হিন্দু বিবাহের এফিডেভিট বা হলফনামা লেখার নিয়ম

হিন্দু বিবাহের এফিডেভিট বা হলফনামা লেখার নিয়ম

একটি শিক্ষামূলক ড্রাফঃ  আগে ভাল করে পড়ুন

হিন্দু বিবাহের আইন নিবন্ধন ২০১২ সালে অভিহিত করা হইয়াছে।
বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নির্বিশেষে সব হিন্দু ধর্মাবলম্বীর জন্য এই আইন প্রযোজ্য। সকল সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা যে, তারিখ নির্ধারন করা হইবে সেই তারিখ হিন্দু বিবাহ কার্যকর হইবে। SRO (এস, আর, ও) নং ৩০-আইন/২০১৩, তারিখ: ২৭ জানুয়ারি, ২০১৩ ইং দ্বারা ১৪ মাঘ, ১৪১৯ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ২৭ জানুয়ারি, ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ উক্ত হিন্দু আইন কার্যকর হইয়াছে।

হিন্দু বিবাহের নিবন্ধন আইন?

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ সালের ( ২০১২ সনের ৪০ নং আইন কার্যকর )। হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক’’ অর্থ ধারা ৪ এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক করা হইয়াছে।

কিভাবে হিন্দু বিবাহের হলফনামা বা এফিডেভিট করবেন।

নিম্নে দুইটি বাস্তব উদাহরণ সহ আলোচনা করা হইয়াঠছে। নিচের ড্রাফ দুটি খুব ভালো ভাবে এবং সহজ ভাষায় কিভাবে হিন্দু বিবাহের এফিডেভিট বা হলফনামা করবেনন সে সম্পের্কে আলোচনা করা আছে। আপনি ঠিক তেমনকরে লিখে দুটি ১০০+১০০=২০০ টাকা ষ্ট্যাম্পে সাজিয়ে প্রিন্ট করে হিন্দু বিবাহের নিবন্ধটি বা হলফনামাটি করতে পারবেন।

এখান থেকে লেখা শুরু
প্রথম ড্রাফঃ

মোকামঃ নোটারী পাবলিকের কার্যালয়, নীলফামারী।

“এফিডেভিট / হলফনামা” 
(বিবাহ সংক্রান্ত)

    আমি- শ্রী সাগর চন্দ্র রায়, বয়স-২৪ বৎসর, পিতা-শ্রী উপেন চন্দ্র রায়, মাতা শ্রী মতি কিরল বালা রায় সাং-আউয়াল কুটি দক্ষিণ পাড়া, পোঃ- ভবানন্দহাট, থানা ও জেলা-নীলফামারী, ধর্ম-সনাতন (হিন্দু), পেশা- কৃষি, জাতীয়তা-বাংলাদেশী।

এবং

আমি-শ্রী মতি সুমনা রানী রায়, বয়স-২০ বৎসর, পিতা- শ্রী কুরুনা কান্ত রায়, মাতা শ্রী মতি রশনা বালা রায় ,সাং-ধোবাডাঙ্গা, পোঃ-ভবানিগঞ্জ,  থানা ও জেলা-নীলফামারী, ধর্ম-সনাতন (হিন্দু), পেশা- গৃহীনি, জাতীয়তা- বাংলাদেশী।

আমরা প্রতিজ্ঞা পূর্বক নিম্নরুপ ঘোষনা করিতেছি যে,

১। যেহেতু- আমারা উভয়েই বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা ও নাগরিক, স্বীয় ভাল মন্দ বিষয়ে সম্যক জ্ঞান সম্পন্ন হলফ করার যোগ্য এবং যে কোন আইনানুগ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ন ক্ষমতা ও অধিকার আমাদের রয়েছে।

২। যেহেতু- আমারা উভয়েই আরো দৃঢ় ভাবে ঘোষনা করছি যে, আমারা উভয়ে দীর্ঘদিন যাবত একে অপরকে চিনি ও জানি। উক্ত চেনা জানার সুবাদে আমাদের মধ্যে প্রেম-ভালবাসার সৃষ্টি হয় এবং আমারা একে অপরকে গভীর ভাবে ভালবাসিতে থাকি। বর্তমানে আমাদের অবস্থা এইরুপ যে, একজন অপরজনকে ছাড়া বাঁচিব না। এমতাবস্থায় আমারা উভয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহন করি এবং উক্তরুপ সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭/০১/২০22ইং তারিখ শুভ লগ্নে অগ্নিযজ্ঞ সপ্তপদী অনুষ্ঠান সম্পাদন পূর্বক হিন্দু সনাতন ধর্মের বিধান অনুযায়ী স্থানীয় মন্দিরে পুরোহিত দ্বারা ধর্মীয় যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনান্তে সিঁদুর শাখা পড়ানো ও মালা বদল করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইয়াছি। বিবাহের পর হইতেই আমারা উভয়েই স্বামী-স্ত্রীরুপে দাম্পত্য জীবন যাপন করছি এবং আমারা আজীবন স্বামী-স্ত্রী হিসাবে ঘর সংসার করব। অদ্য অত্র হলফনামা দ্বারা আমাদের বিবাহের ঘোষনা দিলাম।

