যৌথমূলধনী কোম্পানির সুবিধাসমূহ আলােচনা Discuss the advantages of joint stock company

প্রশ্নঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির সুবিধাসমূহ আলােচনা কর।
(Discuss the advantages of joint stock company.) 
অথবা, যৌথমূলধনী ব্যবসায়ের সুবিধাগুলাে বর্ণনা কর।

অন্য পোষ্টঃ

১। যৌথমূলধনী কোম্পানি বলতে কি বুঝ?
২। কোম্পানি আইনের ঐতিহাসিক পটভূমির আলোচনা কর। ৩। যৌথমূলধনী কোম্পানির আইনগত বৈশিষ্ট্যসমূহ আলােচনা কর। ৪। যৌথমূলধনী কোম্পানির সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ আলােচনা কর।

উত্তরঃ প্রারম্ভিক কথাঃ বৃহদায়তন, কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা ও চিরন্তন অস্তিত্ব সম্পন্ন। যৌথমূলধনী কোম্পানি অন্যান্য কোম্পানি অপেক্ষা বিশেষ কতকগুলাে সুবিধা ভােগ করে থাকে।

নিম্নে এরূপ কতিপয় সুবিধা বর্ণনা করা হলাে :

১। পর্যাপ্ত মূলধনঃ যৌথমূলধনী কোম্পানি বাজারে শেয়ার বা ঋণপত্র বিক্রয় করে পর্যাপ্ত মূলধন সংগ্রহ করতে পারে।

২। সীমাবদ্ধ দায়ঃ যৌথমূলধনী কোম্পানি শেয়ারহােল্ডারগণ সীমাবদ্ধ দায়ের সুবিধা ভােগ করে থাকে। কাজেই নিয়ােগকারীগণ এ কোম্পানিতে অর্থ বিনিয়ােগে অধিক আগ্রহী হয়।

৩। চিরন্তন অস্তিত্বঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির অস্তিত্ব চিরন্তন হওয়ার ফলে বিলােপসাধনের অনিশ্চয়তা থেকে মালিকরা মুক্ত থাকে। ফলে কোম্পানির উন্নতি সাধনে তারা আত্মনিয়ােগ করতে পারে।

৪। জনগণের আস্থাঃ যৌথমূলধনী কোম্পানি কোম্পানি আইন অনুযায়ী গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই এ কোম্পানির উপর জনগণের বিপুল আস্থা থাকে।

৫। বৃহদায়তন কোম্পানির সুবিধাঃ যৌথমূলধনী কোম্পানি বৃহদায়তন কোম্পানির যাবতীয় সুবিধা ভােগ করে থাকে। ফলে পরিচালনা ও উৎপাদন ব্যয় কম হয়।

৬। ঝুকি বন্টনঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির ঝুঁকি শেয়ারহােল্ডারগণের মধ্যে বঞ্চিত হয়। ফলে কাউকে অত্যধিক ঝুঁকি বহন করতে হয় না। সামাজিক কল্যাণ যৌথমূলধনী কোম্পানি সমাজের জনগণের জন্য প্রভু সুযােগ-সুবিধার বন্দোবস্ত করে থাকে।

৮। অধিক কর্মসংস্থানঃ যৌথমূলধনী কোম্পানি বৃহদাকার বলে এতে প্রচুর সংখ্যক লােকের কর্মসংস্থান হয়ে থাকে।।

৯। করের সুবিধাঃ যৌথমূলধনী কোম্পানিকে নিজ নামে কর পরিশােধ করতে হয়। কাজেই শেয়ারহােল্ডারগণ আয়করের সুবিধা লাভ করে থাকে।

১০। প্রচারের সুবিধাঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ায় এ কোম্পানি অধিক প্রচারের সুবিধা ভােগ করে থাকে।

১১। সম্প্রসারণের সুবিধাঃ যৌথমূলধনী কোম্পানি প্রয়ােজনবােধে বাজারে শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রয় করে অতিরিক্ত মূলধনের ব্যবস্থা করে কোম্পানি সম্প্রসারণ করতে পারে।

১২। সুদক্ষ পরিচালনাঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির শেয়ারহােল্ডারগণ নিজেদের মধ্যে থেকে দক্ষ লােকদের পরিচালক হিসেবে নিয়ােগ করে থাকে। ফলে দক্ষতার সাথে কোম্পানি পরিচালিত হতে পারে।

১৩। সঞ্চয়ে উৎসাহঃ যৌথমূলধনী কোম্পানিতে অল্প বিনিয়ােগ করেও লভ্যাংশ পাওয়া যায় বলে জনগণের মধ্যে সঞ্চয় অভ্যাস গড়ে উঠে।

১৪। সরকারি আয় বৃদ্ধিঃ যৌথমূলধনী কোম্পানি থেকে সরকার প্রচুর পরিমাণে কর। পেয়ে থাকে। ফলে সরকারের আয় বৃদ্ধি পায়।

১৫। ব্যয় সংকোচনঃ যৌথমূলধনী কোম্পানিতে বৃহৎ পুঁজির সমাবেশ ঘটায় উন্নত যন্ত্রপাতির ব্যবহার, সুদক্ষ কর্মী নিয়ােগ, শ্রমের বিশেষায়ন করা সম্ভব হয়। এতে কোম্পানির ব্যয় সংকোচিত হয়।

১৬। আইনের সুবিধা ভােগঃ যৌথমূলধনী কোম্পানি বিভিন্ন প্রকার আইনের সুযােগ সুবিধা ভােগ করে থাকে।

১৭। উন্নত কলাকৌশল ব্যবহারঃ যৌথমূলধনী কোম্পানিতে উন্নত কলাকৌশল ব্যবহারের সুযােগ বেশি থাকে।

১৮ প্রতিযােগিতার মােকাবেলাঃ কাম্য মূলধন এবং কাম্য উৎপাদন ও বণ্টনের সর্বক্ষেত্রে কাম্য দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে যৌথমূলধনী কোম্পানির পক্ষে প্রতিযােগিতা মােকাবেলা করা সম্ভব হয়।

১৯। বিজ্ঞাপন ও প্রচারের ব্যাপক সুযােগঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির অসংখ্য। সদস্যগণ বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থান করে বলে তারা মুখে মুখে কোম্পানি ও কোম্পানির উৎপাদিত পণ্যদ্রব্যের প্রচারে সাহায্য করে। ফলে কোম্পানি সম্প্রসারণ ও পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

২০। গবেষণা ও উন্নয়নঃ অধিক মূলধনের সুবিধা থাকায় কোম্পানি সহজেই পণ্যের মান উন্নয়নের জন্য পৃথক গবেষণাগারের ব্যবস্থা করতে পারে। এতে পণ্যসামগ্রীর গুণগত মান বৃদ্ধি পায় এবং উন্নততর উৎপাদন পদ্ধতি উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়।

উপসংহারঃ পরিশেষে বলা যায়, যৌথমূলধনী কোম্পানির উপরােক্ত সুবিধাগুলাে রয়েছে। এসব সুবিধা বিদ্যমান থাকার কারণেই সকল প্রকার বৃহদায়তন ও ঝকিপূর্ণ। কোম্পানি বর্তমানে যৌথমূলধনী কোম্পানি হিসেবে গড়ে উঠছে।

ইংরেজি শিক্ষুনঃ ঘরে বসে স্পোকেন ইংলিশ

বি.বি.এ অনার্স এর কোম্পানি আইনের সকল প্রশ্ন উত্তর জানতে আমাদের এই ওয়েবসাইটের সঙ্গ থাকুন।



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url