক অসুখ মানুষকে শারীরিকভাবে মারাত্মকভাবে অক্ষম ক

ফেলতে পারে এমনকি তার মৃত্যুরও কারণ হতে পারে। 

• সাধারন স্বাস্থ্য সেবা কিংবা কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে যে সব মানসিক অসুস্থতার বা বৈকল্য রােগীরা আসে

তারা সাধারণ মানসিক বৈকল্য এবং এ্যালকোহল বা ড্রাগ আসক্ত। অধিকাংশ রােগী বা স্বাস্থ্যকর্মী এগুলােকে মানসিক অসুস্থতা হিসাবে গণ্য করে না।

• সিজোফ্রেনিয়া, ম্যানিক ডিপ্রেসিভ অসুখ, উন্মাদ বা সাইকো এর মতাে অসুখগুলাে সহজেই স্বাস্থ্যকর্মী বা

সমাজের মনােযােগ আকর্ষণ করে এবং এর লক্ষণগুলাে সহজেই দৃষ্টি গ্রাহ্য।।

• জীবনে চাপ-বহুল ঘটনাবলী, মস্তিষ্কের ক্রিয়ায়পরিবর্তন, চিকিৎসা বিষয়ক কারন যেমন মস্তিষ্কের সংক্রমন

মানসিক অসুস্থতার প্রধান কারন ।। 

• কেউ কেউ মানসিক অসুস্থতার কারন হিসাবে আধ্যাত্মিক অতিপ্রাকৃত শক্তি, জ্বিন-ভুত, প্রেত ইত্যাদিতে বিশ্বাস।

করতে পারে। তাদের সাথে এ নিয়ে তর্কে না গিয়ে কৌশলে তাদেরকে এইসব রােগের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। সম্পর্কে আলােকপাত করতে হবে। 

• কাউকে “মানসিক রােগীর” লেবেল লাগিয়ে দেওয়া কোন কাজের কথা নয়। আপনার দায়িত্বগুলাে মানসিক

অসুস্থতা সনাক্ত করা, মানসিক অসুস্থতার প্রকৃতি নির্ণয় করা এবং যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করা।

-------------------------------------------------------------------------------

প্রথমতঃ 

চিকিৎসা বিজ্ঞান আজো সব স্বাস্থ্য সমস্যার প্রতিকার আবিষ্কার করতে পারেনি - মানসিক অসুস্থতার ক্ষেত্রেও এই সত্য বিশেষভাবে প্রযােজ্য। 

দ্বিতীয়তঃ 

অধিকাংশ তাদের আবেগের ক্ষেত্রে বিপর্যয়ের জন্য আধ্যাত্মিক অথবা সামাজিক কারন সমুহকে দায়ী করে এবং এইসব চিকিৎসা-বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট নয়। এমন লােকদের দ্বারস্থ হয়। কেউ কেউ প্রচলিত চিকিৎসায় ডাক্তারী চিকিৎসার চেয়ে দ্রুত সেরে উঠে ।

মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় পরামর্শ সেবা (Counselling):

অনেক পশ্চিমা দেশে, যারা আবেগ সম্পর্কিত সমস্যায় ভুগছে তাদেরকে পরামর্শ সেবা দেওয়া হয় মনস্তাত্ত্বিক বিভিন্ন তত্ত্বের ভিত্তিতে। এই মনস্তাত্ত্বিক তত্ত্বগুলাে গড়ে উঠেছে তাদের সমাজ ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে। অপশ্চিমা দেশে হুবহু সেই কাঠামাে ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয় নয় কারন। অনুন্নত দেশের সমাজ, সংস্কৃতি তাদের আবেগ ভিন্ন। অতএব, আবেগ জনিত সমস্যা, তার স্বরূপ, কারন ও সমাধানও স্বাভাবিক ভাবে কিছুটা ভিন্ন হবেই। এর মানে এই নয় যে পরামর্শ থেরাপী এসব দেশে কাজ করবে না। আপনাকে যা করতে হবে আপনার নিজস্ব সমাজ, সংস্কৃতির আলােকে আপনাকে এর জন্য লাগসই ধারনা, মতামত ও পদ্ধতি আপনাকেই আহরণ করতে হবে। 

খবুই সাধারণ কিছু পরামর্শ সেবা এই ম্যানুয়েলে দেয়া আছে যা মােটমুটি সব সমাজ সংস্কৃতির ক্ষেত্রেই প্রযােজ্য।

