যৌথমূলধনী কোম্পানির মূলধনের প্রকারভেদ আলোচনা কর
উত্তর | প্রারম্ভিক কথাঃ যৌথমূলধনী কোম্পানি জনগণের নিকট শেয়ার বিক্রয় করে যে মূলধন সংগ্রহ করে তাকে কোম্পানির শেয়ার মূলধন বলে। কোম্পানির অন্যান্য বিভিন্ন উৎস থেকে প্রয়োজনে অর্থ সংগ্রহ করলে ও শেয়ার মূলধন কোম্পানির প্রকৃত মূলধন। মেয়াদের প্রকৃতি এবং আইনগত দিক থেকে যৌথমূলধনী কোম্পানির মূলধনকে নিম্নোক্ত শ্রেণীতে ভাগ করা যায় :
কোম্পানির মূলধন
(ক) মেয়াদের প্রকৃতি অনুসারে ২ প্রকার
২। চলতি মূলধন
(খ) আইনগত দিক থেকে ৮ প্রকার
২। ইস্যুকৃত মূলধন
৩। বিলিকৃত মূলধন
৪ । তলবকৃত মূলধন
৫ । অতলবী মূলধন
৬। আদায়কৃত মূলধন
৭ । অনাদায়ী মূলধন
৮। সংরক্ষিত মূলধন
(ক) মেয়াদের প্রকৃতি অনুসারে মূলধনের প্রকারভেদ :
১। স্থায়ী মূলধনঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির স্থায়ী অথবা স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের জন্য যে মূলধন ব্যবহার করা হয় তাকে কোম্পানির স্থায়ী মূলধন বলে।
২। চলতি মূলধনঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির অস্থায়ী বা অস্থাবর সম্পত্তি ক্রয় এবং দৈনন্দিন কার্য পরিচালনার জন্য যে মূলধনের ব্যবহার করা হয় তাকে চলতি মূলধন বলে।
(খ) আইনগত দিক থেকে মূলধনের প্রকারভেদ :
১। অনুমাদিত মূলধন : যৌথমূলধনী কোম্পানি যে পরিমাণ মূলধন নিয়ে নিবন্ধিত হয় এবং যা সংগ্রহ করার জন্য নিবন্ধকের নিকট থেকে অনুমোদন লাভ করে তাকে অনুমোদিত মূলধন বলে।
২। ইস্যুকৃত মূলধনঃ: অনুমোদিত মূলধনের যে অংশ জনসাধারণের নিকট শেয়ার হিসেবে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বাজারে ছাড়া হয় তাকে ইস্যুকৃত মূলধন বলে।
৩। বিলিকৃত মূলধনঃ ইস্যুকৃত মূলধনের যে অংশ জনসাধারণ ক্রয় করার জন্য প্রতিশ্রুত হয় অর্থাৎ যে পরিমাণ শেয়ার ক্রয়ের জন্য জনসাধারণ আবেদনপত্র দ্বারা স্বীকৃতি জানায় তাকে বিলিকৃত মূলধন বলে।
৪। তলবকৃত মূলধনঃ বিলিকৃত মূলধনের যে অংশ পরিশোধের জন্য শেয়ার মালিকদের তলব বা তাগাদা প্রদান করা হয় তাকে তলবকৃত মূলধন বলে।
৫। অতলবী মূলধন : বিলিকৃত মূলধনের যে অংশ পরিশোধের জন্য শেয়ার মালিকদের এখনও তলব করা হয়নি তাকে অতলবী মূলধন বলে ।
৬। আদায়কৃত মূলধন : তলবকৃত মূলধনের যে অংশ শেয়ার মালিকগণ পরিশোধ করেছে এবং কোম্পানি কর্তৃক প্রকৃতপক্ষে আদায় হয়েছে তাকে আদায়কৃত মূলধন বলে ।
৭। অনাদায়ী মূলধনঃ তলবকৃত মূলধনের যে অংশ শেয়ার মালিকগণ পরিশোধ করেনি অর্থাৎ অনাদায়ী রয়েছে তাকে অনাদায়ী মূলধন বলে।
৮। সংরক্ষিত মূলধন : যৌথমূলধনী কোম্পানির বিলিকৃত মূলধনের যে অংশ কোম্পানির বিলোপ সাধনের পূর্বে তলব করা হয় না তাকে সংরক্ষিত মূলধন বলে।
→ উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, উপরোক্ত শেয়ার মূলধন ছাড়াও অন্য এক প্রকার মূলধন রয়েছে যাকে তরল মূলধন বলা হয়। সুনাম ক্রয় বাবদ অর্থ ব্যয়, বোনাস, শেয়ার ইস্যু প্রভৃতিকে তরল মূলধন বলা হয় ।
