যৌথমূলধনী কোম্পানির অসুবিধাসমূহ আলােচনা কর disadvantages of joint stock company

যৌথমূলধনী কোম্পানির অসুবিধাসমূহ আলােচনা কর disadvantages of joint stock company

অন্য পোষ্টঃ 

প্রশ্নঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির অসুবিধাসমূহ আলােচনা কর।
(Discuss the disadvantages of joint stock company.) 
অথবা, যৌথমূলধনী ব্যবসায়ের অসুবিধাগুলাে বর্ণনা কর।

উত্তরঃ প্রারম্ভিক কথাঃ যৌথমূলধনী কোম্পানি এককভাবে কতকগুলাে সুবিধাই ভােগ। করে না এর অনেকগুলাে অসুবিধাও রয়েছে। তবে সুবিধার তুলনায় অসুবিধাগুলাে তেমন মারাত্মক নয়। 

নিম্নে যৌথমূলধনী কোম্পানির অসুবিধাগুলাে আলােচনা করা হলাে 

১। গঠনের জটিলতাঃ যৌথমূলধনী কোম্পানি গঠন করা খুবই কঠিন। এ কোম্পানি গঠন করতে হলে কোম্পানি আইনের নানাবিধ আনুষ্ঠানিকতা পালনের ঝামেলা পােহাতে হয়।

 ২। প্রাথমিক খরচঃ যৌথমূলধনী কোম্পানি গঠন করার জন্য প্রথম পর্যায়ে প্রচুর পরিমাণে অর্থ খরচ করতে হয়। ফলে এ কোম্পানি গঠনে অনেকে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ে। 

৩। একচেটিয়া কোম্পানিঃ যৌথমূলধনী কোম্পানি একচেটিয়া কোম্পানি পরিচালনা করে অবৈধভাবে অত্যধিক মুনাফা অর্জন করে। যা সমাজ স্বার্থের পরিপন্থী। 

৪। স্বজনপ্রীতিঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির পরিচালকমণ্ডলী কর্মচারী নিয়ােগ এবং | কোম্পানির অন্যান্য ক্ষেত্রে অনেক সময় স্বজনপ্রীতি ও অন্যায়ভাবে সুযােগ গ্রহণ করে থাকে। | 

৫। ব্যক্তিগত উৎসাহের অভাবঃ এ কোম্পানির মালিকরা সরাসরি কোম্পানি। পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারে না বলে কাজকর্মের প্রতি ব্যক্তিগত উৎসাহের অভাব পরিলক্ষিত হয়। 

৬। অধিক পরিচালনা ব্যয়ঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির আয়তন বড় হয় বলে এ কোম্পানির পরিচালনা ব্যয় অধিক হয়ে থাকে। 

৭। গােপনীয়তা রক্ষার অসুবিধাঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির ব্যবসা সংক্রান্ত অনেক বিষয় গােপন রাখা সম্ভব হয় না। কোম্পানি আইন মােতাবেক এর অনেক গােপন। তথ্য পরিচালকদের বার্ষিক বিবরণীতে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হয়। 

৮। সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বঃ বিভিন্ন প্রকার আইনগত আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয়। বলে এতে জরুরী সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হয়। 

৯। অত্যধিক করঃ যৌথমূলধনী কোম্পানিকে তার আয়ের উপর অধিক হারে কর। প্রদান করতে হয়।

১০। নমনীয়তার অভাবঃ বৃহদায়তন কোম্পানি বলে এ কোম্পানির পক্ষে পরিবর্তনশীল। চাহিদা ও বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়ে। 

১১। আইনের কঠোরতাঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির প্রতিটি ক্ষেত্রেই আইনের মধ্যে থেকে কার্য সম্পাদন করতে হয় ফলে কোম্পানির স্বতঃস্ফূর্ত কার্যধারা ব্যাহত হয়। 

১২। কেন্দ্রীভূত ক্ষমতাঃ কয়েকজন পরিচালকের হাতে সর্বময় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকার ফলে গণতান্ত্রিক ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার পথ রুদ্ধ হয়।

১৩। সম্পর্কহীনতাঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির মালিক ও কর্মচারী এবং গ্রাহকদের মধ্যে। কোন প্রত্যক্ষ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে না। ফলে প্রায়ই বিবাদ দেখা দেয়। 

১৪। প্রবর্তনে প্রতারণাঃ অনেক সময় অসৎ উদ্যোগ্র কোম্পানি গঠনের নামে সহজ সরল বিনিয়ােগকারীদেরকে প্রতারণা করে থাকে। 

১৫। শ্রেণী-বৈষম্য বৃদ্ধিঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির মাধ্যমে সমাজের অধিকাংশ সম্পদ | একটি বিশেষ শ্রেণীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়। এতে সমাজে শ্রেণী-বৈষম্য বৃদ্ধি পায়।

উপসংহারঃ পরিশেষে বলা যায়, যৌথ মূলধনী কোম্পানির অনেকগুলাে অসুবিধা। রয়েছে। তবে সতর্কতার সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এর অনেকগুলাে অসুবিধাই । দূর করা সম্ভব। তাই সকল দেশে এটি একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি সংগঠন। হিসেবে ইতােমধ্যেই তার স্থান করে নিয়েছে।

অরো জানুনঃ- 

বি.বি.এ অনার্স এর কোম্পানি আইনের সকল প্রশ্নের উত্তর এখানে পাবেন। তাই সকল উত্তর জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url