জানতে এখানে ক্লিক করুন

কিছু বাস্তব ঘটনার টুকরাে চিত্রঃ

ঘটনা-০১

“ব্যাপারটা প্রথম যখন ঘটল আমি প্রচন্ড ভয় পেয়ে যাই। আমি একটি বাসে করে যাচ্ছিলাম। হটাৎ আমার হৃদস্পন্দন এতাে বেড়ে যায় যে, আমার মনে হচ্ছিল আমার হার্ট-এ্যাটাক’ হচ্ছে। আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। তারপর মনে হচ্ছিল আমার হাতে পায়ে পিপড়া হেটে যাচ্ছে। আমার পুরাে শরীর গরম হয়ে উঠে, হৃদস্পন্দন =সায় ও সারা শরীর কাঁপতে থাকে। আমি বাস থেকে নেমে যেতে চাইছিলাম কিন্তু বাসটি চলতে থাকায়। মতে পারছিলাম না - আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল। তারপর পরবর্তী ষ্টপেজে বাসটি থামতেই আমি মেরাস থেকে নেমে আসি যদিও আমার বাসা তখনও বেশ দূরে। এরপর থেকে আমি আর বাসে চড়িনা। কস চড়ার কথা ভাবলেই আমি অসুস্থ বােধ করি। এই ভীতির কারনে গত দুইবছর যাবত আমি বাড়ীর বাইরে যাওয়াহ ছেড়ে ভয়ছি। বর্তমানে আমার বন্ধু-বান্ধব নেই বলেই চলে এবং আমার সমাজিক জীবনও ধ্বংস হয়ে গেছে। আমি জানিনা আমার কি করা উচিত এবং সাইক্রিয়াট্রিকেকাছে যেতেও আমি ভীষন ভয় পাই কারন আর যাই হােক “আমি তাে কোন মানসিক রােগী নই”।

আতংকের আক্রমন (Panic Attack) ও ফোবিয়া (Phobia) আক্রান্ত একজন ২৪ বছর বয়সী মহিলা।

ঘটনা-০২

“তখন আমার বয়স ১৭ বছর, যখন আমি প্রথম অদশ্য কণ্ঠস্বর শুনতে পাই । প্রথমে আমি বুঝতে পারিনি যে এটা কি সত্যি না কি মনের ভুল । পরে আমি অপরিচিত লােকদের কণ্ঠস্বর শুনতে পেতে শুরু করি যারা আমার সম্পর্কে। কথা বলছিল, বাজে মন্তব্য করছিল। একবার একটি কণ্ঠস্বর আমাকে কুয়ায় ঝাপ দিতে বলে এবং আমি । কয়েকদিন কুয়াের পাশে দাড়িয়ে থাকতাম কারন আমার মনে হতাে ঐ হুকুম আমার পালন করা উচিত। প্রায়ই মনে হতাে আমার চিন্তা টেলিভিশন দ্বারা নিয়ন্ত্রত হচ্ছে; কখনাে নিশ্চিতভাবে মনে হতাে আমার খাবারে বিষ মাখানাে রয়েছে এবং মাস্তানরা আমাকে মেরে ফেলার জন্য খুঁজছে। আমি প্রায়ই খুব রেগে যেতাম এবং একদিন আমার এক প্রতিবেশীকে আঘাত করে বসলে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় ॥

সিজোফ্রেনিয়ায় Schizophrenia) আক্রান্ত ২৩ বছর বয়সী একজন।

ঘটনা-০৩

“ব্যাপারটা শুরু হয়েছিল ধীরে ধীরে কিন্তু বুঝে উঠার আগেই আমি জীবনের সব কিছুতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলি এমনকি আমার সন্তান, আমার পরিবারও আমাকে সুখী করতে পারছিলনা । আমি সারাক্ষন ক্লান্ত বােধ করতাম, ঘুমাতে পারতাম না। ভাের ৩টা- ৪টায় আমার ঘুম ভেঙে যেত, তারপর শুধু এ পাশ ওপাশ করতাম। যেসব খবার আমার প্রিয় ছিল সেগুলাে খেতেও ইচ্ছে করতনা। ফলে, আমি শুকিয়ে যাচ্ছিলাম। মনােসংযােগ করতে না পারার কারনে আমি পড়তেও পারতামনা। এতােটা খারাপ লাগত যে নিজেকে পরিবারের ও অন্যদের জন্য বােঝা মনে হতাে। সবচেয়ে খারাপ দিক হলাে আমার এ অবস্থা নিয়ে এতই ব্রিত বােধ করতাম যে কারাে সাথেই এ নিয়ে আলাপ করতে ইচ্ছা করতাে না। আমার শ্বাশুড়ি প্রায়ই অভিযােগ করতেন যে আমি আলসে হয়ে গেছি। একদিন। আমার অবস্থা এমন হলাে যে ইচ্ছে করছিল জীবনটা শেষ করে দেই। তখনই আমি সত্যি সত্যি ভয় পেয়ে যাই এবং আমার স্বামীকে সব খুলে বলি, আমি অসুস্থবােধ করতে শুরু করার প্রায় দুইম। রের ঘটনা এটি”...] 

