কোম্পানির শেয়ার মূলধন বৃদ্ধির পদ্ধতি বর্ণনা কর (কোম্পানি আইন)

অথবা, যৌথ মূলধনী কোম্পানির শেয়ার মূলধন বৃদ্ধির জন্য কি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়?
(Describe the procedures of increase of share capital.)

উত্তরঃ কোম্পানি আইনের ৫৬ ধারায় কোম্পানির শেয়ার মূলধন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিধান প্রদত্ত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে যে, কোম্পানির পরিমেল নিয়মাবলীতে শেয়ার মূলধন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিধান থাকলে কোম্পানির সাধারণ সভায় প্রস্তাব গ্রহণ করে কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধি করা যায় । কোম্পানির শেয়ার মূলধন বৃদ্ধির পদ্ধতি নিম্নে বর্ণিত হলো : 

১। শেয়ার মূলধন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রস্তাব গ্রহণের ১৫ দিনের মধ্যে কোম্পানিসমূহের নিবন্ধকের নিকট বিজ্ঞপ্তি প্রদান করতে হবে। নিবন্ধক এরূপ বিজ্ঞপ্তি প্রাপ্তির পর একটি নিবন্ধন বহিতে লিপিবদ্ধ করবে ।উপরিউক্ত বিজ্ঞপ্তিতে বর্ধিত শেয়ারসমূহের শ্রেণীবিভাগ বর্ণনা করতে হবে এবং নতুন শেয়ার বিলি করার শর্তাদি যদি থাকে তাও উল্লেখ করতে হবে। 

২। কোন কোম্পানি এ ধারার বিধান পালনে ব্যর্থ হলে উক্ত ব্যর্থতা যত দিন চলতে থাকবে ততদিন প্রত্যেক দিনের জন্য উক্ত কোম্পানি অনধিক দু'শত টাকা অর্থদন্ডে দণ্ডনীয় হবে এবং কোম্পানির প্রত্যেক কর্মকর্তা যিনি জ্ঞাতসারে ও ইচ্ছাকৃতভাবে উক্ত ত্রুটি অনুমোদন করেন বা তা অব্যাহত রাখেন বা রাখতে দেন তিনিও একইরূপ দন্ডে দন্ডনীয় হবেন। [৫৬ (৩) ধারা] 

৩। অত্র আইনের বর্ধিত শেয়ার মূলধন বন্টন করার পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান প্রদত্ত . হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে যে, কোম্পানির প্রত্যেক শেয়ারমালিককে বর্তমান শেয়ারের আনুপাতিক হারে শেয়ার ক্রয়ের প্রস্তাব দিতে হবে। পূর্ববর্তী শেয়ার মালিকগণ উক্ত শেয়ার ক্রয় করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে এবং অস্বীকৃতি সূচক মতামত প্রাপ্তির পর পরিচালক পর্ষদ উক্ত শেয়ার অধিকতর লাভজনক উপায়ে বন্টন করতে হবে। 

৪। শেয়ার মূলধন বৃদ্ধির ফলে যে মূলধন বৃদ্ধি পেল তাকে বিভিন্ন শ্রেণীর শেয়ারে বিভক্ত করা যেতে পারে। কিন্তু এরূপ শ্রেণীবিন্যাস স্মারকলিপির পরিপন্থী হলে প্রথমে স্মারকলিপিতে সংশোধন আনয়ন করতে হবে এবং অতঃপর শেয়ার মূলধনের শ্রেণীবিন্যাস করা যাবে।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url