কোম্পানির নিবন্ধন কি? কোম্পানির নিবন্ধন প্রক্রিয়া বর্ণনা । কোম্পানির নিবন্ধনের ফলাফল
অন্য পোষ্টঃ
২। কোম্পানি আইনের ঐতিহাসিক পটভূমির আলোচনা কর।
৩। যৌথমূলধনী কোম্পানির আইনগত বৈশিষ্ট্যসমূহ আলােচনা কর।
৪। যৌথমূলধনী কোম্পানির সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ আলােচনা কর।
৫। যৌথমূলধনী কোম্পানির সুবিধাসমূহ আলােচনা কর।
(What is registration of a company?)
উওরঃ কোপায় কোম্পানির নিবন্ধন বলতে কোম্পানির স্মারকলিপি, পরিমেল নিয়মাবলী বিবরণপত্র ইত্যাদির নিবন্ধনকে বুঝায়। কোম্পানি আইন অনুসারে প্রবর্তকগণ নিবন্ধনের জন্য নিবন্ধকের নিকট আবেদন করলে কোম্পানির নিবন্ধক কোম্পানির নিবন্ধনের প্রমাণ দিয়ে যে সনদপত্র প্রদান করে তাকে কোম্পানির নিবন্ধনপত্র বলে। একে কোম্পানির জনাের ছাড়পত্র বলা যেতে পারে।
বাংলাদেশে প্রচলিত ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী প্রত্যেকটি কোম্পানি নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক। আর এরূপ নিবন্ধনের ফলেই কোম্পানির আইনগত অস্তিত্বের সৃষ্টি হয় এবং কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রশ্নঃ কোম্পানির নিবন্ধন প্রক্রিয়া বর্ণনা কর।
(Describe the process of registration of a company.)
উত্তরঃ প্রারম্ভিক কথাঃ কোম্পানি গঠনের ক্ষেত্রে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। নিবন্ধনের ফলেই কোম্পানির আইনগত অস্তিত্বের সৃষ্টি হয় এবং যার ফলে কোম্পানি পৃথক আইনগত সত্তার মর্যাদা লাভ করে থাকে।
কোম্পানির নিবন্ধনের প্রক্রিয়াঃ কোম্পানির নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য প্রবর্তকগণ কোম্পানির নিবন্ধকের অফিস থেকে ফরম সংগ্রহ করবেন এবং উক্ত ফরমের সাথে নিচের দলিলপত্রাদি দাখিল করবেন ?
১। স্মারকলিপির এক কপি।
২। পরিমেল নিয়মাবলীর এক কপি। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে পরিমেল নিয়মাবলীর পরিবর্তে “টেবিল-এ” কে গ্রহণ করা হলে সেক্ষেত্রে এ মর্মে একটি ঘােষণাপত্র প্রবর্তকদের স্বাক্ষরসহ যুক্ত করতে হবে।
৩। যে সমস্ত উদ্যোক্তা পরিচালক হতে সম্মত হয়েছে তাদের নাম, ঠিকানা ও পেশা।[৯২ (২) ধারা]
৪। তারা যে পরিচালক হিসেবে কাজ করতে সম্মত আছেন এ মর্মে নিজ নাম স্বাক্ষরযুক্ত সম্মতিপত্র [৯২(১) এর ক ধারা]।
৫। তারা যে পরিচালক হিসেবে যােগ্যতাসূচক শেয়ার ক্রয়ে সম্মত আছেন এ মর্মে একটি চুক্তিপত্র । [৯২(খ) ধারা]
৬। মােট মূলধন সম্পর্কিত উদ্যোক্তাগণের বিবরণপত্র ৭। কোম্পানি আইনের ধারা যথাযথভাবে পালিত হয়েছে এ মর্মে হাইকোর্টের উকিল। অথবা পরিমেল নিয়মাবলীতে উল্লেখিত কোন পরিচালক বা সচিব পদের অধিকারী ব্যক্তি কর্তক ঘােষণাপত্র ।।
উপসংহারঃ উপরে বর্ণিত দলিলপত্রসহ আবেদনপত্র এবং নির্ধারিত ফি কোম্পানির নিবন্ধকের নিকট দাখিল করার পর নিবন্ধক যদি এ মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, কোম্পানি আইনের বিধানগুলাে ঠিকমত পালন করা হয়েছে তাহলে তিনি প্রস্তাবিত কোম্পানির নাম নিবন্ধন বইতে লিপিবদ্ধ করবেন এবং সে মর্মে নতুন কোম্পানিকে একটি নিবন্ধনপত্র প্রদান করবেন। নিবন্ধনপত্র পাবার সাথে সাথে কোম্পানি একটি বৈধ ব্যক্তিসত্তা লাভ করবে।
আপোষ নামা লেখার নিয়ম । স্থানীয় আপোষ নামা
প্রশ্নঃ কোম্পানির নিবন্ধনের ফলাফল লিখ।
(Write down the consequence of registration of company.)
