যৌথমূলধনী কোম্পানির প্রকারভেদ আলােচনা কর Discuss the types joint stock company
১। যৌথমূলধনী কোম্পানি বলতে কি বুঝ?
২। কোম্পানি আইনের ঐতিহাসিক পটভূমির আলোচনা কর।
৩। যৌথমূলধনী কোম্পানির আইনগত বৈশিষ্ট্যসমূহ আলােচনা কর।
৪। যৌথমূলধনী কোম্পানির সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ আলােচনা কর।
৫। যৌথমূলধনী কোম্পানির সুবিধাসমূহ আলােচনা কর।
প্রশ্নঃ যৌথমূলধনী কোম্পানির প্রকারভেদ আলােচনা কর।
(Discuss the types of joint stock company)
উত্তর প্রারম্ভিক কথাঃ ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনে কোম্পানির শ্রেণীবিভাগ সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি। তবে কোম্পানিী জগতে যতই উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে ততই কোম্পানির গতি-প্রকৃতিতেও পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। তারই ফলশ্রুতিতে কোম্পানি নতুন | নতুন রূপ পরিগ্রহ করে বিভিন্ন শ্রেণীবিভাগের সৃষ্টি হয়েছে।
নিম্নে চিত্রের সাহায্যে কোম্পানির শ্রেণীবিভাগ উপস্থাপিত হলােঃ
যৌথমূলধনী কোম্পানির প্রকারভেদ= প্রকার- ১। সনদপ্রাপ্ত কোম্পানি ২। সংবিধিবদ্ধ কোম্পানি। ৩। নিবন্ধিত কোম্পানি ৪। অন্যান্য প্রকার। কোম্পানি=একক ব্যক্তি কোম্পানি | *বিদ্যমান কোম্পানি। । কোম্পানি।
নিবন্ধিত কোম্পানি দুই প্রকারঃ **অসীম দায়সম্পন্ন *সসীম দায়সম্পন্ন কোম্পানি
সসীম দায়সম্পন্ন কোম্পানি আবার দুই প্রকারঃ- * প্রতিশ্রুতি দ্বারা সসীম দায় সম্পন্ন কোম্পানি *শেয়ার মূল্য দ্বারা দায় সীমাবদ্ধ কোম্পানি।
শেয়ার মূল্য দ্বারা দায় সীমাবদ্ধ কোম্পানি আবার তিন প্রকারঃ- * প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি * লাভবিহীন কোম্পানি * পাবলিক লমিটেড কোম্পানি।
সরকারি কোম্পানি || বেসরকারি কোম্পানি || হােল্ডিং কোম্পানি ।। সাবসিডিয়ারি কোম্পানি।
অন্যান্য প্রকার। কোম্পানি = একক ব্যক্তি কোম্পানি *বিদ্যমান কোম্পানি। *বিদেশী কোম্পানি। *বিশেষ কোম্পানি ।
১। সনদপ্রাপ্ত কোম্পানি (Chartered Company) : কোম্পানি আইন প্রবর্তন হওয়ার পূর্বে ইংল্যান্ডের রাজা বা রাণীদের বিশেষ ফরমান নিয়ে যে সব কোম্পানি গঠিত হয়েছিল সেগুলােকে সনদপ্রাপ্ত কোম্পানি বলা হয়।
২। সংবিধিবদ্ধ কোম্পানি (Statutory Company) : দেশের জাতীয় পরিষদে বিশেষ বিল পাস করে অথবা রাষ্ট্রপ্রধানের বিশেষ ক্ষমতা বলে যে সব কোম্পা গড়ে তােলা হয়, তাকে সংবিধিবদ্ধ কোম্পানি বলা হয়।
৩। নিবন্ধিত কোম্পানি (Registered Company): যে সব কোম্পানি। বাংলাদেশে প্রচলিত ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে নিবন্ধিত কোম্পানি বলা হয়। নিবন্ধিত কোম্পানিকে আবার দু’টি শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়।
যথা:
অন্য পোষ্ট- আ দিয়ে ছেলেদের নাম
(ক) অসীম দায়সম্পন্ন কোম্পানি (Unlimited Company)
(খ) সসীম দায়সম্পন্ন কোম্পানি (Limited Company) (ক) অসীম দায়সম্পন্ন কোম্পানি ও যে নিবন্ধিত কোম্পানির শেয়ারহােল্ডারদের দায় অসীম বা সীমাহীন হয় তাকে অসীম দায়সম্পন্ন কোম্পানি বলে। (খ) সসীম দায়সম্পন্ন কোম্পানি ও যে নিবন্ধিত কোম্পানির শেয়ারহােল্ডারদের দায় সীমাবদ্ধ তাকে সসীম দায়সম্পন্ন কোম্পানি বলে।
এরূপ কোম্পানি নিম্নোক্ত দু'ধরনের হতে পারে ?
