মানসিক রোগ থেকে মুক্তির উপায়
মানসিক অসুস্থতা মূল্যায়ন (Assessing)
এই অধ্যায়ে কারাে মানসিক অসুখ আছে কিনা তা মূল্যায়নে কিভাবে ইন্টারভিউ বা সাক্ষাতকার গ্রহন করতে হবে তা নিয়ে। আলােচনা করা হয়েছে। এতে রয়েছে মানসিক রােগের প্রধান লক্ষন বা উপসর্গসমূহ এবং জটিল সাক্ষাৎকার বা ইন্টারভিউ গ্রহনের ক্ষেত্রে সহায়ক নির্দেশিকা।
জটিল সাক্ষাৎকার বলতে জনাকীর্ন স্থানে যেমন “প্রাথমিক স্বাস্থ্য ক্লিনিক” যেখানে লােক সমাগম বেশী এমন স্থানে কিংবা যে ব্যক্তি কথা বলতে অনাগ্রহী এমন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার বা ইন্টারভিউ বুঝায়। এই অধ্যায়ে। কারাে মানসিক অসুস্থতা রয়েছে কিনা তা নিশ্চিতরূপে মূল্যায়ন করতে আপনি কি ধরনের প্রশ্ন করতে পারেন - তা নিয়ে। আলােচনা করা হয়েছে।
আপনি কি মানসিকভাবে অসুস্থ এমন কাউকে পরীক্ষা করতে পারেন?
মানসিকভাবে অসুস্থ এমন কাউকে পরীক্ষা করার জন্য বিশেষজ্ঞের প্রয়ােজন নেই। এর জন্য শুধু প্রয়ােজন - সহানুভূতি সম্পন্ন মনােভাব, ভাল শ্রোতা হওয়ার গুন এবং কিছু মৌলিক জ্ঞান যা এই ম্যানুয়েলে বর্ণনা করা হয়েছে। মানসিকভাবে অসুস্থ লােকদের পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে অনেক স্বাস্থ্যকর্মীরই মিশ্র অনুভূতি রয়েছে। সে নিম্নরূপ বােধ করতে পারে ?
👉 লােকটি তাকে বা তাদেরকে আক্রমকরতে পারে এই ভেবে ভয় পায় ।
👉 লােকটির ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অশ্রদ্ধা পােষন করা।
👉 সাধারন পরীক্ষার চেয়ে ইন্টারভিউটি অনেক বেশী সময় নেবে - এই ভেবে হতাশা।
👉 লােকটির উদ্ভট (Odd) আচরনে মজা পাওয়া ।
👉 “কোন সত্যিকারের অসুখ” ছাড়াই লােকটি তার সময় নষ্ট করছে - এই ভেবে বিরক্তবােধ বা রাগ করা।
এ ধরনের অনুভতি একজন মানসিক অসুস্থ রােগীর ক্ষেত্রে সত্যিকার সাহায্য করা আপনার জন্য কঠিনতর করে তুলবে। এ। ধরনের মনােভাব যে লােকটি আপনার কাছে সাহায্যের জন্য এসেছে তার অস্বস্তি আরাে বাড়িয়ে দেবে এবং সে তার অনুভূতি। আপনার সাথে বিনিময় বা শেয়ার করার ক্ষেত্রে গুটিয়ে যাবে । মানসিকভাবে অসুস্থ রােগীকেও সাধারন অন্য দশ জনের। মতােই সম্মান ও সহানুভূতির সাথে গণ্য করতে হবে।মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের সাথে কাজ করা একটি চ্যালেঞ্জ মানসিক অসুস্থতা নিরূপনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হলাে ঐ ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত সময় দেয়া।
আপনার কি একজন মানসিক অসুস্থ রােগীর সাথে কথা বলার সময় আছে ?
