শেয়ার কাকে বলে এবং যৌথমূলধনী কোম্পানির শেয়ারের বৈশিষ্ট্যসমূহ কি?

প্রারম্ভিক কথা : যৌথমূলধনী কোম্পানির মোট মূলধনকে কতকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এককে বিভক্ত করা হয়। এদের প্রত্যেকটি একক এক একটি শেয়ার। প্রত্যেকটি শেয়ার, মূলধনের অংশ হবার কারণে এটা ক্রয়ের মাধ্যমে একজন শেয়ারহোল্ডার কোম্পানির আংশিক মালিকানা লাভ করে থাকে।

→শেয়ারের সংজ্ঞা : সাধারণ অর্থে, শেয়ার বলতে কোম্পানির শেয়ার মূলধনের ক্ষুদ্র অংশকে বোঝায়। ব্যাপক অর্থে, যৌথ মূলধনী কোম্পানির মোট মূলধনকে নির্দিষ্ট সমপরিমাণ মূল্যের যে সকল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এককে বিভক্ত করা হয় তার প্রত্যেকটি একককে শেয়ার বলে।

নিম্নে শেয়ারের দুটি জনপ্রিয় সংজ্ঞা তুলে ধরা হলো :

১। ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ২.১ (ধ) ধারায় বলা হয়েছে যে, “শেয়ার বলতে কোম্পানির মূলধনের কোন অংশকে বুঝাবে এবং ব্যক্ত বা অব্যক্তভাবে কোন স্টক ও শেয়ারের পার্থক্য প্রকাশ পেলে সেই স্টক ব্যতীত অন্যান্য স্টকও এ সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে।"

২। বিচারপতি ফেয়ারওয়েল জে, বলেন, “শেয়ার টাকা নয় কিন্তু এর মাধ্যমে টাকার অংকে স্বার্থ পরিমাপ করা যায় যা চুক্তিগত কিছু অধিকারের সৃষ্টি করে।” → উপসংহার : সুতরাং বলা যায়, যৌথ মূলধনী কোম্পানির মূলধনকে সমপরিমাণ মূল্যের ক্ষুদ্র এককে ভাগ করা হলে তার প্রত্যেকটি একককে শেয়ার বলে ।

প্রশ্নঃ  যৌথমূলধনী কোম্পানির শেয়ারের বৈশিষ্ট্যসমূহ কি?

(What are the characteristics of share of joint stock company?)

উত্তর প্রারম্ভিক কথাঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির মোট মূলধনকে কতকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এককে বিভক্ত করা হয় । এদের প্রত্যেকটি একক এক একটি শেয়ার । প্রত্যেকটি শেয়ার মূলধনের অংশ হবার কারণে এটা ক্রয়ের মাধ্যমে একজন শেয়ারহোল্ডার কোম্পানির আংশিক মালিকানা লাভ করে থাকে ।

নিম্নে কোম্পানির শেয়ারের বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করা হলো :

১। মূলধনের অংশঃ শেয়ার কোম্পানির শেয়ার মূলধনের ক্ষুদ্র অংশ বিশেষ ।

২। শেয়ারের মূল্যঃ একই ধরনের শেয়ারের ক্ষেত্রে প্রতিটির মূল্য সমপরিমাণের হয়ে থাকে।

৩। মালিকানা স্বত্বঃ শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে ক্রেতা কোম্পানির উপর আংশিক মালিকানা স্বত্ব পায়।

৪। চুক্তিগত অধিকারঃ শেয়ার ক্রয়ের ফলে এর ক্রেতার কোম্পানির উপর কিছু চুক্তিগত অধিকারের জন্ম হয় ।

৫। অস্থাবর সম্পত্তিঃ পরিমেল নিয়মাবলীতে নির্দেশ অনুযায়ী শেয়ার হস্তান্তরযোগ্য অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয়।

৬। হস্তান্তর যোগ্যতাঃ পরিমেল নিয়ামবলীতে বলা থাকলে শেয়ার হস্তান্তরযোগ্য হয়।

৭। ক্রমিক সংখ্যাঃ প্রত্যেক শেয়ারের উপর ক্রমিক সংখ্যা লেখা থাকে। এর সাহায্যে এদের পার্থক্য নির্দেশ করা যায়।

৮। দায়িত্ব ও কর্তব্যঃ কোম্পানিতে শেয়ার গ্রহীতার অধিকারের পাশাপাশি তার কতিপয় দায়িত্ব ও কর্তব্যও বহাল থাকে।

→ উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ একটি উত্তম শেয়ারের মধ্যে থাকতে হবে। অন্যথায় এটি আইনগতভাবে শেয়ার বলে গণ্য হবে না।

প্রশ্ন ॥৪.৮ ॥ ঋণপত্র বলতে কি বুঝ? (What is meant by debenture?)

উত্তর প্রারম্ভিক কথাঃ ঋণপত্র হলো এক প্রকার ঋণের দলিল । কোম্পানি এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় মূলধনের ব্যবস্থা করে থাকে। এতে ঋণের পরিমাণ, মেয়াদ, সুদের হার ইত্যাদি নানাবিধ শর্ত উল্লেখিত থাকে।

→ ঋণপত্রের সংজ্ঞাঃ যৌথমূলধনী কোম্পানি তার গৃহীত ঋণ স্বীকার করে ঋণদাতাকে যে পত্র বা দলিল প্রদান করে তাকে ঋণপত্র বলা হয় । নিম্নে ঋণপত্রের কতিপয় সংজ্ঞা তুলে ধরা হলোঃ

১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ২(১-৮) ধারায় বলা হয়েছে যে, “ঋণপত্র বলতে কোম্পানির পরিসম্পদের উপর চার্জ সৃষ্টি করুক বা না করুক, কোম্পানি ডিবেঞ্চার- স্টক, বন্ড, অন্যদিকে সিকিউরিটিও এ সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে।”

২। মিঃ পামার বলেন, “ঋণপত্র কোম্পানির সীলমোহরাঙ্কিত ঋণের সাক্ষ্যসূচক একটি দলিল, ঋণের স্বীকৃতিই এর মূল কথা।”

৩। টোফাম-এর মতে, “ঋণপত্র হলো এমন একটি দলিল যা ঋণদাতার ঋণের স্বীকৃতিস্বরূপ কোম্পানি কর্তৃক প্রদত্ত, যে ঋণ সাধারণত কোম্পানিকে ধার দেয়ার ফলে উদ্ভূত এবং যা সাধারণত চার্জ দ্বারা নিশ্চিত থাকে ।

উপসংহারঃ পরিশেষে বলা যায় যে, ঋণপত্র হচ্ছে একটি ঋণের দলিল যার মাধ্যমে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি জনসাধারণের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট হারে প্রতি বছর সুদ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঋণগ্রহণ করে এবং নির্দিষ্ট সময়ান্তে তা পরিশোধে অঙ্গীকার ব্যক্ত করে থাকে।




Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url