(i) প্রতিশ্রুতি দ্বারা সসীম দায়সম্পন্ন কোম্পানি (Company Limited by
Gurantee):কোম্পানির স্মারকলিপি ও পরিমেল নিয়মাবলীর শর্ত অনুযায়ী শেয়ার ক্রয়ের সময় শেয়ারহােল্ডারগণ তাদের ক্রয়কৃত শেয়ার মূল্যের হিসাবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ দায় বহনের প্রতিশ্রুতি প্রদান করলে তাকে প্রতিশ্রুতি দ্বারা সসীম দায়সম্পন্ন কোম্পানি বলে।
(ii) শেয়ার মূল্য দ্বারা দায় সীমাবদ্ধ কোম্পানি Company Limited by
Shares): যে কোম্পানির শেয়ারহােল্ডারদের দায় তাদের ক্রীত শেয়ারের আঙ্কিক মূল্য দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে তাকে শেয়ার মূল্য দ্বারা দায় সীমাবদ্ধ কোম্পানি। বলে।
এ ধরনের কোম্পানি আবার নিম্নোক্ত তিন ধরনের হতে পারে ।
(অ) প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি (Private Limited Company): ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ২ (১-ট) ধারায় বলা হয়েছে যে, “প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলতে এমন কোম্পানি বুঝাবে যা তার নিয়মাবলী অনুসারে শেয়ার । হস্তান্তরের অধিকার সীমাবদ্ধ রাখে, কোম্পানির চাকরিতে নিযুক্ত কর্মচারী ব্যতীত এর সদস্য সংখ্যা পঞ্চাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে এবং শেয়ার ও ঋণপত্র ক্রয়ের। জন্য জনসাধারণের প্রতি আহবান নিষিদ্ধ থাকে।”
(আ) লাভবিহীন কোম্পানি (Non-Profit Company): ব্যবসা-বাণিজ্য, ধর্ম, শিক্ষা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান তথা সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে । যে কোম্পানি গঠিত হয় তাকে লাভবিহীন কোম্পানি বলে।
(ই) পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (Public Limited Company) : ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ২ (১) ধারায় বলা হয়েছে যে, “পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলতে এ আইন বা এ আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে বলবৎ কোন আইনের অধীনে নিবন্ধিত এমন কোন কোম্পানিকে বুঝাবে যা প্রাইভেট কোম্পানি নয়।”
মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের ভিত্তিতে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি ও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি উভয়কে নিম্নোক্ত বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়ঃ
(ক) সরকারি কোম্পানি (Government Company): যে সব সসীম দায়সম্পন্ন। কোম্পানির কমপক্ষে ৫১% শেয়ারের মালিকানা সরকারের হাতে থাকে তাকে সরকারি কোম্পানি বলে।
(খ) বেসরকারি কোম্পানি (Non-Government Company): যে সব সসীম। দায়সম্পন্ন কোম্পানির মালিকানা, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের ভার সম্পূর্ণ বা বেশির। ভাগই জনসাধারণের হাতে থাকে তাকে বেসরকারি কোম্পানি বলে।।
(গ) হােল্ডিং কোম্পানি (Holding Company): যে কোম্পানি অন্য এক বা একাধিক কোম্পানির সকল শেয়ার বা অধিকাংশ শেয়ার ক্রয় করে তার পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের অধিকার লাভ করে তাকে হােল্ডিং কোম্পানি বলে।
(ঘ) সাবসিডিয়ারি কোম্পানি (Subsidiary Company): যে কোম্পানির অধিকাংশ শেয়ার মালিকানা, ভােটদান ক্ষমতা, কোম্পানির পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা অন্য কোন কোম্পানির অধীনে থাকে তাকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি বলে। |
৪। অন্যান্য প্রকার কোম্পানি (Other types of company) : উপরােক্ত কোম্পানি ছাড়াও আরাে কয়েক ধরণের কোম্পানির অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায় যেমনঃ-
(ক) একক ব্যক্তি কোম্পানি (One man Company): কোম্পানি আইনের। যাবতীয় নিয়ম-কানুন পালন করে গঠিত ও নিবন্ধিত যে কোম্পানির প্রায় সম্পূর্ণ। শেয়ার একজন ব্যক্তি ক্রয় করে তাকে একক ব্যক্তি কোম্পানি বলে। |
(খ) বিদ্যমান কোম্পানি (Existing Company): ১৯৯৪ সালের কোম্পানি । আইন প্রচলিত হওয়ার পূর্বে বিদ্যমান কোম্পানি আইনের আওতায় কোন কোম্পানি। গঠিত, নিবন্ধিত এবং বর্তমানে প্রচলিত থাকলে তাকে বিদ্যমান কোম্পানি বলে।
(গ) বিদেশী কোম্পানি (Foreign Company): বাংলাদেশের বাইরে গঠিত ও নিবন্ধিত কোন কোম্পানি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্যবসায় স্থাপন করলে বা চালু থাকলে ঐ কোম্পানিকে বিদেশী কোম্পানি বলে।
(ঘ) বিশেষ কোম্পানি (Special Company): যে সকল কোম্পানি দেশের প্রচলিত কোম্পানি আইনের আওতায় নিবন্ধিত হলেও অন্য কোন বিশেষ আইন দ্বারা । পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে বিশেষ কোম্পানি বলে।।
উপসংহারঃ পরিশেষে বলা যায় যে, ক্রমবিবর্তন, যুগের প্রয়ােজন এবং গঠন প্রকৃতি ও দায়ের তারতম্যহেতু যৌথমূলধনী কোম্পানি উপরােক্ত বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে।
BBA অনার্স এর সকল প্রশ্ন আমাদের ওয়েবসাইটে দেখতে বা পড়তে পারবেন। তাই আমারদের সাথেই থাকুন।