পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি কাকে বলে? পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির বৈশিষ্ট্যসমূহ

১। যৌথমূলধনী কোম্পানি বলতে কি বুঝ? ২। কোম্পানি আইনের ঐতিহাসিক পটভূমির আলোচনা কর। ৩। যৌথমূলধনী কোম্পানির আইনগত বৈশিষ্ট্যসমূহ আলােচনা কর। ৪। যৌথমূলধনী কোম্পানির সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ আলােচনা কর। ৫। যৌথমূলধনী কোম্পানির সুবিধাসমূহ আলােচনা কর।

প্রশ্নঃ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি কাকে বলে? (What is public limited company?)

উত্তরঃ যে যৌথ মূলধনী কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন সাতজন এবং সর্বোচ্চ শেয়ার সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ, যার শেয়ার ও ঋণপত্র জনগণের উদ্দেশ্যে বিক্রয়ের লক্ষ্যে আবেদন জানাতে পারে এবং যার শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযােগ্য তাকেই পাবলিক লিমিটেড। কোম্পানি বলে।

নিম্নে পাবালক।লমিটেড কোম্পানির দু’টি সংজ্ঞা তুলে ধরা হলােঃ

১। বাংলাদেশে বহাল ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ২.১ (ঞ) ধারায় ১ হয়েছে যে, “পাবলিক কোম্পানি বলতে এ আইন বা এ আইন প্রবর্তন অব্যবহিত পূর্বে বলবৎ কোন আইনের অধীনে নিয়ন্ত্রিত এমন কোন কোম্পানিতে বােঝায় যা প্রাইভেট কোম্পানি নয়।”

২। ভারতে বহাল ১৯৫৬ সালের কোম্পানি আইনের ৩.১ (গ) ধারায় বলা হয়েছে যে, “পাবলিক কোম্পানি বলতে এমন কোম্পানিকে বােঝায়, যা কোন প্রাইভেট কোম্পানি নয়।”

সুতরাং দেখা যায় যে, দেশে বহাল কোম্পানি আইন অনুযায়ী পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত অথবা এর পূর্বে বহাল ছিল এমন কোন আইন অনুযায়ী পাবলিক কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত ও বিদ্যমান কোন কোম্পানিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে।

প্রশ্নঃ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির বৈশিষ্ট্যসমূহ আলােচনা কর। (Discuss the characteristics of public limited company.)

উত্তরঃপ্রারম্ভিক কথাঃ একদিকে কোম্পানিী জগতে ব্যাপক উন্নয়ন অন্যদিকে একমালিকানা ও অংশীদারী কোম্পানির সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন সংগঠন। যৌথমূলধনী কোম্পানির উৎপত্তি ঘটে। পরবর্তীতে কোম্পানিী জগতে আরাে ব্যাপক উন্নয়ন এ কোম্পানির গতি-প্রকৃতিতেও পরিবর্তনের সূচনা করে। যার ফলে বিভিন্ন ধরনের কোম্পানির উদ্ভব হয়। প্রাইভেট লিঃ কোম্পানি তাদের মধ্যে অন্যতম।

নিম্নে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির বৈশিষ্ট্যসমূহ আলােচনা করা হলাে :

১। গঠন প্রণালী: এ ধরনের কোম্পানি গঠনে আইনগত আনুষ্ঠানিকতা পালন করতেহয়। এ কারণে এর গঠন বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ।

২। সদস্য সংখ্যাঃ আইন অনুযায়ী এ কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন সাতজন এবং সর্বোচ্চ স্মারকলিপিতে বর্ণিত শেয়ার সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে।

৩। বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানঃ সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে বা প্রয়ােজনে নতুন মূলধন সংগ্রহের সুযােগ থাকায় এরূপ সংগঠন বৃহদায়তন প্রকৃতিতে গড়ে উঠে।

৪। বিবরণীপত্র এ কোম্পানি শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বিবরণীপত্র তৈরি। ও তা জনগণের উদ্দেশ্যে প্রচার করতে পারে।

৫। শেয়ার মূলধনঃ এর মূলধনকে কতকগুলাে ক্ষুদ্র সমান এককে শেয়ারে ভাগ করা হয়। যা বিক্রয়ের মাধ্যমে কোম্পানি শেয়ার মূলধন সগ্রহ করে।