..বিষন্নতা/অবসাদগ্রস্থতা (Depression)-এ ভােগা ৪৩ বছর বয়সী জনৈকা।

পড়ুন..

মানসিক স্বাস্থ্য কি 

ঘটনা-০৪

“আমি এতটাই প্রানশক্তি অনুভব করতাম যে মনে হতাে আমার ঘুমের কোন প্রয়ােজনই নেই। সত্যি বলতে কি, সে সময় আমি কদাচিৎ ঘুমাতাম। নানা পরিকল্পনা নিয়ে আমি সারাক্ষন ব্যতিব্যস্ত থাকতাম, যদিও কোনটাই সুচারুরূপে শেষ করা হতাে না। কেউ আমাকে ক্ষান্ত করার চেষ্টা করলেই আমি হুট করে রেগে যেতাম। আমার ব্যবসায়িক পাটনারদের সাথে আমার এক উদ্ভট পরিকল্পনা নিয়ে তুমুল ঝগড়া বেধে যায়। তারা কিছুতেই আমার ভুলটুকু আমাকে বুঝাতে পারছিল না। সত্যি বলতে কি আমি বুঝতেই চাইতাম না যে আমি জঘন্য ভুল করছি। মাঝে মাঝে মনে হতাে। আমার মাঝে মানুষকে সুস্থ করে তােলার বিশেষ ক্ষমতা আছে। সবচেয়ে খারাপ দিক হলাে সে সময় আমি দু’হাতে টাকা উড়িয়ে আমার পরিবারকে পথে বসাই।” 

....৩৮ বছর বয়সী একজন ম্যানিয়া (Mania) আক্রান্ত রােগী।

ঘটনা-০৫

“কি ঘটছে আমি বুঝতে পারছি না। ইদানিং খুব সহজেই আমি নানা কিছু ভুলে যাই। এই তাে সেদিন, আমার স্ত্রী। সকালবেলা আমার চা নিয়ে এসেছে, মুহুর্তের জন্য মনে হলাে এই মহিলাকে আমি চিনি না। আরেকদিন আমাদের গ্রামের বাজার থেকে বাজার করে বাড়ী ফিরছি, হঠাৎ মনে হলাে আমি জানিনা আমি কোথায়। সবসময়ই আমি ভেবেছি যে বয়স বাড়ছে তাই অন্যমনস্ক হয়ে পড়ছি। কিন্তু এটা যা ঘটলাে তা রীতিমতাে বাড়াবাড়ি। হঠাৎ আমার। মনে পড়লাে আমার বাবাও মৃত্যুর আগে বেশ কয়েক বছর স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং আমার ভয় হচ্ছে। আমারও একই সমস্যা হচ্ছে...”॥ 

... ডিমেনশিয়া (Dementia) আক্রান্ত ৬৮ বছর বয়সী একজন।

ঘটনা-০৬

“আমার সমস্যার শুরু যখন কর্মস্থলে আমি ঘনঘন অসুস্থতা জনিত ছুটি নিচ্ছিলাম। আমি প্রায়ই পেটের অসুখে ভুগছিলাম এবং সম্প্রতি আমি জন্ডিসে আক্রান্তহই। তখনই আমার মদ্যপান নিয়ে আমি প্রথমবারের মতাে উদ্বিগ্ন হই। সবচেয়ে ভীতিকর হলাে ঘুম থেকে উঠা। এতাে জঘন্য লাগে। মনে হয় এক পাত্র না খেলে সারাদিন আমার কাটবে না। আজকাল আমি দুপুরের খাওয়ার অর্থাৎ লাঞ্চের আগেও মদ খাচ্ছি। সারাদিন আমি কতটুকু মদ খাচ্ছি.. সত্যি বলছি আমি জানিনা, শুধু এটুকু জানি যতই খাইনা কেন অতৃপ্তি থেকে যায়।”

মদ্যপানে আসক্ত বা এ্যালকোহল নির্ভরশীলতার আকন্ত ৪৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তির জবানী।

আরোও পড়ুন...............

👉 মানমিক স্বাস্থ্য কি  ও মানসিক রোগের লক্ষণ কি? ক্লিক করুন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url