মুসলিম বিবাহের হলফনামা করার নিয়ম

মুসলিম বিবাহের হলফনামা করার নিয়ম


হলফনামা মানে কি? 

বিবাহ কিংবা তালাকনামা, জমি ক্রয়-বিক্রয়, জাতীয় পরিচয়পত্র নাম পরিবর্তন ও সংশোধন, মটর সাইকেল বা চার চাকা বিশিষ্ট ও বড়গাড়ী, পাসপোর্ট নাম সংশোধন, চুক্তিনামা ও বিভিন্ন প্রকার মামলা মোকদ্দমা, জমির বায়নানামা পত্র, দোকার ও বাড়ী চুক্তি নামা এবং বিভিন্ন কাজের চুক্তির বিষয় ভিত্তিক কাজের প্রয়োজন পরে , তাকেই এফিডেভিট বা হলফনামা বলা হয়। এফিডেভিট বা হলফনামা হল যে কো বিষয়ে সত্যতাসহ এর সমর্থনস ঘোষণা দেওয়াকেই হলফনামা বা এফিডেভিট বলা হয়।


হলফনামা কত টাকার ষ্ট্যাম্পে করতে হয়?

হলফ নামা যে কোন বিষয় হোক নাম কেন , ২০০( দুই শত টাকার) নন জুডিসিয়াল ষ্টাম্পে অর্থ এর বেশীও টাকার ষ্ট্যাম্পে হলেও কোন সমস্যা নাই। এই বিষয় ষ্ট্যাম্পে লিখে  যে কোন ম্যাজিষ্ট্রেট (প্রথম বা দ্বিতীয়/  তৃতীয় ) অর্থবা নোটরী পাবলিক কার্যলালে  সম্পাদন করা হয়। 



নোটঃ- এই পোষ্টটি শুধুমাত্র শিক্ষনিয় বিষয় ভিত্তিক হিসাবে এখানে আলোচনা করা হয়েফে এবং এভাবে আপনার মুসলিম বিবাহের এফিডেভিট বা হলফনামা করতে পারবেন। 


কোথায় হলফনামা করবেন?

বিবাহের হলফনামা করতে হলে অবশ্যই আপনার নিজ জেলায় করবেন। এবং নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে করতে হব।



বরাবরা  মোকামঃ নোটারী পাবলিকের কার্যালয়, নীলফামারী।



“এফিডেভিট”

 (বিবাহ সংক্রান্ত)



        আমি-বিমল চন্দ্র রায়, বয়স-৩২ বৎসর, পিতা-পুলিন চন্দ্র রায়, সাং-মটুপ পুর, পোঃ-বোড়াগাড়ী, থানা-ডোমার, জেলা-নীলফামারী, ধর্ম-সনাতন(হিন্দু), পেশা-ব্যবসায়, জাতীয়তা- বাংলাদেশী।


       এবং


         আমি-বীণা রানী রায়, বয়স-৩০ বৎসর, পিতা-সুভাষ চন্দ্র রায়, সাং-বড় ভিটা (ডাঙ্গা পাড়া),পোঃ-বড় ভিটা, থানা-কিশোরগঞ্জ, জেলা-নীলফামারী, ধর্ম-সনাতন (হিন্দু), পেশা- গৃহীনি, জাতীয়তা- বাংলাদেশী।


আমরা প্রতিজ্ঞা পূর্বক নিম্নরুপ ঘোষনা করিতেছি যে,


১। যেহেতু- আমারা উভয়েই বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা ও নাগরিক, স্বীয় ভাল মন্দ বিষয়ে সম্যক জ্ঞান সম্পন্ন হলফ করার যোগ্য এবং যে কোন আইনানুগ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ন ক্ষমতা ও অধিকার আমাদের রয়েছে।


