স্মারকলিপি কিভাবে পরিবর্তন করা যায়? অথবা, স্মারকলিপি পরিবর্তনের পদ্ধতি উল্লেখ

স্মারকলিপি কিভাবে পরিবর্তন করা যায়? অথবা, স্মারকলিপি পরিবর্তনের পদ্ধতি উল্লেখ

 স্মারকলিপি পরিবর্তনের পদ্ধতি উল্লেখ করা হলো 

উত্তর প্রারম্ভিক কথা: স্মারকলিপি কোম্পানির প্রধান গঠনতন্ত্র । এর ভিত্তিতে কোম্পানি গঠিত ও পরিচালিত হয়। তাই যে কোন সময় এর বিষয়বস্তুসমূহ পরিবর্তন করা যায় না। স্মারকলিপির প্রত্যেকটি বিষয়বস্তু পরিবর্তন করার জন্য ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম বা পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। নিম্নে পদ্ধতিসমূহ আলােচনা করা হলাে । 

১। কোম্পানির নাম ধারার পরিবর্তন: কোম্পানি আইনের ১১ (৬) ধারায় নাম। পরিবর্তন সংক্রান্ত বিধান প্রদত্ত হয়েছে। উহাতে বলা হয়েছে শেয়ারমালিকগণ। সাধারণ সভায় নাম পরিবর্তনের বিশেষ প্রস্তাব পাস করিয়ে সরকারের অনুমােদন সাপেক্ষে নিবন্ধকের নিকট তা দাখিল করলে তিনি তা নিবন্ধন বহিতে লিপিবদ্ধ করবেন এবং নতুন পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতি রেখে একটি সার্টিফিকেট প্রদান। করবেন । অত্র আইনের ১১ (৭) ধারায় বলা হয়েছে যে, এরূপ নাম পরিবর্তনের ফলে কোম্পানির অধিকার, দায়-দায়িত্ব বা মামলা-মােকদ্দমার কোনরূপ ক্রুটি হবে। অতঃপর কোম্পানির নাম পরিবর্তনের কাজ শেষ হবে। 

২। কোম্পানির উদ্দেশ্য ধারা পরিবর্তন: ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ১২ ধারায় কোম্পানির উদ্দেশ্য ধারায় পরিবর্তন সম্পর্কে বিধান প্রদত্ত হয়েছে। এ ধারা পরিবর্তনে নিম্নে বর্ণিত পদক্ষেপগুলাে গ্রহণ করতে হবে

(ক) বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ: কোম্পানির উদ্দেশ্য ধারা পরিবর্তনে শেয়ার মালিকদের সাধারণ সভায় পরিবর্তন সংক্রান্ত বিশেষ প্রস্তাব পাশ করাতে হবে। (১২ (১) ধারা]। তবে এরূপ পরিবর্তন নিচে বর্ণিত কার্যাদি সম্পাদনের নিমিত্তে হতে হবে 

১। কোম্পানি পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধি ও ব্যয় সংকোচনের জন্য। 

২। নতুন অথচ উন্নত উপায়ে উহার প্রধান লক্ষ্য অর্জন করার উদ্দেশ্যে। 

৩। কোম্পানির বর্তমান স্থানীয় সীমা পরিবর্তন: পরিবর্ধন করার জন্য। ৪। কোন নতুন ব্যবসায়কে বর্তমান ব্যবসায়ের সাথে সংযুক্ত করা যাতে তা আরও লাভজনকভাবে পরিচালিত হতে পারে। 

৫। স্মারকলিপিতে উল্লিখিত কোন উদ্দেশ্য পরিহার বা পরিত্যাগ করা। 

৬। কোম্পানির ব্যবসায় সম্পূর্ণ বা আংশিক রূপে বিক্রয় বা হস্তান্তর করলে। 

৭। অন্য কোন প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সাথে একত্রিত হবার জন্য।

(খ) আদালতের অনুমতি গ্রহণ:  বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর এবং উক্ত সিদ্ধাতে আলােকে উদ্দেশ্য ধারা পরিবর্তনের জন্য আদালতের অনুমতি গ্রহণ করা অপরিহার্য। আদালতও অনুমােদন দেয়ার পূর্বে নিচের বিষয়দ্বয় সম্পর্কে না হবেন।[১২ (৩) ধারা] 

১। উদ্দেশ্য পরিবর্তনের দ্বারা পাওনাদার ও ঋণপত্রের মালিকদের কোন স্বার্থ ক্ষুন্ন হবে কি কিনা;

