তালাক নামা লেখার নিয়ম - কিভাবে উভয়ের পক্ষে তালাক নামা বা হলফনামা লিখবেন

তালাক কাকে বলে?

তালাক হচ্ছে আইনের পদ্ধতি অনুযায়ী বা আইনের নিয়ম কানুন মেনে চলে স্বামী ও স্ত্রী মধ্যে থেকে আলাদা হওয়া বা পৃথক হওয়ার প্রক্রিয়াকেই তালক কলে। এই তালান মানা উভয় পক্ষের মধ্যে হয়। তালাক দুই প্রকার ১। এক তরফা তালাক ২। দুই তরফা তালাক।

কিভাবে দুই তরফা তালক নামা লিখবেন বা নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে করবেন। সেই ফরমেটটি বা কি কি ভাষা দিয়ে লেখবেন নিম্নে ভাল করে আলোচনা করা হয়েছে। বা তালাক নামা কিভাভে লেখবেন। সে সম্পর্কে বাস্তব উদাহরণ সহ লেখা আছে। যা আপনার তালাক নামা লেখার জন্য অন্য কারো কাছে যেতে হবে ন।

আরোও পড়ুন......

👉 তালাক নামার এফিডেভিট

👉 জমির বায়না পত্র লেখার নিয়ম

👉 স্থানীয় আপোষ নামা লেখার নিয়ম

কিভাবে দুই তরফা বা উভয় পক্ষের মধ্যে তালাক নামা লেখবেন ০২(দুইটি) উদাহরণ সহ দেওয়া আছে। এখান থেকে শুরুঃ-

তালাক নামা লেখার নিয়ম  - কিভাবে উভয়ের পক্ষে তালাক নামা বা হলফনামা লিখবেন

উদাহরণ- ০১
------------------------------------------------------------------

মোকামঃ নোটারী পাবলিক কার্যালয়, নীলফামারী।

হলফনামা

আমি মোঃ ফারুক হোসেন (২৭), পিতা-মোঃ আমির আলী, মাতা-মোছাঃ শেলী বেগম, সাং-মটুকপুর পূর্ব পাড়া, পোষ্ট-বোড়াগাড়ী, থানা-ডোমার, জেলা-নীলফামারী। পেশা-ব্যবসা, ধর্ম-ইসলাম, জাতীয়তা-বাংলাদেশী।

এবং

আমি মোছাঃ শাহানাজ বেগম (২৩), পিতা-মোঃ সহিদুল ইসলাম, মাতা-মোছাঃ খয়রননেছা, সাং-সারঙ্গপুর, ডাকঃ ভগিরত মাঝাড়ী, উপজেলা –কাউনিয়া, জেলা-রংপুর, পেশা-গৃহীনি, ধর্ম-ইসলাম, জাতীয়তা-বাংলাদেশী।

এই মর্মে প্রতিজ্ঞা পূর্বক ঘোষণা করিতেছি যে-

১। আমরা উভয়েই বাংলাদেশী স্থায়ী নাগরিক এবং হলফ করার যোগ্য বটে।

২। আমরা উভয়ে প্রনয় সুত্রে বিগত ৫ বৎসর পূর্বে কাবিননামা মুলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইয়াছি।

৩। আমরা উভয়ে আরও উপলব্ধি করিতেছি যে, আমাদের ভবিষ্যত দাম্পত্য জীবনে সুখময় হইবে না এবং আমাদের উভয়ের জীবন উভয়ের দ্বারা সংকটাপন্ন সে কারনে স্থানীয় মান্যগন্য উভয় পক্ষের অভিভাবকের উপস্থিতিতে আমরা ভবিষ্যত সুখি জীবনের কথা ভাবিয়া রেজিঃ কৃত তালাকের মাধ্যমে আমাদের বিবাহ বিচ্ছেদ এর সিদ্ধান্ত গ্রহন করিয়া আমি ১ তালাক, ২ তালাক, ৩ তালাক, তালাকে বাইন ঘোষনা করিয়া আমাদের স্বামী স্ত্রী সম্পর্ক চীরতরে ছিন্ন করিলাম। অদ্যকার তারিখ হইতে আমরা কেউ কাহাকেও স্বামী-স্ত্রী রুপে দাবী করিতে পারিব না। দাবী করিলে তাহা সর্ব আদালতে অগ্রাহ্য হইবে।

৪। আমি মোছাঃ শাহানাজ বেগম আরও ঘোষনা করিতেছি যে, অদ্যকার তারিখ হইতে আমি মোঃ ফারুক হোসেনকে আর স্বামী হিসাবে দাবী করিয়া কোন রকমের অধিকার সংক্রান্ত দাবী করিব না। এখানে প্রকাশ করা আবশ্যক আমার স্বামীর কাছ থেকে আমার ভরোন পোষন ও বাচ্চার খোরপোষ সহ এবং দেন মোহরের সমুদয় ১,২০,১০১/(একলক্ষ বিশ হাজার একশতক এক) টাকা একযোগে বুঝিয়া পাইয়াছি। আমাদের দাম্পত্য জীবনে আমাদের ১(এক) টি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহন করে। যাহার বয়স-২ বছর ৬ মাস মোঃ ফারুক হোসেন এর ঔরষে এবং আমার গর্ভের সন্তান বটে।

৫। অত্র হলফনামা আমাদের খোলা তালাকের প্রামান্য দলিল হিসাবে গন্য হইবে।

উপরোক্ত বিবরণ সমূহ আমাদের জ্ঞান ও বিশ্বাস মতে সত্য ও সঠিক জানিয়া,পড়িয়া, শুনিয়া অদ্য নোটারী পাবলিক মোকামে উপস্থিত হইয়া স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে অন্যের বিনা প্ররোচনায় নিজ নিজ নাম স্বাক্ষর করিলাম।