৩। যেহেতু- আমরা আরো ঘোষনা করছি যে, বর্ণিত বিবাহ আমাদের অভিভাবক মহলের চাপে বা অন্য কোন কারনে কোন ভাবে অস্বীকার করিব না। আমাদের এই দাম্পত্য জীবন যাপন কাহারো কোন ওজর আপত্তি থাকিলে সর্ব আইন আদালতে অগ্রাহ্য হবে। 

৪। যেহেতু- আমরা আরো ঘোষনা করিতেছি যে, এই বিবাহে আমাদেরকে কেহ ফুসলায় নাই কিংবা প্ররোচিত করে নাই। আমারা সেচ্ছায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইয়াছি।

৫। যেহেতু- আমরা আরো ঘোষনা করিতেছি যে, অত্র এফিডেভিট আমাদের বিবাহের মূল দলিল হিসাবে সর্ব সমাজে ও সর্ব আদালতে গন্য হইবে। 

৬। যেহেতু-আমি বিমল চন্দ্র রায়, আরোও ঘোষনা করিতেছি যে, আমরা উভয়ে আজীবন স্বামী, স্ত্রী হিসাবে ঘর সংসার করিব। কোন কারন বশতঃ আমাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হইলে আমি আমার স্ত্রী বীণা রানী রায়কে ক্ষতি পূরণ বাবাদ  ............./-  টাকা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিব।

        উপরোক্ত বিবরণ সমূহ আমাদের জ্ঞান ও বিশ্বাস মতে সত্য জেনে এবং আমরা নিজেরাই পড়ে মর্ম অবগত হইয়া অদ্য নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে উপস্থিত হইয়া কাহাও বিনা প্ররোচনায় নিজ, নিজ নাম সহি/স্বাক্ষর করলাম।

আমি হলফকারীদ্বয়কে চিনি ও জানি।                    হলফকারীদ্বয়ের সহি/স্বাক্ষরঃ
তাহারা আমার সম্মুখে হাজির হইয়া
নিজ নাম স্বাক্ষর করিলেন।
আমি তাহাদেরকে সনাক্ত করিলাম।
 এ্যাডভোকেট
জজ কোট, নীলফামারী।

২য়  ফরমেট
এখান থেকে লেখা শুরু

মোকামঃ নোটারী পাবলিকের কার্যালয়, নীলফামারী।
এফিডেভিট

আমি- পলাশ রায়, বয়স-২৩ বৎসর, পিতা- লাল চাঁন রায়, মাতা- ভারতী রানী রায়, সাং-উলটপাড়া, পোঃ- দারোয়ানি, থানা ও জেলা- নীলফামারী, ধর্ম-সনাতন (হিন্দু), পেশা- ব্যবসায়, জাতীয়তা-বাংলাদেশী।

এবং

    আমি- শীমা রানী রায়, বয়স-২০ বৎসর, পিতা- বিশ^নার্থ রায়, মাতা-কবিতা রানী রায়, সাং-ডগরবাড়ী, পোঃ- ডাঙ্গার হাট, থানা- চিনির বন্দর, জেলা-দিনাজপুর, ধর্ম-সনাতন (হিন্দু), পেশা- গৃহীনি, জাতীয়তা-বাংলাদেশী।

আমরা প্রতিজ্ঞা পূর্বক নিম্নরুপ ঘোষনা করিতেছি যে,

১। যেহেতু- আমরা উভয়েই বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা ও নাগরিক, স্বীয় ভাল মন্দ বিষয়ে সম্যক জ্ঞান সম্পন্ন হলফ করার যোগ্য এবং যে কোন আইনানুগ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ন ক্ষমতা ও অধিকার আমাদের রয়েছে।

