যৌথমূলধনী কোম্পানির আইনগত বৈশিষ্ট্যসমূহ আলােচনা (বিবিএ অর্নাস) legal characteristics

প্রশ্ন ১.৩। যৌথমূলধনী কোম্পানির আইনগত বৈশিষ্ট্যসমূহ আলােচনা কর। (Discuss the legal characteristics of joint-stock company.)

উত্তর প্রারিম্ভক কথাঃ যৌথমূলধনী কোম্পানি ব্যবসায় সংগঠনের একটি পৃথক রূপ। যৌথমূলধনী কোম্পানির যে সকল বৈশিষ্ট্য আইনের মাধ্যমে সৃষ্ট হয় তাকে আইনগত বৈশিষ্ট্য বলে। নিম্নে যৌথমূলধনী কোম্পানির আইনগত বৈশিষ্ট্যসমূহ আলােচনা করা হলােঃ

১। আইনের সৃষ্টিঃ কোম্পানি আইন দ্বারা বা অন্য কোন সুনির্দিষ্ট আইন দ্বারা কোম্পানি গঠিত হয়। বাংলাদেশে ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী এটি গঠিত, নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়ে থাকে।

২। কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তাঃ কোম্পানি আইনের দৃষ্টিতে কোম্পানির একটি কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা রয়েছে। তাই এটি নিজ নামে পরিচালিত হয়।

৩। নিবন্ধনঃ কোম্পানি অবশ্যই বলবৎযােগ্য আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত হবে। নিবন্ধন। ছাড়া কোন কোম্পানি গঠিত হয় না।

৪। সীলমােহরঃ প্রত্যেক কোম্পানির নিজস্ব নামে অঙ্কিত সীলমােহর থাকে। এ সীলমােহর কোম্পানির প্রয়ােজনীয় কাগজপত্র ও তৃতীয় পক্ষের সাথে বিভিন্ন চুক্তিতে ব্যবহার করে থাকে।

৫। চিরন্তন অস্তিত্বঃ কোম্পানি চিরন্তন অস্তিত্বের অধিকারী। কোম্পানির সকল শেয়ারহােল্ডারদের মৃত্যুতে বা পরিবর্তনে এর অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয় না।

৬। শেয়ার হস্তান্তরঃ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা হতে মালিকানা পৃথক হওয়ায় শেয়ার মালিকগণ সহজেই তাদের শেয়ার অন্যের নিকট হস্তান্তর করতে পারে।

৭। সদস্য সংখ্যাঃ পাবলিক লিঃ কোম্পানির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সদস্য সংখ্যা হলাে সাতজন এবং সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা স্মারকলিপিতে উল্লেখ থাকবে। আর প্রাইভেট লিঃ কোম্পানির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সদস্য সংখ্যা হলাে দুইজন এবং সর্বোচ্চ সদস্য। সংখ্যা হলাে পঞ্চাশজন।

৮। সীমাবদ্ধ দায়ঃ কোম্পানির শেয়ারহােল্ডারদের দায় সাধারণত সীমিত। ক্রীত শেয়ারের মূল্যের দ্বারা কিংবা প্রতিশ্রুত অর্থের জামিন দ্বারা শেয়ারহােল্ডারগণ দায়বদ্ধ থাকেন।

৯। শেয়ার মূলধনঃ কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোম্পানির অনুমােদিত মূলধনকে কতকগুলাে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমান এককে বিভক্ত করা হয়। এক একটা একককে শেয়ার বলা হয়।

১০। সম্পত্তির মালিকানাঃ কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধনের পর এটি কৃত্রিম সত্তা লাভ করে বলে এ সকল সম্পত্তির মালিকানা কোম্পানির উপর বর্তাবে। কোম্পানির উদ্যোক্তা বা। পরিচালক বা সদস্যদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি এক্ষেত্রে সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে না।

১১। বিধিবদ্ধ দায়িত্বঃ কোম্পানি হিসেবে স্বীকৃতি লাভের পর প্রত্যেক কোম্পানিকে কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয়। বিধিবদ্ধ দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতার কারণে কোম্পানির নিবন্ধন পর্যন্ত বাতিল হয়ে যেতে পারে।

১২। ঋণ সংগ্রহঃ অর্থের প্রয়ােজন হলে কোম্পানি বাজারে ঋণপত্র ছাড়তে পারে। এছাড়া নিয়মানুসারে কোম্পানির অতিরিক্ত শেয়ার বিক্রি করে কোম্পানি মূলধন বদ্ধি করতে পারে।

১৩। পরিচালক পর্ষদঃ প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির পরিচালক পর্ষদ থাকা। বাধ্যতামূলক না হলেও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির পরিচালক পর্ষদ থাকা বাধ্যতামূলক।

১৪। মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথকঃ এটি যৌথমূলধনী কোম্পানির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এক্ষেত্রে কোম্পানির শেয়ারহােল্ডারগণ ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। তাদের ভােটের দ্বারা নির্বাচিত পরিচালকগণই ব্যবসায় পরিচালনার দায়িত্বগ্রহণ করে থাকে।

পরিশেষে বলা যায়, যৌথমূলধনী কোম্পানির উপরােক্ত আইনগত বৈশিষ্ট্যগুলাে পরিলক্ষিত হয়। আর এ সব বৈশিষ্ট্যই যৌথমূলধনী কোম্পানিকে অন্যান্য সব ব্যবসায় সংগঠন থেকে স্বতন্ত্র মর্যাদা প্রদান করেছে।

বিবিএ অনার্স (BBA Houns) এর সল প্রশ্ন জানার জন্য এই ওয়েবসাইট মনে রাখুন এবং ভিজিট করুন প্রতিদিন. সকল প্রশ্নের উত্তর জানতে।

আরো পড়ুনঃ

১। যৌথমূলধনী কোম্পানি বলতে কি বুঝ?

২। কোম্পানি আইনের ঐতিহাসিক পটভূমির আলোচনা কর।

৩। ঘরে বসে স্পোকেন ইংলিশ

যৌথমূলধনী কোম্পানির আইনগত বৈশিষ্ট্যসমূহ আলােচনা (বিবিএ অর্নাস) legal characteristics


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url