উত্তরঃ প্রারম্ভিক কথাঃ কোম্পানি গঠনের ক্ষেত্রে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। নিবন্ধ ফলেই কোম্পানির আইনগত অস্তিত্বের সৃষ্টি হয় এবং যার ফলে কোম্পানি পথ আইনগত সত্তার মর্যাদা লাভ করে থাকে।
কোম্পানির নিবন্ধনের ফলাফলঃ কোম্পানির নিবন্ধন বলতে মূলতঃ কোম্পানি স্মারকলিপি ও পরিমেল নিয়মাবলীর নিবন্ধনকে বুঝায়। কোম্পানি নিবন্ধনে ফলাফল সম্পর্কে ১৯৯৪ সালের কোম্পানির আইনের ২৪ ধারায় নিম্নরূপ বিধা প্রদত্ত হয়েছেঃ-
১। কোন কোম্পানির স্মারকলিপি নিবন্ধনের পর নিবন্ধক তার নিজ হাতে এ মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্র প্রদান করবেন যে, উক্ত কোম্পানি নিবন্ধন করা হয়েছে এবং কোম্পানিটি। সীমিত দায় কোম্পানি হলে এতে উল্লেখ করবেন যে এটি একটি সীমিত দায় কোম্পানি।[২৪ (১) ধারা)।
২। নিবন্ধনপত্রে উল্লেখিত নিবন্ধনের তারিখ হতে স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারীগণ এবং বিভিন্ন সময়ে কোম্পানির সদস্য হবেন এমন ব্যক্তিগণ স্মারকলিপিতে বিধৃত নামে একটি নিবন্ধিত সংস্থায় পরিণত হবেন এবং তারা নিবন্ধিত কোম্পানির সকল কাজ সম্পাদন করার অধিকারী হবেন। এরূপ কোম্পানির চিরস্থায়ী উত্তরাধিকার ও একটি সাধারণ সীলমােহর থাকবে। উক্ত কোম্পানির অবলুপ্তি ঘটলে কোম্পানি আইনের বিধানাবলী অনুসারে এর সদস্যগণকে কোম্পানির পরিসম্পদে অর্থ প্রদানের জন্য দায়-দায়িত্ব বহন করতে হবে। [২৪ (২) ধারা]
উপরিউক্ত ২৪ ধারার বিধান অনুযায়ী কোম্পানি নিবন্ধনের ফলে নিম্নোক্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়ঃ
১। চিরন্তন অস্তিত্ব ও কোম্পানি নিবন্ধনের সময় হতে কোম্পানির অস্তিত্ব জন্মলাভ করে। এরূপ অস্তিত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না। সদস্যদের মৃত্যু, দেউলিয়াতু বা অন্য যে কোন অবস্থায় কোম্পানির অস্তিত্ব বহাল থাকে।
২। কৃত্রিম ও স্বাধীন সত্তা ও নিবন্ধনের ফলে কোম্পানির পৃথক ও স্বাধীন সত্তার সৃষ্টি | হয়। এরূপ সত্তার ফলে কোম্পানি ব্যক্তি না হয়েও ব্যক্তির ন্যায় নিজ নামে পরিচিত। ও পরিচালিত হতে পারে।
৩। সাধারণ সীলমােহর ও কোম্পানি কৃত্রিম ব্যক্তি বিধায় সকল কাজে তাকে প্রতিনিধির উপর নির্ভর করতে হয়। এরূপ প্রতিনিধিতের বিষয়টি কোম্পানির সাধারণ সীলমােহরের দ্বারা স্বীকৃত হয়। কোম্পানির সকল কাগজপত্র এরূপ সীলমােহর অবশ্যই ব্যবহার করতে হয়।
৪। সদস্যদের সীমাবদ্ধ দায় ৪ কোম্পানি নিবন্ধিত হবার পর কোম্পানির সদস্যগণের | আর ব্যক্তিগত দায় থাকে না। সদস্যদের দায় সাধারণত সীমাবদ্ধ থাকে। ঐত শেয়ারের মূল্যের দ্বারা কিংবা প্রতিশ্রত অর্থের জামিন দ্বারা শেয়ারহােল্ডারগণ দায়বদ্ধ থাকেন।
৫। শেয়ার হস্তান্তরযােগ্যঃ বিপরীত মর্মে কোন চুক্তি না থাকলে শেয়ারহােল্ডারগণ তাদের শেয়ার ইচ্ছেমতাে হস্তান্তর করতে পারে। এর জন্য কোম্পানির অনুমতির প্রয়ােজন হয় না। এরূপ হস্তান্তরের ফলে শেয়ারহােল্ডার পরিবর্তন হয়ে থাকে। সম্পত্তির মালিকানা ও কোম্পানি নিবন্ধনের পর এটি কৃত্রিমসত্তা লাভ করে বলে তার সকল সম্পদের মালিকানা বা পরিচালক বা সদস্যদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে না।
উপসংহারঃ পরিশেষে বলা যায়, কোম্পানি নিবন্ধনের ফলে আইনগত অস্তিত্বের সাথে এর আইনানুগ কার্য শুরুর অনুমতি লাভ করে। নিবন্ধনপত্র পাওয়ার পর পরই প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি কার্যারম্ভ করতে পারে।
ইংরেজি শিক্ষুনঃ ঘরে বসে স্পোকেন ইংলিশ
১। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি কাকে বলে? পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির বৈশিষ্ট্যসমূহ
২। আ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম 692 Boys names with A
বি বি এ অনার্স এর সকল প্রশ্ন এবং উত্তর জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।