২। যেহেতু- আমরা উভয়েই আরো দৃঢ় ভাবে ঘোষনা করিতেছি যে, আমরা উভয়ে দীর্ঘদিন যাবত একে অপরকে চিনি ও জানি। উক্ত চেনা জানার সুবাদে আমাদের মধ্যে প্রেম-ভালবাসার সৃষ্টি হয় এবং আমরা একে অপরকে গভীর ভাবে ভালবাসিতে থাকি। বর্তমানে আমাদের অবস্থা এইরুপ যে, একজন অপরজনকে ছাড়া বাঁচিব না। এমতাবস্থায় আমরা উভয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহন করি এবং উক্তরুপ সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে গত ০৭/০৭/২০১৭ইং তারিখ শুভ লগ্নে অগ্নিযজ্ঞ সপ্তপদী অনুষ্ঠান সম্পাদন পূর্বক হিন্দু সনাতন ধর্মের বিধান অনুযায়ী স্থানীয় মন্দিরে পুরোহিত দ্বারা ধর্মীয় যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনান্তে সিঁদুর শাখা পড়ানো ও মালা বদল করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইয়াছি। বিবাহের পর হইতেই আমরা উভয়েই স্বামী-স্ত্রীরুপে দাম্পত্য জীবন যাপন করছি এবং আমরা আজীবন স্বামী-স্ত্রী হিসাবে ঘর সংসার করব। অদ্য অত্র হলফনামা দ্বারা আমাদের বিবাহের ঘোষনা দিলাম।

৩। যেহেতু- আমরা আরো ঘোষনা করিতেছি যে, বর্ণিত বিবাহ আমাদের অভিভাবক মহলের চাপে বা অন্য কোন কারনে কোন ভাবে অস্বীকার করিব না। আমাদের এই দাম্পত্য জীবন যাপন কাহারো কোন ওজর আপত্তি থাকিলে সর্ব আইন আদালতে অগ্রাহ্য হবে। 

৪। যেহেতু- আমরা আরো ঘোষনা করিতেছি যে, এই বিবাহে আমাদেরকে কেহ ফুসলায় নাই কিংবা প্ররোচিত করে নাই। আমারা সেচ্ছায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইয়াছি।

৫। যেহেতু- আমরা আরো ঘোষনা করিতেছি যে, অত্র এফিডেভিট আমাদের বিবাহের মূল দলিল হিসাবে সর্ব সমাজে ও সর্ব আদালতে গন্য হইবে। 

৬। যেহেতু-আমি পলাশ রায়, আরোও ঘোষনা করিতেছি যে, আমরা উভয়ে আজীবন স্বামী, স্ত্রী হিসাবে ঘর সংসার করিব। কোন কারন বশতঃ আমাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হইলে আমি আমার স্ত্রী শীমা রানীা রায়কে ক্ষতি পূরণ বাবাদ ৮০,০০০/-(আশি হাজার) টাকা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিব।

    উপরোক্ত বিবরণ সমূহ আমাদের জ্ঞান ও বিশ্বাস মতে সত্য জেনে এবং আমরা নিজেরাই পড়ে মর্ম অবগত হইয়া অদ্য নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে উপস্থিত হইয়া কাহারও বিনা প্ররোচনায় নিজ, নিজ নাম সহি/স্বাক্ষর করলাম।

আমি হলফকারীদ্বয়কে চিনি ও জানি।        হলফকারীদ্বয়ের সহি/স্বাক্ষরঃ-                             
তাহারা আমার সম্মুখে হাজির হইয়া
নিজ নাম স্বাক্ষর করিলেন।
আমি তাহাদেরকে সনাক্ত করিলাম।            সাক্ষীগনের সহি/স্বাক্ষরঃ-
    এ্যাডভোকেট
জজ কোট, নীলফামারী।

শেষকথা:
    উপরোক্ত হিন্দু বিবাহের আইন নিবন্ধন কার্যকর অনুসারে আপনার বিবাহের এফিডেভিট বা হলফনামা নিবন্ধন করবেন। তাহলে হিন্দু বিবাহ সার্টিফিকেট বৈধ হবে। হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রি আইনের মোট কয়টি ধারা রয়েছে। উত্তর ৪টি ধারা আছে। এই ধারা অনুযায়ী হিন্দু বিবাহ হয়।

হিন্দু বিবাহ আইন pdf ডাউনলোট করতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন। Click

হিন্দু বিবাহ আইন বাংলাদেশ

আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশে হিন্দু বিবাহ আইন প্রণয়নের জন্য নাগরিক গোষ্ঠীগুলির দ্বারা তৈরি করা খসড়া আইনটি হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সাথে আলোচনা করা হবে।সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ নামে জাতীয় ও জেলা পর্যায়ের ৫০টি নারী ও মানবাধিকার সংগঠনের একটি ফ্রন্ট আইন মন্ত্রণালয়ে খসড়াটি জমা দিয়েছে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url