প্রথমেই একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, একজন লােক আপনার কাছে কেন এসেছে কাটা জানার জন্য সময় দিলে প্রকৃতপক্ষে আপনার অনেক সময় বেঁচে যাবে। আমরা অনেক মানসিক অসুখ, বিশেষ করে সাধারন মানসিক বৈকল্য এবং সমস্যা ইত্যাদি কদাচিৎ স্বাস্থ্যকমেিদর নজরে পড়ে। একটি ব্যস্ত ক্লিনিকে স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যকমরাি স্রেফ লােকদের অসুবিধা ও অভিযোগ শুনে ঔষধলিখে দেয়। যেমন, ব্যাথার জন্য বাথানাশক বড়ি, দুর্বলতার জন্য ভিটামিন, ঘুমের অসুবিধার জন্য ঘুমের বড়ি ইত্যাদি। অর্থাৎ, মূল অসুখ মানসিক অসুস্থতা বিনা চিকিৎসাতেই রয়ে যায় । ফলে রোগী বার বার ক্লিনিকে আসে, বার বার ঔষুধ লিখে নিয়ে যায়। অথচ প্রথমেই যদি আপনি একটু সময় নিয়ে সমস্যাটির স্বরূপ আবিষ্কার করতে চেষ্টা হতেন তাহলে পরবর্তীতে আপনার আর সময় নষ্ট করতে হতাে না। বরং ততােদিনে রােগীর অবস্থার উন্নতিতে আপনিও খুশী হতে পারতেন। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা মনে রাখতে হবে, তা হলাে, মানসিক অসুস্থতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে খুব একটা সময়ের প্রয়ােজন হয় না। সময়ের সুচারু ব্যবহারের মল চাবিকাঠি হলাে মানসিক অসুস্থতা সম্পর্কে কিভাবে প্রশ্ন করবেন সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান। এ সম্পর্কে নীচে আলােচনা করা হলাে।
কে মানসিক অসুখে ভুগছেঃ
মানসিকভাবে অসুস্থ লােক সম্পর্কে খুবই প্রচলিত ধারনা হলাে সে আবােল তাবােল বকবে, উদ্ভট আচরণ করবে। কিন্তু মানসিক অসুখে ভুগছে এমন লােকজনের সিংহভাগই শারীরিকভাবে অসুস্থ লােকদের মতই। কোন পার্থক্যই সাধারনত দৃষ্টিগােচর হয় না। শারীরিকভাবে অসুস্থ আর দশজন রােগী যতােটা বিপদজনক মানসিকভাবে অসুস্থ লােকজন ঠিক ততােটাই বিপদজনক। একজন মানসিক অসুস্থ রােগীর সাথে কথা বলছেন বলে আপনার বিপদ হতে পারে এমনটি ভাবা বাতুলতা। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে কেউ মানসিক রােগে ভুগছে কি না জানার জন্য আপনার উচিৎ যাচাই বাছাইয়ের একটি প্রক্রিয়া(Screening Procedure) অনুসরন করা। তারপর আপনি | এসব লােকদের পেছনে আরও বেশী সময় দিতে পারবেন, তার সমস্যাটি কি তা জানতে এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করতে পারবেন। একটি ব্যস্ত ক্লিনিকে মানসিক অসুস্থতা যাচাই-বাছাইয়ের দুটি পদ্ধতি আছে ।
• প্রথমতঃ কিছু ডাক্তারী নমুনা (Clinical Presentation) আছে যেগুলি সম্পূর্ণরূপে মানসিক অসুস্থতা সম্পর্কিত। যদি কারাে মাঝে এইগুলাে
দেখা যায়, আপনার উচিত তাকে মানসিক অসুস্থ ভাবা (ছক - ২.১)।
• দ্বিতীয়তঃ সাধারন মানসিক বৈকল্য বা এলকোহল নির্ভরশীলতার মতাে সবচেয়ে সাধারন ও বহুল প্রচলিত মানসিক অসুস্থতা যা সাধারন স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে নিয়মিত দেখা যায়, সেগুলাে নির্ধারনে কিছু গােল্ডেন প্রশ্ন বা সােনালী প্রশ্ন দেয়া হলাে। (ছক - ২.২)
কেউ যদি এ প্রশ্নগুলাের কোন একটি বা একাধিক উত্তর হ্যা সূচক দেয় তাহলে আপনি তাকে “সাধারন মানসিক বৈকল্য” (Common mental disorder) অথবা মাদক বা এলকোহল নির্ভরতা (Drug or alcohol dependance) নিয়ে আরও প্রশ্ন করতে পারেন।
মানসিক অসুখের ডাক্তারী উপস্থাপন (Clinical Presentation)
মানসিক অসুখের ডাক্তারী সম্পর্কিত Talglera (Clinical Presentation) :
• যখন কোন ব্যক্তি বা তার আত্মীয়রা সরাসরি মানসিক অসুস্থ্যতার কথা অভিযােগ করে, যেমন বিষন্নতা/ অবসাদগ্রস্থতা (Depression), মাদকাসক্তি বা মদ্যপানে আসক্তি।
• যখন কোন ব্যক্তি বা তার আত্মীয়রা অলৌকিক বা অতীন্দ্রিয় বা আধ্যাত্মিক কারণ উল্লেখ করে।
• যখন মানসিক অসুস্থতার সুনির্দিষ্ট কারন উপস্থাপন। যেমন : মদ্যপানে অপব্যবহার (Alcohol misuse) বা পারিবারিক জীবনে সহিংসতা (Violence)।
• যখন আপনি জানেন যে, লােকটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্যায় ভুগছে। যেমন : দাম্পত্য জীবনে বা যৌন জীবনে ।
• যখন আপনি জানেন লােকটির জীবনের ক্ষেত্রে সমস্যায় ভুগছে যেমন, বেকারত্ব বা নিকট জনের মৃত্যু।
• শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে যখন একাধিক অভিযােগ (বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তিনটির কম নয়) থাকে যা কোন সুনির্দিষ্ট শারীরিক রােগের উপসর্গের কাঠামাের সাথে কোন ভাবেই মিলে না।
• যখন অতীতে নিজের বা পারিবারিকভাবে কারাে মানসিক রােগের ইতিহাস থাকে।
সাধারণ স্বাস্থ্য সেবায় মানসিক রােগ নির্ণয়ে সােনালী প্রশ্নমালাঃ
• আপনার কি রাতে ঘুমাতে সমস্যা হয়?