২। পাওনাদার বা ঋণপত্রের মালিকদের কোন আপত্তি আছে কিনা।

গ। নিবন্ধকেৰী নিকট দলিল পত্র পেশ: ১৯৯৪ সালের কোম্পানির জাইনের ১৫ ধারায় বলা হয়েছে যে, পরিবর্তিত স্মারকলিপির একটি মুদিত কপি এবং আদালত কর্তৃক পরিবর্তন অনুমোদন আদেশের অনুলিপি আদেশ জারির বই দিনের মধ্যে বা এতদুদ্দেশ্যে আদালত কর্তৃক বর্ধিত সময়সীমার মধ্যে নিবন্ধকের নিকট পেশ করতে হবে। অতঃপর নিবন্ধক তা নিবন্ধীকৃত করবেন এবং নিজ হাতে উক্ত নিবন্ধন প্রত্যয়ন করবেন। এ প্রত্যয়নপত্র উদ্দেশ্য ধারার পরিবর্তনের চূড়ান্ত প্রমাণ , হিসেবে গণ্য হবে। 

৩। মূলধন ধারার পরিবর্তন: কোম্পানির পরিমেল নিয়মাবলীতে মূলধন পরিবর্তন সংক্রান্ত যে বিধান লিপিবদ্ধ থাকবে তার আলােকে মূলধন হ্রাস-বৃদ্ধি করা যাবে। তবে এরূপ পরিবর্তনে কোম্পানির সাধারণ সভায় সাধারণ প্রস্তাব পাস করিয়ে আদালতের অনুমােদন নিতে হবে। মূলধনের পরিবর্তনকে নিম্নোক্তভাবে প্রকাশ করা যেতে পারে। 

(ক) মূলধন বৃদ্ধি সংক্রান্ত নিয়ম: ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৫৩ ধারায় বলা হয়েছে যে, শেয়ারের মূল্য সীমিত দায় সম্পন্ন কোম্পানির ক্ষেত্রে মূলধন বৃদ্ধির বিধান নিম্নরূপ

১। মূলধন বৃদ্ধিকল্পে নতুন শেয়ার বিক্রয় করা। 

২। বর্ধিত মূল্যের শেয়ারে রূপান্তর করার জন্য বর্তমান মূলধনের পুনর্বিন্যাস করা। 

৩। পূর্ণ মূল্য আদায়কৃত মূলধনকে স্টকে পরিণত করা, অথবা স্টককে শেয়ার মূলধনে পরিণত করা। 

৪। পূর্বেকার শেয়ারগুলােকে পুনরায় বিভক্ত করে অল্পমূল্যের শেয়ার রূপান্তর করা। (খ) মূলধন হ্রাস সংক্রান্ত নিয়ম ও কোম্পানি আইনের ৫৯ ধারায় বলা হয়েছে যে, শেয়ারের মূল্য দ্বারা সীমিত দায়বিশিষ্ট কোম্পানি স্মারকলিপিতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে শেয়ারমালিকদের সাধারণ সভায় বিশেষ সিদ্ধান্ত পাশের মাধ্যমে এবং আদালতের অনুমােদন সাপেক্ষে যে কোনভাবে শেয়ারের মূল্য হ্রাস করতে পারে। [ধারা ৬৫ বার] 

মুলধন পরিবর্তন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তটি ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের নিকট পেশ করতে হবে। নতুন শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে মূলধন বৃদ্ধি করতে হলে প্রথমত পুরাতন শেরিমালিকদেরকে শেয়ারের আনুপাতিক হারে নতুন শেয়ার ক্রয়ের দেয়াগ দিতে হবে। অতঃপর অন্য যে কোন উপায়ে শেয়ার বিক্রয় করা যাবে । 

৪। অবস্থান ও ঠিকানা পরিবর্তন কোম্পানির অবস্থান ও ঠিকানা ধারার পরিবর্তনেও আইনের আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয়। স্মারকলিপিতে ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়ে সোমালিকদের সাধারণ সভায় বিশেষ প্রস্তাব পাশ করে আদালতের অনুমতি নিতে হয়। অতঃপর কোম্পানির সাথে সংশিষ্ট সকল পক্ষকে ঠিকানা পরিবর্তন সংক্রান্ত নিয়প্তি নিতে হয়। কোম্পানি আইনের ১৯(১) ধারায় উল্লেখিত করণসহ এরপ পরিনতনে গেলে প্রয়োজ্য হবে।

পরিশেষে বলা যায়, উপরিউক্ত বিনয়পরে রে কােন পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংশোধন করা আবশ্যই ১৯৯৪  সালের আইন অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হয়। 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url