প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি কাকে বলে? বৈশিষ্ট্যসমূহ - সুবিধাসমূহ - আইনগত
প্রশ্ন ১. প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি কাকে বলে? (What is private limited company?)
উত্তরঃ যে যৌথমূলধনী কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সবনম দু জন এবং পঞ্চাশজনে সীমাবদ্ধ এবং যার শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযােগ্য নয় তাকে প্রাইভেট লি। কোম্পানি বলে।
প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির দুটি জনপ্রিয় সংজ্ঞা তুলে ধরা হলাে।
১। বাংলাদেশে বহাল ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ২.১ (ট ধারায় হয়েছে যে, “প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলতে এমন কোম্পানিকে বােঝায়। এ নিয়মাবলী অনুসারে এর সদস্য সংখ্যা ৫০ জনে সীমাবদ্ধ রাখে, সদস্য শেয়ার হস্তান্তরের অধিকারে সীমাবদ্ধতা আরােপ করে এবং শেয়ার ও ঋtes ক্রয়ের জন্য জনসাধারণের প্রতি আহবান নিষিদ্ধ করে।”
২। Rechman and Others-এর মতে, “যে কোম্পানি জনসাধারণের নিকট শেয়ার বিক্রয় নিষিদ্ধ করে এবং অন্য উৎস হতে ঋণ গ্রহণের চেয়ে নিজেদের আয়কে প্রাধান্য দেয় তাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।”
আইনের দৃষ্টিতে এটি একটি স্বতন্ত্র ও কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তার অধিকারী। এর একটি নিজস্ব। সীলমােহর থাকে। কোম্পানির যাবতীয় দলিল ও কাগজপত্রে এর ব্যবহার আবশ্যক। এর সদস্যদের দায়-দায়িত্ব সীমিত থাকে। প্রাইভেট লিঃ কোম্পানি বিবরণীপত্র প্রচার করে খােলাবাজারে শেয়ার বা ঋণপত্র বিক্রয় করতে পারে না। আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত লােকদের মধ্যে পারস্পরিক আলাপ আলােচনার মাধ্যমে যৌথ উদ্যোগে এ কোম্পানি গঠিত হয়।

প্রশ্ন ॥ ২. প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা কর।
(Describe the characteristics of private limited company.)
উত্তরঃ প্রারম্ভিক কথাঃ একদিকে কোম্পানিী জগতে ব্যাপক উন্নয়ন অন্যদিকে একমালিকানা ও অংশীদারী কোম্পানির সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন সংগঠন যৌথমূলধনী কোম্পানির উৎপত্তি ঘটে। পরবর্তীতে কোম্পানিী জগতে আরাে ব্যাপক উন্নয়ন এ কোম্পানির গতি-প্রকৃতিতেও পরিবর্তনের সচনা করে। যার ফলে বিভিন্ন ধরনের কোম্পানির উদ্ভব হয়। প্রাইভেট লিঃ কোম্পানি তাদের মধ্যে অন্যতম।
প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির যে সকল বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায় তা নিয়ে বর্ণনা কর হলােঃ
১। গঠন প্রণালীঃ আইনগত আনুষ্ঠানিকতা পালনের মাধ্যমে এ কোম্পানি গত তথাপি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি অপেক্ষা এর গঠন অনেক সহজ।
২। সদস্য সংখ্যাঃ এ কোম্পানির সর্বনিম্ন সদস্য সংখ্যা দ’জন এবং সর্বােচ্চ পথ। জন থাকে। এর অতিরিক্ত সদস্য এতে নেয়া যায় না।
৩। মূলধনঃ এত সদস্য সংখ্যা কম থাকায় সাধারণত মূলধনের পরিমাণ কম হয়ে থাকে।
৪। বিবরণীপত্রঃ শেয়ার বিক্রয়ের জন্য এ কোম্পানি বিবরণীপত্র বা তার বিকল্প বিবৃতি প্রচার করতে পারে না।
৫। শেয়ার হস্তান্তরঃ এরূপ কোম্পানির শেয়ার বাজারে অবাধে হস্তান্তরযােগ্য নয়। অর্থাৎ এর শেয়ার মালিকানা হস্তান্তর করা যায় না।
৬। পরিচালক পর্ষদঃ কমপক্ষে দু’জন পরিচালক থাকলেই এ ব্যবসায়ের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা কার্য চলতে পারে।
৭। দায়ঃ এ কোম্পানির শেয়ার মালিকদের দায় তাদের ক্রীত শেয়ার মূল্য দ্বারা সীমাবদ্ধ। তবে স্মারকলিপিতে উল্লেখ থাকলে প্রতিশ্রুতি দ্বারাও সীমাবদ্ধ হতে পারে।
৮। সহজ ব্যবস্থাপনাঃ আইনগত ঝামেলা কম থাকায় এর ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা কিছুটা সহজ হয়।
৯। নামঃ এরূপ কোম্পানির নামের শেষে প্রাইভেট লিমিটেড’ শব্দগুলাে লিখে দিতে হয়। কোম্পানি আইনে এ বিধান রয়েছে।
১০। হিসাবপত্রঃ এরূপ কোম্পানির লাভ-ক্ষতির হিসাব ও উদ্বৃত্তপত্রের অনুলিপি | নিবন্ধকের নিকট দাখিল করতে হয় না।
১১। কার্যারম্ভের অনুমতিপত্রঃ নিবন্ধিত হবার পরই এ ব্যবসায় কার্য আরম্ভ করতে পারে এর জন্য আলাদাভাবে কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র সগ্রহ করার প্রয়ােজন হয় না।
উপসংহারঃ উপরােক্ত বৈশিষ্ট্যগুলাে বিবেচনা করলে দেখা যায়, প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি অংশীদারি কোম্পানির বিভিন্ন সুবিধা অর্জনের পাশাপাশি কোম্পানির সুবিধাসমূহ অর্জন করতে পারে।
প্রশ্ন । ৩. প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সুবিধাসমূহ আলােচনা কর।
(Discuss the advantages of private limited company.)