• আপনার কি মনে হয় আপনি স্বাভাবিক কাজকর্মে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন?
• ইদানিং কি আপনি বিষন্নতায় বা দুঃখবােধে ভুগছেন বা অসুখীবােধ করছেন?
• আপনি কি কোন কিছুতে ভয় পাচ্ছেন?
• আপনি কি আজকাল বেশী মদ খাচ্ছেন - এ নিয়ে উদ্বিগ্ন?
• এ্যালকোহলের পেছনে আপনি কত টাকা এবং সময় ব্যয় করছেন? উপরের কোন প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যা’ বাচক হয় তবে রােগ নিরূপনের জন্য আরও বিস্তারিতভাবে প্রশ্ন করুন ।
মানসিক অসুস্থতার সম্ভাব্য ব্যক্তিকে যেসব প্রশ্ন করতে হবেঃ
যাচাই-বাছাই (Screening) এর ফলে যদি কাউকে আপনার সন্দেহ হয় যে সে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছে, তাহলে তার ক্ষেত্রে একটি আদর্শ সাক্ষাৎকার | বা ইন্টারভিউ (Interview) ব্যবহার করা যেতে পারে। (ছক - ২.৩) সমস্যাটি বােঝার জন্য আপনার তিন ধরনের তথ্যের প্রয়ােজন হবে। এ তথ্যের ভিত্তিতেই আপনি তাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারেন তা বেরিয়ে আসবে।
• রােগীর বয়স, ঠিকানা, পারিবারিক ও পেশাগত অবস্থা ইত্যাদি সংগ্রহ করতে বা জানতে হবে।
• লক্ষন বা উপসর্গ সমূহ জানার মাধ্যমে অসুখটি সম্পর্কে ধারণা পেতে হবে। যেমন, লক্ষন বা উপসর্গ গুলাে কতদিন যাবৎ বিদ্যমান ও সেটা ঐ ব্যক্তির জীবনে কি বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
• লােকটির সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে হবে। যেমন, সে কার সাথে থাকে, কারা কারা সামাজিক জীবনে তার প্রধান সহায়ক, তার পারিবারিক জীবনের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী যেমন কারাে মৃত্যু ইত্যাদি সম্পর্কে প্রশ্ন করতে হবে যা তার মানসিক অসুস্থতার কারন নির্ণয়ে সহায়ক হতে পারে।
মানসিক বৈকল্য মূল্যায়নে লক্ষন সমূহের সংক্ষিপ্ত তালিকা (চেক লিষ্ট Check List):
১ম অধ্যায়ে বর্ণিত তিন ধরনের প্রধান মানসিক বৈকল্য মূল্যায়নে লক্ষন বা। উপসর্গ সমূহের নিম্নোক্ত চেক লিষ্ট (Check List) ব্যবহার করা যেতে পারে।
সাধারন মানসিক বৈকল্য : বিষন্নতা/অবসাদগ্রস্থতা বা উদ্বিগ্নতা (Common Mental Disorders : Depression or Anxiety) :
নীচের কমপক্ষে একটি উপসর্গে কমপক্ষে দু' সপ্তাহ ভুগবে:
👉 দুঃখবােধ বা বিষন্নতা।
👉 দৈনন্দিন কাজকর্মে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা।
👉 নার্ভাস বা উত্তেজিত থাকা বা অতিরিক্ত দুঃশ্চিন্তা।
অন্যান্য যেসব লক্ষণ/ উপসর্গ ব্যাপকভাবে দেখা যায় সেগুলাে সম্পর্কে প্রশ করতে হবে :
👉 ঘুমের অসুবিধা ।
👉 ক্লান্তি । • ক্ষুধামন্দা।
👉 মনােযােগে ঘাটতি ।
👉 আত্মহত্যার / আত্মঘাতি চিন্তা।
👉বুক ধড়ফড় বা পালপিটিশন বা দ্রুত হৃদস্পন্দন, কাঁপুনি, তন্দ্রাচ্ছন্নতা, ঝিমনি।
👉 সারা শরীরে ব্যথা-বেদনা ।
সম্ভব্য মানসিক রােগীর কাছ থেকে যেসব তথ্য জানতে হবে ?
সাধারণ তথ্যঃ
• লিঙ্গ।
• বয়স।
• পেশা।
• বৈবাহিক অবস্থা।
বর্তমান অভিযােগগুলাের ইতিহাসঃ
• কখন এবং কিভাবে এটি শুরু হয়েছে?
এটি কি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে?