৬। শেয়ার হস্তান্তরযােগ্যতাঃ এরূপ কোম্পানির শেয়ার অন্য শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হলে এর শেয়ার অবাধে ক্রয়, দিন ।

৭। বিধিবদ্ধ সভা ও বিধিবদ্ধ বিবরণীঃ কোম্পানি গঠনের কমপক্ষে এক মাস ও অনর্ধ ছ'মাসের মধ্যে এ কোম্পানিকে বিধিবদ্ধ সভা আহ্বান করতে হয় এবং এর বিধিবদ্ধ বিবরণী নিবন্ধকের নিকট জমা দিতে হয়।

৮। ন্যনতম মূলধনঃ কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র সংগ্রহ ও শেয়ার বিলির জন্য একে অবশ্যই পরিমেল নিয়মাবলীতে বর্ণিত ন্যূনতম মূলধন অর্থ সংগ্রহ করতে হয়। অন্যথায় এরূপ কোম্পানি কাজ শুরু করতে পারে না।

৯। পরিচালক পর্ষদ গঠনঃ এ কোম্পানিকে বাধ্যতামূলকভাবে শেয়ারহােল্ডারদের ভােটে নির্বাচিত একটি পরিচালক পর্ষদ গঠন এবং আইনের বিধান অনুযায়ী তাকে পরিচালনা করতে হয়। |

১০। হিসাবের বাধ্যবাধকতাঃ এ ধরনের কোম্পানিকে বাধ্যতামূলকভাবে বিভিন্ন হিসাব বহি সংরক্ষণ করার প্রয়ােজন পড়ে।

১১। মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার ভিন্নতাঃ আইনানুগভাবে এ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা মালিকানা হতে পৃথক নয়। দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা বেতনভুক তৃতীয় পক্ষের উপর ন্যস্ত থাকে।

১২। সভা অনুষ্ঠানঃ এ কোম্পানিকে আইন অনুযায়ী যথানিয়মে বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠান ও এ জন্য আইনে বর্ণিত প্রয়ােজনীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয়।

১৩। সদস্যদের দায়ঃ এরূপ কোম্পানির সদস্যদের দায় স্মারকলিপির বর্ণনা অনুযায়ী | শেয়ার দ্বারা বা প্রতিশ্রুতি মূল্য দ্বারা সীমাবদ্ধ হয়ে থাকে।

১৪। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনাঃ এরূপ কোম্পানির পরিচালক নির্বাচন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক নীতিমালা অনুসরণ করা হয়।

১৫। স্বেচ্ছাপ্রণােদিত সংস্থাঃ শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় এরূপ ব্যবসায়ের যেমনি কেউ শেয়ার মালিক হতে পারে তেমনি ইচ্ছে করলে সহজেই তা হস্তান্তরও করতে পারে। তাই এটি একটি স্বেচ্ছাপ্রণােদিত সংস্থা।

১৬। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানঃ কোম্পানি আইনের চৌহদ্দির মধ্যে স্মারকলিপি ও পরিমেল নিয়মাবলীর অনুসরণ করে এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে।

১৭। চিরন্তন অস্তিত্বঃ এটি একটি কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তার অধিকারী ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। মালিক হতে এর সত্তা সম্পূর্ণ পৃথক, যা নিজ নামে পরিচিত ও পরিচালিত হতে পারে।

উপসংহারঃ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির উপরােক্ত বৈশিষ্ট্যগুলাে রয়েছে। আর এসব বৈশিষ্ট্যই একে অন্যান্য কোম্পানি হতে বিশেষরূপ প্রদান করেছে।

আরো পড়ুন ও জানুন:- আরো পড়ুন

ইংরেজি শিক্ষুনঃ ঘরে বসে স্পোকেন ইংলিশ

বিবিএ অনার্স এর সকল উত্তর জানতে আমাদের এই ইউনিক ওয়েবসাইটের সংঙ্গ থাকুন।

ধন্যবাদ

পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি কাকে বলে? পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির বৈশিষ্ট্যসমূহ


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url