উত্তরঃ প্রারম্ভিক কথাঃ একদিকে কোম্পানিী জগতে ব্যাপক উন্নয়ন অন্যদিকে একমালিকানা ও অংশীদারী কোম্পানির সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন সংগঠন | যৌথমূলধনী কোম্পানির উৎপত্তি ঘটে। পরবর্তীতে কোম্পানিী জগতে আরাে ব্যাপক উন্নয়ন এ কোম্পানির গতি-প্রকৃতিতেও পরিবর্তনের সূচনা করে। যার ফলে বিভিন্ন ধরনের কোম্পানির উদ্ভব হয়। প্রাইভেট লিঃ কোম্পানি তাদের মধ্যে অন্যতম।
নিম্নে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সুবিধাসমূহ আলােচনা করা হলাে :
১। সহজ গঠন প্রণালীঃ প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি নির্দিষ্ট আইনের আওতায় গঠিত হলেও এতে কম আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয়। ফলে এর গঠন অনেকটা সহজ ও সুবিধাজনক।
২। সদস্য সংখ্যাঃ ন্যুনতম দু’জন সদস্য নিয়েই এ ব্যবসায় গঠন করা যায় যা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি করতে পারে না।
৩। কার্যারম্ভঃ নিবন্ধনপত্র সংগ্রহ করার পরই এ কোম্পানি কার্য আরম্ভ করতে পারে। এর জন্য নিবন্ধনের অনুমতিপত্র সংগ্রহের প্রয়ােজন নেই।
৪। বিবরণীপত্রঃ এ কোম্পানির বিবরণীপত্র বা বিবরণীপত্রের বিকল্প বিবৃতি নিবন্ধকের নিকট পেশ করার বাধ্যবাধকতা নেই।
৫। সদস্য তালিকাঃ কোম্পানি আইনের বিধিমােতাবেক এরূপ কোম্পানির সদস্যের নামের তালিকা নিবন্ধকের নিকট পেশ করতে হয় না ।
৬। দায়-দায়িত্বঃ এ কোম্পানির সদস্যদের দায় সীমাবদ্ধ। ফলে অসীম দায়ের ঝুঁকি থেকে তারা রেহাই পায়।
৭। দক্ষ ব্যবস্থাপনাঃ এ কোম্পানির ব্যবস্থাপনার সাথে শেয়ার মালিকানা প্রত্যক্ষভাবে। জড়িত থাকে। ফলে তারা যত্নের সাথে ব্যবসায় পরিচালনা করে এবং এর ব্যবস্থাপনা দক্ষ হয়।
৮। শেয়ার মালিকদের পারস্পরিক সম্পর্কঃ শেয়ার মালিকের সংখ্যা কম থাকায় তাদের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। এরূপ সম্পর্ক অন্য কোন বড় কোম্পানিতে বিরাজ করে না।
৯। প্রত্যক্ষ সম্পর্কঃ শেয়ার মালিকগণের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এ ব্যবসায় পরিচালিত হয়। বিধায় মালিকদের সাথে কর্মচারী ও ততীয় পক্ষের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক গড়ে উঠে।
১০। গােপনীয়তা রক্ষাঃ এ কোম্পানির সদস্য সংখ্যা কম থাকায় এবং ব্যবসায়ের হিসাবপত্রাদি আইনগতভাবে শেয়ারহােল্ডার বা নিবন্ধকের নিকট দাখিল করতে হয় বিধায় অধিক মাত্রায় এর গােপনীয়তা রক্ষা করা যায়।
১১। নমনীয়তাঃ ব্যবসায়ের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় এর সদস্যরাই নিয়ােজিত থাকার কারণে যে কোন বিষয়ে দ্রুততার সাথে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় বা গৃহীত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা যায়।
১২। অযােগ্য ব্যক্তিদের প্রবেশ রােধঃ এ ব্যবসায়ে অবাধ শেয়ার হস্তান্তর ও শেয়ার বিক্রয়ের সুযােগ নেই বলে কোন অযােগ্য ব্যক্তি এতে প্রবেশ করতে পারে না।