• কোন ঔষধ (বা অন্য চিকিৎসা) নেয়া হয়েছে কিনা।
• অসুস্থতাটি সম্পর্কে রােগীর নিজের ধারনা-অসুখটি ও তার কারণ সম্পর্কে রােগীর ধারনা। অতিরিক্ত চাপ (Stress) জনিত কিংবা অতিপ্রাকৃত কোন কারনে অসুখটি হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নও আপনি রােগীকে করতে পারেন।
অন্যান্য তথ্যাবলীঃ
• রােগীর ক্ষেত্রে মানসিক অসুস্থতার অতীত ইতিহাস আছে কিনা। (থাকলে পুরনাে প্রেসক্রিপশব্বা ক্লিনিকের কাগজপত্র)
• প্রাসঙ্গিক চিকিৎসা সম্পর্কিত ইতিহাস (Medical history) যেমন: মাথায় আঘাত।
• জীবনের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ঘটনাবলী যেমন বিচ্ছেদ, পরিবারে কোন মৃত্যুর ঘটনা, বেকারত্ব ইত্যাদি।
• সামাজিক সহায়ক ক্ষেত্র সমূহ; বিশেষ করে লােকটি কাদের সাথে থাকে, কারা তার ব্যাপারে যত্নশীল, বাড়ীর বাইরে তার কোন সহায়ক বা সঙ্গী যেমন ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক বন্ধু-বান্ধব আছে কি না।
মারাত্মক মানসিক বৈকল্য (Severe mental disorders) মূল্যায়নঃ
এরূপ ব্যক্তির ক্ষেত্রে নীচের কমপক্ষে দুটি লক্ষন বা উপসর্গ দেখা যাবে।
👉 এমন কিছু বিশ্বাস করবে যা অসত্য; যেমন তার চিন্তা বাইরের কোন শক্তি নিয়ন্ত্রণ করছে বা লােকজন তাকে বিষ খাওয়াবার চেষ্টা করছে (Delusions)।
👉 এমন কিছু দেখা বা শােনা যা অন্য কেউ দেখেও না শােনেও না (Hallucinations); বেশীরভাগ ক্ষেত্রে এসব। শব্দ বা দৃশ্যগুলাে ভীতিকর হয়।
👉 উত্তেজনা এবং অস্থিরতা কিংবা নিজেকে গুটিয়ে নেয়া ও আগ্রহ হারিয়ে ফেলা। যদি এই লক্ষনগুলাে একমাসের চেয়ে। কম সময় স্থায়ী থাকে তবে তা তীব্র উন্মত্ততা (Acute psychosis) হতে পারে। যদি তা এক মাসের অধিক সময় স্থায়ী থাকে, তবে সম্ভবত সিজোফ্রেনিয়া (Schizophrenia), যদি কয়েকবার এমন হয় যে মনে হলাে লােকটি সম্পূর্ণরূপে সেরে গেছে, কিন্তু কিছুদিন পর একই অবস্থা হয় - তাহলে এটি হতে পারে দ্বৈত বৈকল্য (Bipolar disorder)। এই পযায়। নিম্নোক্তভাবে পর্যবেক্ষন করতে হবে ।
👉 কথা বলার গতি বেড়ে যাওয়া ।।
👉 অস্থিরতা।।
👉 খিটখিটে মেজাজ (সহজে রেগে উঠা)।।
👉 মহা মহা আইডিয়া (বাস্তবতা বিবর্জিত)।
ড্রাগ অথবা এলকোহল নির্ভরতা মূল্যায়নঃ
আসক্ত ব্যক্তি কমপক্ষে একমাস নিম্নেক্ত এক বা একাধিক উপসর্গে ভুগবে ?
👉 মদ্যপান (অথবা ড্রাগের ব্যবহার) ব্যক্তিগত জীবনে সমস্যা তৈরী করবে। যেমন: চাকুরীচ্যুতি, স্বাস্থ্য সমস্যা। (যেমন দূর্ঘটনা বা জন্ডিস)।।
👉 মদ্য বা ড্রাগ সমস্যার সৃষ্টি করেছে জেনেও তা নিয়ন্ত্রনে অসুবিধা।
👉 সারাদিনব্যাপী ড্রাগ বা এলকোহল গ্রহণ ।।
👉 মদ্য পান না করলে (বা ড্রাগ না নিলে) অসুস্থ বােধ করা।
👉 মদ্যপান বা ড্রাগের মাত্রা দিন দিন বেড়ে যাওয়া।
এলকোহল বা ড্রাগ নির্ভরতা মূল্যায়নের বিস্তারিত রয়েছে পরিচ্ছদ ৬.১ জানতে এখানে ক্লিক করুন । অন্যান্য মানসিক অসুখ যেমন: বিভ্রান্তি (Confusion), ডিমেনশিয়া (Dementias) ও শিশুদের মানসিক সমস্যা নিরূপনের জন্য সংশ্লিষ্ট অধ্যায়গুলােয় বিস্তারিত আলােচনা রয়েছে।
সাক্ষাঙ্কার বা ইন্টারভিউ (Interview) এর সময় যা খেয়াল করতে হবে ? ইন্টারভিউ (Interview) বা সাক্ষাৎকার গ্রহনকালে নীচের যে কোন লক্ষন বা উপসর্গ নজরে এলে খেয়াল করতে হবে :
👉 মুখমন্ডলে ভয় বা দুঃখের ছাপ (বিষন্নতা ও সিজোফ্রেনিয়ার ক্ষেত্রে এটা ঘটে)।
👉 অস্থিরতা (Restlessness) অর্থাৎ সুস্থির হয়ে বসতে না পারা । (বিষন্নতা, ড্রাগ। ও এলকোহল আসক্তি এবং উন্মাদনা (Psychoses) এবং কোন কোন সাইকিয়াট্রিক ঔষধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়হিসাবে এটা দেখা যায়)।
