যৌথমূলধনী কোম্পানির সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ আলােচনা

আরো পড়ুনঃ
২। কোম্পানি আইনের ঐতিহাসিক পটভূমির আলোচনা কর।
৩। যৌথমূলধনী কোম্পানির আইনগত বৈশিষ্ট্যসমূহ আলােচনা
প্রশ্নঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ আলােচনা কর। (Discuss the general characteristics of joint-stock company.)
উত্তরঃ প্রারম্ভিক কথাঃ যৌথমূলধনী কোম্পানি ব্যবসায় সংগঠনের একটি পথক রূপ। যৌথমূলধনী কোম্পানির আইনগত বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
নিম্নে বৈশিষ্ট্যগুলাে আলােচনা করা হলাে :
১। স্বেচ্ছামূলক সংস্থাঃ যৌথমূলধনী কোম্পানি একটা স্বেচ্ছামূলক সংস্থা। কতিপয় ব্যক্তি স্বেচ্ছায় মিলিত হয়ে সামর্থ্য অনুযায়ী মূলধন সরবরাহ করে এ কোম্পানি গঠন করে।
২। জটিল গঠন প্রণালীঃ আইন সৃষ্ট প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এ কোম্পানির গঠন প্রণালী কিছুটা জটিল। এ কোম্পানি গঠনে অধিক আনুষ্ঠানিকতার প্রয়ােজন হয়।
৩। অধিক মূলধনঃ এ কোম্পানিতে অধিক মূলধন গঠনের সুযােগ রয়েছে। সদস্য বা মালিকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এর মূলধনের পরিমাণ বেশি হয়ে থাকে।
৪। গণতান্ত্রিক নীতিঃ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় গণতান্ত্রিক নীতি অনুসৃত হয়। কেননা কোম্পানির যাবতীয় বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত নিয়ে কোম্পানি পরিচালনা করা হয়।
৫। কর প্রদানঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির আয়ের পরিমাণ বেশি বলে অন্যান্য কোম্পানি অপেক্ষা অধিক পরিমাণে কর প্রদান করতে হয়।
৬। মুনাফা বণ্টনঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির অর্জিত মুনাফা শেয়ারহােল্ডারদের মধ্যে পরিশােধিত মূলধন অনুপাতে বণ্টন করা হয়।
৭। দক্ষ ব্যবস্থাপনাঃ পৃথক ব্যবস্থাপনার কারণে যৌথমূলধনী কোম্পানি দক্ষ ব্যবস্থাপনার অধিকারী হয়ে থাকে।
৮। বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানঃ প্রচুর সদস্য সংখ্যা, অধিক মূলধন, বিস্তত কার্যক্ষেত্রের কারণে যৌথমূলধন কোম্পানি বৃহদায়তন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
৯। নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যঃ কোম্পানির স্মারকলিপিতে যৌথমূলধনী কোম্পানির উদ্দেশ্যসমূহ উল্লেখ থাকে। এ সকল উদ্দেশ্য কোম্পানির পালন বাধ্যতামূলক, অন্যথায় অবৈধ ও ক্ষমতা বহির্ভূত কাজ হিসেবে গণ্য হয়।
১০। সদস্য পদঃ যে কোন ব্যক্তি কোম্পানির এক বা একাধিক শেয়ার ক্রয় করে কোম্পানির সদস্যপদ অর্জন করতে পারে।
১১। স্বায়ত্তশাসনঃ যৌথমূলধনী কোম্পানি স্বায়ত্তশাসন ভােগ করে। কেননা পরিচালনা বাের্ডের সিদ্ধান্ত মােতাবেক এটি পরিচালিত হয়।
১২। অবসায়নঃ কোম্পানি গঠন যেমনি আনুষ্ঠানিকতাপূর্ণ, তেমনি এর অবসায়নও আনুষ্ঠানিকতাকে এড়াতে পারে না। সদস্যগণ ইচ্ছা করলেই যৌথমূলধনী কোম্পানির বিলােপ সাধন করতে পারে না।
উপসংহারঃ পরিশেষে বলা যায়, যৌথ মূলধনী কোম্পানির উপরােক্ত সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলাে রয়েছে। এ সকল বৈশিষ্ট্যের কারণে যৌথমূলধনী কোম্পানি সারা বিশ্বে সর্বাধিক জনপ্রিয় ব্যবসায় সংগঠন হিসেবে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।
BBA HOUNs এর সকল প্রশ্ন জানতে বা পড়তে আমাদের এই ওয়েবসাইটে থাকুন। নিয়মমিত এখান পোষ্ট হয়।
আরো পড়ুন : ঘরে বসে স্পোকেন ইংলিশ