১৩। ব্যয় সংকোচঃ এ ব্যবসায়ের হিসাবপত্র নিবন্ধকের নিকট পেশ করতে হয় না। এছাড়াও বিবিধ ক্ষেত্রে কম আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয়। ফলে এতে ব্যয়। সংকোচন করা যায় ।
১৪। বিধিবদ্ধ সভা ও তার বিবরণী পেশঃ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি গঠিত হবার পর এ বিধিবদ্ধ সভা আহ্বান এবং বিধিবদ্ধ বিবরণী তৈরি ও তা নিবন্ধকের নিকট পেশ করার আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই।
১৫। পরিচালক পর্ষদ গঠনঃ নূন্যতম দু’জন পরিচালক নিয়েই এরূপ কোম্পানির পরিচালক পর্ষদ গঠন করা যায়।
১৬। ন্যূনতম চাঁদাঃ এরূপ কোম্পানির শেয়ার বিকিরণের পূর্বে ন্যূনতম চাঁদা সংগ্রহ করার আইনগত আবশ্যকতা নেই ।
১৭। হিসাব সংরক্ষণ ও নিরীক্ষণঃ এ কোম্পানিকে আর্থিক বছরের হিসাব বিবরণী তৈরি করে তা কোন চার্টার্ড এ্যাকাউটেন্ট দ্বারা নিরীক্ষা করা এবং উক্ত বিবরণী শেয়ারহােল্ডার বা নিবন্ধকের নিকট জমা দিতে হয় না।
১৮। সভা সংক্রান্ত সুবিধাঃ এ কোম্পানি সভা আহ্বান, নােটিস প্রদান এবং কোরাম গঠনসহ বিভিন্ন বিষয়ে অন্য কোম্পানি থেকে বেশি সুযােগ-সুবিধা ভােগ করে।
উপসংহারঃ উপরােক্ত বিশেষ সুবিধাগুলাের কারণে অনেকেই প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠনে উৎসাহী হয়। তাই সকল সমাজেই এ ধরনের কোম্পানির সংখ্যাই সর্বাধিক।
প্রশ্ন।৪. প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির আইনগত বাধ্যবাধকতাসমূহ বর্ণনা কর।(Describer the legal obligations of private limited company.)
উত্তরঃ প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি পাবিলক লিমিটেড কোম্পানির তুলনায় আইনগত দিক থেকে নানাবিধ সুবিধা ভােগ করে থাকে। এসব সুবিধা ভােগের পাশাপাশি কিছু | আইনগত বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হয়।
নিম্নে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির আইনগত বাধ্যবাধকতাসমূহ বর্ণনা করা হলাে:-
১। কোম্পানি আইনের ২(১) (ট) (ই) ধারা অনুযায়ী এর সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন দুইজন। এবং সর্বোচ্চ পঞ্চাশ জনের বেশি হতে পারে না।
২। কোম্পানি আইনের ২(১) (ট) (অ) ধারা অনুযায়ী প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযােগ্য নয়।
৩। কোম্পানি আইনের ২(১) (ট) (আ) ধারা অনুযী এ কোম্পানি জনসাধারণের নিকট শেয়ার বা ঋণপত্র বিক্রির জন্য বিবরণপত্র ইস্যু করতে পারে না।
৪। কোম্পানি আইনের ২(১) (ট) (আ) ধারা অনুযায়ী এ কোম্পানি শেয়ার ওয়ারেন্ট ইস্য। করতে পারে না।
৫। একে নামের শেষে অবশ্যই প্রাইভেট লিমিটেড” শব্দটি ব্যবহার করতে হবে।
অন্য পোষ্টঃ
১। যৌথমূলধনী কোম্পানি বলতে কি বুঝ?
২। কোম্পানি আইনের ঐতিহাসিক পটভূমির আলোচনা কর।
৩। যৌথমূলধনী কোম্পানির আইনগত বৈশিষ্ট্যসমূহ আলােচনা কর।
৪। যৌথমূলধনী কোম্পানির সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ আলােচনা কর।
৫। যৌথমূলধনী কোম্পানির সুবিধাসমূহ আলােচনা কর।
বিবিএ অনার্স এর সকল তথ্য বা প্রশ্নের উত্তর জানতে আমাদের এই মূলবান ওয়েবসাইটের সাথেই থাকুন।