👉 আজব বা উদ্ভট চলাফেরা (কিছু সাইকিয়াট্রিক ঔষধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ায়ও সিজোফ্রেনিয়ার ক্ষেত্রে দেখা যায়)।
👉 প্রশ্নের উত্তরে অপ্রাসঙ্গিক উত্তর (উন্মাদ বা Psychoses এর ক্ষেত্রে)।
👉 খুব দ্রুত গতিতে কথা বলা (উন্মাদ বা Psychoses এর ক্ষেত্রে - বিশেষ করে ম্যানিয়ার
👉 কথাবার্তার গতি খুবই শ্লথ বা ধীর হয়ে যাওয়া (বিষন্নতা, মাদকাসক্তি ও সিজোফ্রেনিয়ার ক্ষেত্রে)
👉 রােগীর ব্যক্তিগত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও নিজের যত্ন (বিষন্নতা, মাদকাসক্তি ও সিজোফ্রেনিয়ার ক্ষেত্রে এটি খুব কম থাকবে)।
কিভাবে ইন্টারভিউ (Interview) বা সাক্ষাৎকার নিতে হবে । সাক্ষাক্তার বা ইন্টারভিউর (Interview) ক্ষেত্রে রােগীর স্বাচ্ছন্দ্যবােধ করাটা খুবই জরুরী। কেবল তাহলেই সে মন খুলে আপনার সাথে কথা বলবে। রােগী ইন্টারভিউ বা সাক্ষাঙ্কার কালে নিজের আবেগ, অনুভূতি, উপসর্গ ইত্যাদি নিয়ে আলােচনা করতে কিভাবে স্বাচ্ছন্দ্যবােধ করবে, নীচে এমন কিছু বিষয়ে আলােকপাত করা হলাে:
👉 নিজের পরিচয় দিতে হবে। কোন কোন রােগী সাক্ষাত্তার দানকালে বিভ্রান্ত অথবা সন্দেহপ্রবণ হতে পারে। তাই আপনাকে আপনার পেশাদারী পরিচয় দিতে হবে এবং বলবেন যে, তার স্বাস্থ্যের ইদানিং কালের অবস্থা সম্পর্কে আপনি কথাবার্তা বলতে চান।
👉 সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাধারন কোন বিষয় নিয়ে যেমন, সাম্প্রতিক কোন ঘটনা বা খবর নিয়ে আলাপচারিতা শুরু করুন। অধিকাংশ লােকই যদি দেখে যে স্বাস্থ্যকর্মী তার এলাকার লােক বা তার ভাষায় কথা বলছে, তাহলে সে অনেক সহজ হয়ে আসে ও নিজের সমস্যা, আবেগ ইত্যাদি নিয়ে কথা বলতে শুরু করে।
👉 Emnathy হলাে একটি ইংরেজী শব্দ যার মানে হলাে নিজে অন্য লােকের জায়গায় হলে অনুভূতি কেমন হতাে তা কল্পনা করা। রােগীর অনুভূতিগুলাে, তার পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থা অনুভব করতে পারলে রােগটির ব্যাপারে আপনি আরাে বেশী সচেতন হয়ে উঠবেন। এতে রােগী আপনার সাথে আলােচনায় আরাে বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবােধ করবে।
👉 যে কেউ আপনার পরামর্শ চাইতে এলে তার ক্ষেত্রেই সােনালী প্রশ্নগুলাে করুন। এর উত্তরে কোন সংকেত পাওয়া গেলে
আরাে বিস্তারিত অনুসন্ধানে যান। (পরিচ্ছদ ২.৫ এ বর্নিত চেক লিষ্ট ব্যবহার করুন)
👉 সাক্ষাৎকার গ্রহনকালে প্রধান প্রধান মানসিক অসুখ ও তাদের লক্ষন/ উপসর্গ মনে রাখলে অনেক ক্ষেত্রে তা কাজে আসে। পরিচ্ছদ-১.৩ জানতে এখানে ক্লিক করুন । এটা বিশেষভাবে জরুরী কারন বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় রােগীকে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন না করলে সে তার আবেগজনিত সমস্যা নিয়ে নিজে থেকে কথা বলতে চায় না।
👉 এমন যেন মনে না হয় যে আপনার সময় নিয়ে আপনি চিন্তিত। যেমন, বারবার ঘড়ি দেখা। মনে রাখবেন একজন রােগীর সমস্যা অনুধাবন, রােগ মূল্যায়ন ও চিকিৎসা বাতলে দেয়ার জন্য সাধারনতঃ দশ মিনিট সময়ই যথেষ্ট। তবে বেশী সময় ব্যয় করতে পারাটা আরাে ভালাে।
👉 আত্মীয় স্বজনদের অনুপস্থিতিতে রােগীকে কথা বলার সুযােগ দিন। কেউ মানসিক অসুস্থতায় ভুগছে শুধুমাত্র এরূপ মনে করে সে “নির্ভরযােগ্য নয়” - কাউকে এমন ভাবা অনুচিত।
👉 রােগীর আত্মীয়-স্বজনদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করুন। কারন মানসিক অসুস্থতায় ভুগছে এমন অনেকেই তাদের কোন সমস্যা আছে তা স্বীকারই করে না। আবার অনেকে তাদের আচরনের সমস্যাগুলাে সম্পর্কে নিজেরাই অজ্ঞ। সেক্ষেত্রে রােগীর বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজন চিকিৎসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এমন অনেক তথ্য আপনাকে দিতে পারে।
