তালাক নামা লেখার নিয়ম (স্ত্রী কর্তৃক তালাক নামার এফিডেভিট)

তালাক কি?

আইনের পদ্ধতির অনুযায়ী যে বিবাহের বিচ্ছেদ করা হয় তাকে তালাক বলে। একটি তালাক হওয়ার পিছনে বহুগুলোর বিষয় ভিত্তিক উপর হয়ে থাকে। 

তালাক হচ্ছে আলাদা হওয়ার পদ্ধতি। যা একে অপরের বা যা স্বামী বা স্ত্রীর দুই পক্ষের উপর থেকে তালাক আসতে পারে। স্বমী বা স্ত্রী এই দুই ব্যাক্তির আইনের মাধ্যমে আলাদা হওয়ার পদ্ধতিকে তালাক বলে।

বাংলাদেশে তালাক  দেওয়ার পদ্ধতি কত প্রকার ?

১। তালাকের নোটিশ প্রদান
২। সালিস এর উদ্যোগগ্রহণ

৩। ৯০(নব্বই) দিন অতিবাহিত হবার পর তালাক এর- সার্টিফিকেট গ্রহণ করে বা (একজন রেজিস্টারড নিকাহ রেজিস্টার)।

নিম্বের তালাক নামা এফিডেভিট করা নিয়ম সংক্রান্ত বিষয় গুলো  ভাল ভাবে আলোচনা করা হল।  কিভাবে তালাক নামা লিখা হয় তার উদাহরণ সহ আলোচনা করা হয়েছে।

নিম্নের এই লেখাটি ভালভাবে পড়ে তার পর তালাক নামা লেখবেন।

এই তালাক নামাটি স্ত্রী কর্তৃক তালাক নামার (এক তরফা তালাক নামা) এফিডেভিট করার জন্য পোষ্টি লেখা হয়েছে। একজনের নামের উদাহরণ করার মাধ্যমে স্ত্রী কর্তৃক নামাটি সাজানো হয়েছে। যে ব্যাক্তির নাম ও ঠিকানা দেওয়া আছে। সেই গুলো বাদ দিয়ে আপনার মোয়াক্কেলের তালাক নামার নাম ও ঠিকানা দিয়ে স্ত্রী কর্তৃক তালাক নামা লিখবেন।  স্ত্রী কর্তৃক বা তালাক নামা বা স্বামী কর্তৃকত তালাক নামা যেটাই হোকনা কেন অবশ্যই "বিজ্ঞ নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে করতে হবে। এবং ১৫০/- টাকা স্টাম্প অথবা এর বেশী হলে কোন সমস্যা নাই। কিন্তু স্টাম্পে করতে হবে।আশা করি বুঝাতে পেরেছি।

এখান থেকে আপনি লেখা শুরু করবেন

 তালাক নামা লেখার নিয়ম (এক তরফা তালাক নামা বা স্ত্রী কর্তৃক তালাক নামার এফিডেভিট)

মোকামঃ বিজ্ঞ নোটারী পাবলিকের কার্যালয়,নীলফামারী

হলফনামা
(স্ত্রী কর্তৃক তালাক)

আমি মোছাঃ লিমু (২১), স্বামী-মোঃ মজিদুল ইসলাম, পিতা-মোঃ জামিয়ার রহমান, মাতা-মোছাঃ তহমিনা বেগম, সাং-পানিয়াল পুকুর, উপজেলা-কিশোরগঞ্জ, জেলা-নীলফামারী, পেশা-গৃহীনি, ধর্ম-ইসলাম, জাতীয়তা-বাংলাদেশী।         

 আমি নিম্ন রুপ ভাবে তালাক ঘোষণা এ্যাফিডেভিট করিতেছি যে,

১। যেহেতু-আমি  একজন সুস্থ্য মস্তিক সম্পন্ন হলফনামা পূর্ন ক্ষমতা রাখি।
২। যেহেতু- আমার সহিত মোঃ মজিদুল ইসলাম (২৫),  পিতা-মৃতঃ জফরদ্দি, সাং-মুশুরুত পানিয়াল পুকুর, পোষ্ট- পানিয়াল পুকুর, থানা-কিশোরগঞ্জ, জেলা-নীলফামারী এর সহিত ৩ বছর পূর্বে  ইসলামী শরাশরীয়ত মোতাবেক বিবাহ হইয়াছে, ৩ বছর পূর্ব হইতে সে আমাকে শারিরিক নির্যাতন করে। স্বামী-স্ত্রী সর্ম্পক যাপন করে না। তাহা মুখাবেলা হইয়া আসিলে আমার জীবন যৌবনে অপূরনীয় ক্ষতি সাধিত হইবে। সে কারনে আমি গত ৪ মাস পূর্বে মোঃ মজিদুল ইসলামকে মৌখিক ভাবে ১, ২, ৩, তালাকে বায়েন ঘোষনা করিতেছি যে, তিন তালাকে মোঃ মজিদুল ইসলাম এর সহিত বিবাহ বিচ্ছেদ করিতেছি এবং ভবিষ্যতে মোঃ মজিদুল ইসলাম আমাকে স্ত্রী হিসাবে দাবী দাবা করিতে পারিবে না এবং  সেও আমাকে স্বামী হিসাবে দাবী করিতে পারিবে না। আমি ভবিষ্যতে অন্যত্র বিবাহ করিতে পারিব। উক্ত তালাকের বিষয়ে আমি মৌখিক ভাবে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে অবগত করিয়া ছিলাম। মর্মে অত্র হলফনামা ঘোষনা করিলাম।
         উপরোক্ত বিবরণ সমূহ আমার জ্ঞান ও বিশ্বাস মতে সত্য ও সঠিক জানিয়া,পড়িয়া, শুনিয়া অদ্য নোটারী পাবলিক মোকামে উপস্থিত হইয়া স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে অন্যের বিনা প্ররোচনায় নিজ নাম স্বাক্ষর করিলাম।

আমি হলফকারীনির স্বাক্ষর
সনাক্ত করিলাম।  

        এ্যাডভোকেট
জজ কোর্ট,নীলফামারী                        হলফকারীনির স্বাক্ষরঃ

আশা করি আপনি স্ত্রী কর্তৃক তালাক নামা বুঝতে বা এফিডেভিট করতে আর কোন সমস্য হবে বলে মনে হয় না।

আরোও পড়ুন.....


এই পোষ্টি যা যা লিখে সার্চ করলে পাবেন।
Tag:

তালাক নামা লেখার নিয়ম
তালাক ও তালাক বিষয়ক আইন
স্ত্রী কর্তৃক তালাক আইন
বিবাহ বিচ্ছেদ আইন
তালাকের হলফ নামা
তালাক নামা নোটিশ
তালাকের এফিডেভিট

আপনাদের আরো কোন  আইন বিষয় যদি জানার প্রয়োজন হয় তাহলে আমাদের ওয়েবসাইট এর কমান্ড বক্সে একটি কমান্ড করুন । আশা করি আপনার সমস্যা আমরা সমাধান করার চেষ্টা করবো। ধন্যবাদ।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url