আমি এফিডেভিটকারীদ্বয়কে সনাক্ত করিলাম। তাহারা আমার সম্মুখে অত্র এফিডেভিটে নিজ নাম স্বাক্ষর করিলেন।

এডভোকেট জজ কোর্ট, দিনাজপুর।                                 এফিডেভিটকারীদ্বয়ের স্বাক্ষর

================================================

২য় নাম্বার তালাক নামার বা হলফ নামার উদারণ লিখতে গেলে ৩টি স্টাম্প লাগবে।

উদাহরণ- ০২

মোকামঃ নোটারী পাবলিক কার্যালয়, দিনাজপুর।

এ্যাফিডেভিট

আমি বায়তুল আহ্মাদ, বয়স-২৬ বৎসর, পিতা-মৃতঃ নূর ইসলাম, মাতা-মোছাঃ মোর্শেদা খাতুন, সাং-কাজীপাড়া, ডাকঃ তেবাড়িয়া, উপজেলা-খানসামা, জেলা-দিনাজপুর, পেশা-কৃষি, ধর্ম-ইসলাম, জাতীয়তা-বাংলাদেশী।

এবং

আমি মোকমাইনা আক্তার, বয়স-২৩ বৎসর, পিতা মোঃ ফজলুল হক, মাতা- বিলকিস বেগম, সাং-সুবর্ণখুলী, পোষ্ট-সাবুদেরহাট, উপজেলা-খানসামা, জেলা-দিনাজপুর। পেশা-গৃহিনী, ধর্ম-ইসলাম, জাতীয়তা-বাংলাদেশী।

আমরা এই মর্মে প্রতিজ্ঞা পূর্বক ঘোষণা করিতেছি যে-

১। আমরা উভয়েই নিজেদের ভালমন্দ বিষয়ে সিদ্ধান্ত লওয়ার যোগ্য বটে।

২। যেহেতু আমাদের মধ্যে বিগত ১৬/০৭/১৪ইং তারিখে মুসলিম সরা-শরীয়ত অনুযায়ী রেজিষ্ট্রি কৃত কাবিননামা মুলে বিবাহ হয়। আমাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় আমরা আমাদের ভবিষ্যত জীবন সুখ শান্তির জন্য উভয়ে স্বামী-স্ত্রীর সর্ম্পক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত লই। উক্ত সিদ্ধান্ত মতে আমরা উভয় উভয়কে গত ৩১/১২/১৭ইং তারিখে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে খোলা তালাক প্রদান করিয়াছি।

অদ্য অত্র হলফনামার মাধ্যমে উক্ত খোলা তালাক- এর ঘোষনা প্রদান করিলাম। উক্ত তারিখ হইতে আমরা একে অপরকে স্বামী-স্ত্রী হিসাবে হারাম করিয়াছি এবং ভবিষ্যতে আমরা একে অপরকে স্বামী-স্ত্রী রুপে দাবী করিব না, করিলেও তাহা সর্বাদালতে অগ্রাহ্য হইবে।

৩। আমি অত্র হলফকারীনি মোকমাইনা আক্তার আরো ঘোষনা করিতেছি যে, আমার বিবাহের অপরিশোধিত দেনমোহর ও খোরপোষ বাবদ সমুদয় টাকা স্বাক্ষীগনের উপস্থিতিতে নগদ বুঝিয়া পাইয়াছি। আমি উক্ত বায়তুল আহ্মাদ এর নিকট দেনমোহর ও খোরপোষের সমুদয় টাকা বুঝিয়া পাইয়াছি। আমি আর কোন দিন দেনমোহর ও খোরপোষের টাকা দাবী করিয়া কোন রুপ মামলা মোকদ্দমা করিব না বা আমার পরিবারবর্গ কোন প্রকার মামলা মোকদ্দমা করিতে পারিবে না করিলেও তাহা অত্র হলফনামা মূলে সর্বাদালতে অগ্রাহ্য বলিয়া গন্য হইবে।

৪। অত্র হলফনামা আমাদের মধ্যকার খোলা তালাকনামা প্রামান্য দলিল হিসাবে গন্য হইবে।

৫। আমরা গত ৩১/১২/১৭ইং তারিখে নিকাহ রেজিষ্ট্রার কাজী অফিসের মাধ্যমে খোলা তালাক রেজিষ্ট্রি করিয়া লইয়াছি।

উপরোক্ত বিবরণ সমূহ আমাদের জ্ঞান ও বিশ্বাস এবং অবগতি মতে সত্য। এ্যাফিডেভিটের বিষয়গুলো আমাদের কথামত লেখা হওয়ায় স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে অত্র এ্যাফিডেভিটে নিজ নিজ নাম স্বাক্ষর করিলাম।

আমি এফিডেভিটকারীদ্বয়কে সনাক্ত করিলাম। তাহারা আমার সম্মুখে অত্র এফিডেভিটে নিজ নাম স্বাক্ষর করিলেন।

এডভোকেট জজ কোর্ট, দিনাজপুর।                         এফিডেভিটকারীদ্বয়ের স্বাক্ষরঃ

আরোও পড়ুন...

👉 স্ত্রী কর্তৃক তালাক নামার এফিডেভিট

👉 জমির বায়না পত্র লেখার নিয়ম

👉 আপোষ নামা লেখার নিয়ম । স্থানীয় আপোষ নামা

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url