👉 সাক্ষাৎকার বা ইন্টারভিউ কালে রােগীর দিকে সরাসরি তাকান। চোখে চোখ পড়ার ক্ষেত্রে রােগীর মনে এই ধারনা জন্ম নিতে পারে যে একজন স্বাস্থ্যকর্মী তার কথা গুরুত্ব সহকারে শুনছে।
👉 গােপনীয়তা বা Privacy নিশ্চিত করার চেষ্টা করুন। তবে কোন ব্যস্ত। ক্লিনিকে এটা সম্ভব নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে রােগীর সাথে আলাপচারিতা নীচু স্বরে করুন যেন আপনি ছাড়া অন্য কেউ তা শুনতে না পায়। অথবা রােগীকে অপেক্ষা করতে বলুন যাতে লােকজনের ভীড় কমলে আপনি তার সাথে নিরিবিলিতে কথা বলতে পারেন।
👉 ভবিষ্যতে সূত্র হিসেবে কাজে লাগতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় – যেমন প্রধান উপসর্গ সমূহ, বর্তমান রােগ বিশ্লেষণ, গুরুত্বপূর্ন তথ্য যেমন দাম্পত্য সমস্যা ইত্যাদি নথিভূক্ত করে হেফাজত করুন।
রােগ মূল্যায়নে কিভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেনঃ
সাধারন স্বাস্থ্য সেবা কাঠামােয় অল্প কয়েক প্রকার রােগ মূল্যায়নের প্রয়ােজন হয়। অধ্যায় ২ -এ রয়েছে সাধারনতঃ
স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে লােকজন যেসব অভিযােগ/ সমস্যা নিয়ে আসে তার আলােকে আপনি কিভাবে নানা প্রকার মানসিক অসুস্থতা মূল্যায়ন করতে পারবেন - সে বিষয়ে বিশদ আলােচনা বিভিন্ন প্রকার মানসিক বৈকল্য (পরিচ্ছদ ১.৩ এবং মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন করার জন্য প্রশ্নাবলী যা এই অধ্যায়ে আলােচনা করা হয়েছে তা আপনাকে ভালভাবে আত্মস্থ করতে। হবে। প্রাথমিক অবস্থায় প্রশ্ন গুলাে আপনার সহকর্মীদের সাথে ভালভাবে প্র্যাকটিস করে নিন।
👉 মনে রাখবেন, দুইটি কারনে রােগ নির্ণয় বা নিরূপন (Diagnoses) খুবই গুরুত্বপূর্ণ :
• সঠিক চিকিৎসা প্রদানে এটি আপনাকে পথ দেখাবে।
• রােগীদের অভিযােগ/অসুবিধাগুলাের কারন তাদেরকে বুঝিয়ে বলতে সাহায্য করবে।
মানসিক রােগ অনুধাবনে বিশেষ পরিস্থিতিঃ
মানসিক অসুস্থতা মূল্যায়নে কখনও বিশেষ কিছু পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। এগুলাে হলাে :
👉 এমন কাউকে পরীক্ষা করা যে কথা বলতে চাচ্ছে না।
👉 যার মানসিক অসুখ রয়েছে এমন কারাে শারীরিক অসুবিধা মূল্যায়ন করা ।
👉 টেলিফোনে কারাে রােগ নিরূপন। পরিবারের উপস্থিতিতে কারাে রােগ নিরূপন ।
👉 আক্রমনাত্মব্বা আগ্রাসী কোন ব্যক্তির রােগ নিরূপন (পরিচ্ছদ ৪.১)।
👉 বিভ্রান্তিতে ভুগছে এমন কোন ব্যক্তি রােগ নিরূপন (পরিচ্ছদ ৪.২)।
👉 আত্মহত্যার প্রবণতা সম্পন্ন রােগীর রােগ নিরূপন (পরিচ্ছদ ৪.৪)।
👉 মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে এমন শিশুদের রােগ নিরূপন (অধ্যায় ৮)।
উপরে বর্ণিত প্রথম চারটি পরিস্থিতি নীচে আলােচনা করা হলাে। অন্য চারটি পরিস্থিতি এই ম্যানুয়েলের অন্যান্য অংশে আলােচিত হয়েছে।
কথা বলতে চায় না এমন কারাে রােগ মূল্যায়ন ও অনেক সময় আপনাকে এমন রােগীর সম্মুখিন হতে হবে যে কথাই বলতে চায় না। এর নানা কারন থাকতে পারে। হতে পারে তাকে ক্লিনিকে বা হাসপাতালে আনা হয়েছে বলে সে রেগে গেছে। এমনও হতে পারে যে স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে কথা বললে সবাই তাকে “পাগল” বা “মেন্টাল কেস” হিসেবে লেবেল লাগিয়ে দিবে এই ভেবে সে ভয় পাচ্ছে। আর একটি কারন হতে পারে সে আপনার উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহে ভুগছে।