২। যেহেতু- আমারা উভয়েই আরো দৃঢ় ভাবে ঘোষনা করছি যে, আমারা উভয়ে দীর্ঘদিন যাবত একে অপরকে চিনি ও জানি। উক্ত চেনা জানার সুবাদে আমাদের মধ্যে প্রেম-ভালবাসার সৃষ্টি হয় এবং আমারা একে অপরকে গভীর ভাবে ভালবাসিতে থাকি। বর্তমানে আমাদের অবস্থা এইরুপ যে, একজন অপরজনকে ছাড়া বাঁচিব না। এমতাবস্থায় আমারা উভয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহন করি এবং উক্তরুপ সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে গত  ০৭/১২/২০১৪ইং তারিখ শুভ লগ্নে অগ্নিযজ্ঞ সপ্তপদী অনুষ্ঠান সম্পাদন পূর্বক হিন্দু সনাতন ধর্মের বিধান অনুযায়ী স্থানীয় মন্দিরে পুরোহিত দ্বারা ধর্মীয় যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনান্তে সিঁদুর শাখা পড়ানো ও মালা বদল করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইয়াছি। বিবাহের পর হইতেই আমারা উভয়েই স্বামী-স্ত্রীরুপে দাম্পত্য জীবন যাপন করছি এবং আমারা আজীবন স্বামী-স্ত্রী হিসাবে ঘর সংসার করব। অদ্য অত্র হলফনামা দ্বারা আমাদের বিবাহের ঘোষনা দিলাম।


ষ্ট্যাম্পের দ্বিথীয় পাতা 

(পাতা-২)


৩। যেহেতু- আমরা আরো ঘোষনা করছি যে, বর্ণিত বিবাহ আমাদের অভিভাবক মহলের চাপে বা অন্য কোন কারনে কোন ভাবে অস্বীকার করিব না। আমাদের এই দাম্পত্য জীবন যাপন কাহারো কোন ওজর আপত্তি থাকিলে সর্ব আইন আদালতে অগ্রাহ্য হবে। 


৪। যেহেতু- আমরা আরো ঘোষনা করিতেছি যে, এই বিবাহে আমাদেরকে কেহ ফুসলায় নাই কিংবা প্ররোচিত করে নাই। আমারা সেচ্ছায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইয়াছি।


৫। যেহেতু- আমরা আরো ঘোষনা করিতেছি যে, অত্র এফিডেভিট আমাদের বিবাহের মূল দলিল হিসাবে সর্ব সমাজে ও সর্ব আদালতে গন্য হইবে। 


৬। যেহেতু-আমি বিমল চন্দ্র রায়, আরোও ঘোষনা করিতেছি যে, আমরা উভয়ে আজীবন স্বামী, স্ত্রী হিসাবে ঘর সংসার করিব। কোন কারন বশতঃ আমাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হইলে আমি আমার স্ত্রী বীণা রানী রায়কে ক্ষতি পূরণ বাবাদ ৫,৫০,০০০/-(পাঁচ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিব।



 উপরোক্ত বিবরণ সমূহ আমাদের জ্ঞান ও বিশ্বাস মতে সত্য জেনে এবং আমরা নিজেরাই পড়ে মর্ম অবগত হইয়া অদ্য নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে উপস্থিত হইয়া কাহাও বিনা প্ররোচনায় নিজ, নিজ নাম সহি/স্বাক্ষর করলাম।

আমি হলফকারীদ্বয়কে চিনি ও জানি ।                                হলফকারীদ্বয়ের সহি/স্বাক্ষরঃ-                             

তাহারা আমার সম্মুখে হাজির হইয়া                                          

নিজ নাম স্বাক্ষর করিলেন।

আমি তাহাদেরকে সনাক্ত করিলাম।                                           

         

    এ্যাডভোকেট                             হলফকারীরর স্বাক্ষরঃ

জজ কোট, নীলফামারী।



হলফনামা করার নিয়ম?

আইনের মাধ্যমে যে বিবাহের রেজিষ্ট্রি করা হয় বা মুসলিম শরীত মতে আইনের মাধ্যমে যে রেজিষ্ট্রি বা নন জুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিবাহ করবেন তাকেই বিবাহে হলফনামা বলা হয়। 



উপসংহারঃ- উপরোক্ত বিষয় আলোচনার সাপেক্ষে।  অবশ্যই আইন ভিত্তিক অনযায়ী আপনাকে সরকারী উকিল এর মাধ্যমে বিবাহের এফিডেভিট বা হলফনামা করতে হবে। তানা হলে আপনি বা আপনার সঙ্গীনির দুজন বিপদে পরবেন। মুসলিম শরীয়ত মতে আইনী ত্তিত্তিতে আপনাকে বিবাহের হলফনামা করতে হবে। এক বলা হয় কোর্ট মেরেজ।


আরোও পড়ুন....

১। জমির বায়না পত্র লেখার নিয়ম  Click Here

২। আপোষ নামা লেখার নিয়ম । স্থানীয় আপোষ নামা Click Here

৩। স্ত্রী কর্তৃক তালাক নামার এফিডেভিট Click Here




Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url