এমন পরিস্থিতিতে সাধারন পরামর্শ হলাে সময় দিন। সম্ভব হলে রােগীকে নিয়ে একান্তে একটি রুমে বসুন। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে কোন আত্মীয়কে দূরে দাড়াতে বলুন যেন সে বা তারা আপনাদের কথাবার্তা শুনতে না পায়। এতে হয়তাে রােগী তার আবেগজনিত কথাবার্তা বলতে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যবােধ করতে পারে ।
কোন ব্যাপারে বা কোন ভাবে রােগীকে ভয় পাইয়ে দেয়া যাবে না। যেমন আপনি বললেন “আপনার হাতে নষ্ট করার মত। সময় নেই” । বরং কথা বলতে চাচেছ না এমন কাউকে আপনি এভাবে আশ্বস্ত করুন যে আপনি তার সমস্যাগুলাের ব্যাপারে আগ্রহী। লােকটি যদি কথা বলতে না চায় এবং আপনার হাতে কাজ থাকে তাহলে তাকে বলুন যে আপনি হাতের কাজ শেষ করে আরও বেশী সময় নিয়ে তার সাথে বসবেন। এটা সেই ব্যক্তির চিন্তা ভাবনার জন্য আরও কিছুটা সময় পাইয়ে দেবে। একই সাথে তার ব্যাপারে আপনার আগ্রহের ব্যাপারটাও ফুটে উঠবে ।
কখনাে রােগীকে এই বলে ধমক দিয়ে ভয় পাইয়ে দিবেন না যে আপনার হাতে নষ্ট করার মত সময় নেই । (উপরের বামের ছবি)।
বরং তার সমস্যার ব্যাপারে আপনি আন্তরিকভাবে আগ্রহা, রােগাকে এমনভাবে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করুন। (উপরের ডানের ছবি)।
মানসিক অসুস্থতা আছে এমন ব্যক্তির শারীরিক অভিযােগ সমুহ মুল্যায়নঃ
ক স্বাস্থ্যকর্মী জানে যে তার মানসিক অসুখ আছে, নতুন শারীরিক অসুবিধা (মনে করুন মাথা ব্যথা এর অভিযােগ নিয়ে ক্লিনিকে এসেছে। প্রায়শই দেখা যায়, স্বাস্থ্যকর্মীরা যায়, স্বাস্থ্যকমারা ধরেই নেয় তার মানসিক অসুস্থতার এটি একটি শতন উপসর্গ/লক্ষন। স্বাস্থ্যকমার এ ধরনের মনােভাবের কাভাবের কারনে এ ব্যক্তির মারাত্মক শারীরিক অসুখও উপেক্ষিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। মানসিক অসুস্থ ব্যক্তির শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক অসুস্থতায় ভুগছে এমন রােগীর নতুন শারীরিক সমস্যার অভিযােগগুলাে কখনােই উপেক্ষা বা নাকচ করবেন-না; বরং সেগুলাে যথাযথভাবে যাচাই করুন - টেষ্ট করার দরকার মনে হলে সংশ্লিষ্ট টেষ্ট করাতে হবে। মনে রাখবেন, মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি নিজের শারীরিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে উদাসীন হতে পারে। কয়েক ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। উল্লেখযােগ্য উদাহরন হলাে ।
👉 এলকোহল বা ড্রাগ নির্ভরতা যা দৈহিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে। (অধ্যায়-৬)
👉 সন্ত্রাস কিংবা ধর্ষনের শিকার মহিলারা। (পরিচ্ছেদ - ৭.২, ৭.৩)
👉 বয়স্কদের বা প্রবীণদের অসংলগ্ন আচরণ। (পরিচ্ছেদ - ৪.৭)।
👉 বিভ্রান্তি এবং উত্তেজনা, যা প্রায়ই মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারনে হতে পারে। (অধ্যায়-৪.২)
টেলিফোনে রােগ মূল্যায়নঃ
টেলিফোন সুবিধা আছে এমন জায়গায়, লােকে আপনার কাছে টেলিফোনেও পরামর্শ চাইতে পারে। সত্যি বলতে কি, এটি ক্লিনিকে আসার ঝক্কি ও কালক্ষেপন এর হাত থেকে টেলিফোনকারী ও আপনার দু’জনেরই সময় বাঁচায়। এমন হতে পারে, কোন লােক হয়তাে এমন সমস্যা নিয়ে আপনার পরামর্শ চাইতে পারে যা মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে জড়িত। উদাহরনস্বরূপ বলা যায় :
একজন রােগীর মরে যেতে ইচ্ছে করে।
👉 কোন শিশুর সাহায্য দরকার।
👉 এমন লােক যে মাতাল বা বিভ্রান্ত।
👉ক্রোধান্ধৰা রেগে আছে ও নির্যাতনের মানসিকতা সম্পন্ন (Abusive)।
টেলিফোনে ভুয়া পরামর্শ অথবা আশ্বাস দিবেন না। নিম্ন বর্নিত উপায়ে। টেলিফোনকারীর সাথে কথা বলুনঃ
👉 এদের নাম, বয়স, ঠিকানা এবং যে টেলিফোন থেকে কথা বলছে তার নম্বর বের করুন ।
👉 কোন ঘনিষ্ট বন্ধু বা আত্মীয় যার সাথে কলকারী ব্যক্তি কথা বলতে পারে, F+ এমন কেউ আছে কিনা বের করুন। টেলিফোনকারী ব্যক্তিকে তাদের সাথে। এখনই কথা বলতে উৎসাহিত করুন।
👉 টেলিফোনকারী যদি বিভ্রান্ত বা খিস্তি খেউড়ের অবস্থায় আপনার সাথে কথা বলে তা হলে তাকে বুঝিয়ে বলুন যে আপনি তাকে সাহায্য করতে চাচ্ছেন, তবে এর আগে তাকে এটিচ্যুড (Attitude) বা মনােভাব পরিবর্তন করতে হবে, নইলে আপনার পক্ষে তাকে সাহায্য করা সম্ভব নয়। তারপরও যদি তার ব্যবহার অপরিবর্তিত থাকে বা তার মনােভাব অনমনীয় থাকে, তাহলে স্রেফ ফোন রেখে দিন।
👉আপনি যদি মনে করেন রােগ নিরূপন/যাচাই এর জন্য সামনাসামনি মূল্যায়নের প্রয়ােজন – তাহলে তাকে ক্লিনিকে আসতে বলুন।
👉 বিপন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে, তাৎক্ষনিকভাবে স্থানীয় শিশুকল্যান দল অথবা পুলিশকে জানান। শিশুটিকে বলুন সে যেখানে আছে সেখানেই থাকতে এবং শীঘ্রই তার সাহায্যের জন্য লােক পৌছে যাবে।
পরিবারের উপস্থিতিতে কারাে রােগ মূল্যায়নঃ
মানসিক অসুস্থতা নিরূপন ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে পরিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পরিবারকে জড়িত করা ও বােন। ব্যক্তিগত গােপনীয়তার (Privacy) ক্ষেত্রে আপনাকে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। নিয়মটি হলাে, রােগীর সাথে আপনার অন্তত একবার একান্তে আলাপ করার সুযােগ থাকতে হবে। এই সাক্ষাৎকারে আপনি রােগীর পারিবারিক সম্পর্ক ও চাপ সম্পর্কে ধারনা লাভ করবেন। পরবর্তীতে আপনি পরিবারের সদস্যদের সাথে সমস্যাগুলাে নিয়ে আলােচনা করতে পারবেন। তবে রােগী যেসব বিষয় গােপন রাখতে বলে, সেগুলাে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফাঁস করা যাবে না।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে, রােগীর পরিবার অনেক গুরুত্বপূর্ন তথ্য সরবরাহ করতে পারে। উদাহরনস্বরূপ, মারাত্মক মানসিক বৈকল্যে ভুগছে বা এলকোহল বা ড্রাগ নির্ভরশীলতায়। আক্রাক্তি অনেক ক্ষেত্রেই পুরােপুরি চিত্র আপনার কাছে তুলে ধরতে পারবেনা। এইসব ক্ষেত্রে, রােগীর আত্মীয় বা পরিবারের সাথে কথা বললে রােগ মূল্যায়নে কাজে লাগবে এমন অনেক গুরুত্বপূর্ন তথ্য আপনি পেতে পারেন। রােগীর স্বাস্থ্যের তদারকী ও রােগী প্রদত্ত চিকিৎসা যথাযথভাবে নিচ্ছে কি না এসব ক্ষেত্রে আত্মীয় স্বজন বা পরিবার প্রয়ােজনীয় ভূমিকা পালন করতে পারে।
মানসিক অসুস্থতা মূল্যায়নে যা মনে রাখতে হবে ?
👉 মানসিক অসুস্থতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলাে হলাে রােগীর সাথে কথা বলার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়া এবং ধৈর্য্যের সাথে রােগীর কথা শােনার মানসিকতা।
👉 অধিকাংশ মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি তাদের সমস্যার স্বচ্ছ ও সম্পূর্ণ/পুর্নাঙ্গ ধারণা দিতে সক্ষম। আত্মীয় স্বজনরাও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করতে পারে।
👉 মানসিক অসুস্থতায় ভুগছে এমন লােকের চিকিৎসার জন্য একটি নিয়মতান্ত্রিক রােগ নির্ণয় সাক্ষাৎকার হলাে প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। • অধিকাংশ সাধারণ মানসিক অসুখই সুনির্দিষ্ট অভিযােগের ক্ষেত্রে প্রশ্ন করেই নিরূপন করা যায়। ,
👉 মানসিক অসুখে ভুগছে এমন লােক শারীরিক অসুস্থতায়ও ভুগতে পারে। কোন লােকের মানসিক অসুখ আছে - শুধু এ জন্যই শারীরিক অসুবিধাগুলাে কখনােই নাকচ বা উপেক্ষা করা যাবে না ।
আরোও পড়ুন....